সারাদেশে শিশুদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে পড়েছে। হামে আক্রান্ত হয়ে শত শত শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, আবার মারাও যাচ্ছেন। গতকাল পর্যন্ত ৪১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের হাম আক্রান্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
হাসপাতালগুলোতে ছোঁয়াছে এ রোগের চিকিৎসায় আলাদা ওয়ার্ড বা কর্নার চালু করা হয়েছে। তবে শিশুদের আইসিইউ সংকটের কারণে শিশুরা বেশি মারা যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। চলতি বছরের শুরুতে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে প্রথম শিশু হামে আক্রান্ত হয়। এরপর আস্তে আস্তে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। হামে আক্রান্ত নিয়ে দেশজুড়ে শিশু পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকষ্ঠা বিরাজ করছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ১০ জানুয়ারি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। ওই সময় রাজধানীর বস্তি এলাকায় হামের রোগী বৃদ্ধি পেতে থাকে। এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
আমাদের কুমিল্লা রির্পোটার জানান, হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুদের ‘গাদাগাদি’ অবস্থায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এরই মধ্যে কুমিল্লায় আক্রান্ত তিন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। যদিও তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি।
জেলা সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশির গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লা হাসপাতালে ২১ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। শিশুদের পাশাপাশি বয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে তথ্য আসছে। আমরা সেগুলো সংগ্রহ করছি এবং তাদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাম আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালটিতে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের অভিভাবকদের চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ।
শিশু ওয়ার্ডের বিভাগীয়প্রধান মিয়া মনজুর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, যারা হাম আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে তাদের বিশেষায়িতভাবে সেবা দেয়ার জন্য আলাদা একটি ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে। গত ১৮ মার্চ থেকে এখনও পর্যন্ত এ হাসপাতালে ২৫ শিশু হাম আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে।
তাদের মধ্যে ৮ জনকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। দুইজনকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। বাকি ১৫ জন চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুর মা তামান্না আক্তার বলেন, ‘মেঝেতে চাটাই বিছিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছি। শিশুর নিউমোনিয়া নিয়ে এসেছি, এখন গায়ে রেশ আর গুঁটি দেখে এই ওয়ার্ডে দেয়া হয়েছে।’
ব্রাহ্মণপাড়া থেকে আসা শিশুর মা আসমা ফেরদৌস বলেন, ‘একসঙ্গে এতজন এক রুমে থাকলে তো সমস্যা আরও বাড়বে। এক রুমে এখন আছি ৮/১০ জন; সঙ্গে আত্মীয়-স্বজন আছে আরও ৮/১০ জন। সবমিলিয়ে গাদাগাদি অবস্থা।’
সদর দক্ষিণ থেকে আসা আক্রান্ত শিশুর বাবা সজিবুল ইসলাম জানান, ‘একজন থেকে আরেকজনে যেন সংক্রমিত না হয় তাই বড় জায়গা দরকার। আরও আলো-বাতাস দরকার। আরও রোগী বাড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাবে।’
রোগী বাড়লে সমস্যা বাড়বে জানিয়ে হাসপাতালের পরিচালক মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘হাসপাতালে ৫২টি শয্যার বিপরীতে শিশু রোগীর সংখ্যা ১৭৯ জন। তার ওপর হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী আসছে। আমরা বাড়তি রোগীর বেড দেবো কীভাবে? তাই তাদের মেঝেতে কষ্ট করে থাকতে হচ্ছে। রোগী বাড়লে আরও সমস্যা হবে।’
‘অন্তর্র্বতী সরকারের টিকা সরবরাহে ব্যর্থতার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব’:
আমাদের রাজশাহী জেলা বার্তা পরিবেশক জানান, বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের সময়মতো টিকা সরবরাহে ব্যর্থতার কারণে দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। গতকাল দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৪ জানুয়ারি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম হাম শনাক্ত হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানা থাকলেও ভ্যাকসিন সংগ্রহে জটিলতার কারণে সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়নি। এর ফলে সংক্রমণ বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সঠিক প্রক্রিয়ায় ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হলেও পরে অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনও কার্যক্রম ব্যাহত করেছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ৯ ও ১৫ মাস বয়সে শিশুদের টিকা দেয়া হলেও চার মাস বয়সী শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে। তাই নির্ধারিত সময়ের আগেই সংক্রমণের কারণ খতিয়ে দেখা এবং নতুন গবেষণার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। প্রাথমিকপর্যায়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ করলে সংক্রমণ দ্রুত কমানো সম্ভব হবে।
রামেক হাসপাতালের পরিস্থিতি তুলে ধরে ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালটিতে প্রায় ১,২০০ শয্যা থাকলেও বর্তমানে প্রায় ২,৯০০ রোগী চিকিৎসাধীন, যা স্বাস্থ্যসেবায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। শিশুদের জন্য নির্ধারিত আইসিইউতে সীমিত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব, সেখানে বর্তমানে ১২ জন শিশু ভর্তি রয়েছেন।
প্রাথমিকপর্যায়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ করলে আইসিইউর ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে। ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, শিশুদের সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যারা হাসপাতালে কাজ শুরু করেছেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর হামের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
গোপালগঞ্জে শিশুর মৃত্যু:
আমাদের গোপালগঞ্জ রিপোর্টার জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ মাসের শিশুকন্যা তুবা ইসলাম তোহার মৃত্যু নিয়ে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন একটি কমিটি গঠন করেছেন । গতকাল মুকসুদপুরের কর্মরত চিকিৎসকদের সমন্বয়ে তিনি এ টিম গঠন করেছেন। সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক এ তথ্য জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, কমিটির সদস্যরা মঙ্গলবার (গতকাল) ওই এলাকায় যাবে, এ ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করবে। এছাড়া সাসপেক্ট কেস থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে। আমার সম্মেলন কক্ষে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার সব সরকারি হাসপতালের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সমন্বয়ে সভা করেছি । এ সভায় জেলার সব হাসপাতালে নীবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এছাড়া চিকিৎসকদের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের জ্বরে আক্রান্তদের পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন বলেন, গোপালগঞ্জের কোনো হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগী ভর্তি নেই। জ্বর নিয়ে কিছু শিশু ভর্তি আছে। তাদের মধ্যে হামের কোনো উপসর্গ নেই। গোপালগঞ্জের হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এখানে হামসহ সব ধরনের রোগের ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামের তুহিন শেখের তৃতীয় সন্তান ১০ মাসের ফুটফুটে হাসিখুশি তুবা ইসলাম তোহা গত ২৭ মার্চ হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকায় মারা যায় । তোহার মা নাজমা বেগম বলেন, হঠাৎ গত ১৯ মার্চ তার তুবার জ্বরে আক্রান্ত হয়।
পরদিন জ্বরের সঙ্গে হালকা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তাকে মুকসুদপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাই। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সুমন সাহা তাকে চিকিৎসা দেন। কিন্তু তাতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। গত ২৪ মার্চ আমার দিনমজুর স্বামী তুহিন শেখ মেয়েকে স্থানীয় সেবা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. কামাল হোসেনের কাছে নিয়ে যান। তিনিও বিভিন্ন প্রকার ওষুধ লেখে ব্যবস্থাপত্র দেন। কিন্তু তাতেও কোনো ফল আসেনি। বরং শিশুটির জ্বর, শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে সারা শরীরের হাম দেখা দেয়। নাজমা বলেন, ২৬ মার্চ (গত) সকাল ৯টার দিকে প্রচ- অসুস্থ অবস্থায় আবার তাকে মুকসুদপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নিয়ে যাই। ডা. মিজানুর রহমান মেয়ের অবস্থা খারাপ দেখে তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেন। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেন এবং কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান । পরে ওই রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে রেফার করেন।
শিশুটির মা নাজমা বেগম আরও বলেন, আমরা সরকারি হাসপাতালের সেবায় অসন্তুষ্ট ছিলাম। এ কারণে মেয়েকে এক আত্নীয়ের মাধ্যমে ঢাকার মালিবাগে বিএনকে লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করি। ওখানকার চিকিৎসক আমার বাচ্চাকে আইসিইউ সাপোর্ট ও চিকিৎসা দেন। তখন কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। কিন্তু গত ২৭ মার্চ দুপুর ১২টায় আমার কোলের মধ্যে আমার আদরের ধন নিস্তেজ হয়ে হা-পা ছেড়ে দেয়। তখন আমি চিৎকার দিলে ওখানকার চিকিৎসকরা নানাভাবে চেষ্টা করেন। কিন্তু সব চেষ্টা বিফলে যায়।
ওই শিশুর পিতা তুহিন শেখ বলেন, আমি আমার শিশু সন্তানকে নিয়ে মুকসুদপুর হাসপাতাল, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও ঢাকায় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়েছি। কিন্তু কোনো চিকিৎসায়ই কাজ হলো না। আমার সোনার টুকরা আমাদের ছেড়ে চলে গেলো।
গত শুক্রবার স্থানীয় মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানে আমার তোহার দাফন হয়। গত বোরবার বাদ আসর ওর জন্য মিলাদ ও দোয়া হয়েছে। আল্লাহ যেন ওকে জান্নাতবাসী করেন। টেংরাখোলা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য সহকারী খোরশেদা মল্লিক ডলি বলেন, জন্মের পর থেকে শিশুটিকে রুটিন মাফিক টিকা দেয়া হয়। গত ২৫ মার্চ শিশুটিকে হামের টিকা দেয়ার জন্য আমি তুহিন শেখের বাড়িতে যাই। তখন তুহিন শেখের স্ত্রী নাজমা বেগম জানান তার বাচ্চা অসুস্থ। তাই আমি হামের টিকা না দিয়ে বলে আসি ২৫ এপ্রিল আবার টিকা দিতে আসবো। পরে জানতে পারি শিশুটি মারা গেছে। মুকসুদপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন বলেন, স্বজনরা শিশুটিকে জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতলের জরুরি বিভাগে ২০ ও ২৬ মার্চ চিকিৎসা নিতে আনেন। ২৬ মার্চ শিশুটির অবস্থা সংকটপন্ন হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়। শুনেছি সেখান থেকে ঢাকা পাঠানো হয় এবং পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ডিজি অফিস থেকে শিশুটির মৃত্যুর তথ্য চাওয়া হয়েছে। আমরা যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে পাঠিয়েছি। ডিজি অফিস পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে আমাদের অবহিত করলে সেই মোতাবেক পদক্ষেপ নেব। তবে গত ৩ বছরের আমরা এখানে হামের কোনো পজিটিভ রোগী পায়নি। হাম ছোঁয়াচে রোগ হলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে আমি মনে করি শিশুটির মৃত্যুর কারণটা আমাদের জন্য জানা খুবই প্রয়োজন। সেজন্য সিভিল সার্জন কমিটি করে দিয়েছে। আজ থেকে কমিটি কাজ শুরু করবে।
ময়মনসিংহ মেডিকেলে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু
আমাদের ময়মনসিংহ রিপোর্টার জানান, হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। এছাড়া এ রোগ নিয়ন্ত্রণে জেলার ১৩ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয় শিশু ভর্তি হয়েছে; এছাড়া বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে ৬৮ শিশু।
গতকাল দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মুহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বায়ুবাহিত এ রোগে আক্রান্তদের জন্য নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১৭ মার্চ সকাল থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১০৮ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়। এরমধ্যে পাঁচ শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ৬৮ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামল দিতে গত ২৪ মার্চ হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য তিনটি আলাদা মেডিকেল দল গঠন করে হাসপাতাল প্রশাসন। এছাড়া শিশু ওয়ার্ডে তিনটি আলাদা কক্ষে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
‘হাম/মিসেলস কর্নার’ নামে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কক্ষগুলোতে একটি মেডিকেল দলের তত্ত্বাবধানে হামের চিকিৎসা চলছে। এছাড়া এদিন সকালে হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮ তলায় আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়।
হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডের ফোকাল পার্সন সহযোগী অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলেন, ‘পরিস্থিতি সামলাতে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপনের কাজ চলছে। সেখানে অক্সিজেন সরবরাহ, নার্স স্টেশন, চিকিৎসকদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
‘যে শিশুদের অক্সিজেন লাগছে, তারা পর্যাপ্ত পাছে। তবে আইসিইউ লাগবে এমন পরিস্থিতির কোনো রোগী এখন পর্যন্ত আমাদের এখানে ভর্তি হয়নি।’
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাইনউদ্দিন খান বলেন, ‘হামের প্রাদুর্ভাব সারাদেশে বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ময়মনসিংহ বিভাগীয় এলাকাতেও বেড়ে গেছে। যেহেতু রোগী সংখ্যা বেড়ে গেছে, শিশু ওয়ার্ডে জায়গা হচেছ না। সেজন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।’
ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ফয়সল আহমেদ বলেন, হামে আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ১৩ উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালট্যান্টকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকবেন।
আমাদের নওগাঁ জেলা বার্তা পরিবেশক জানান, নওগাঁ জেলা থেকে মোট ৩৮টি নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে হাম-রুবেলা রোগ শনাক্তের জন্য। এরমধ্যে ৩০টির ফলাফল এসেছে; পাঁচজন হাম এবং একজন রুবেলায় আক্রান্ত হিসাবে শনাক্ত হয়েছেন। বাকি আটটি পরীক্ষার ফলাফল এখনও আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বয়স ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে এবং তারা নওগাঁ সদর, পোরশা, নিয়ামতপুর, সাপাহার, আত্রাই ও মান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হামের কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টি ভাইরাল চিকিৎসা নেই; তাই উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা যেমন- জ্বর নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত পানি, পুষ্টিকর খাবার এবং ভিটামিন ‘এ’ প্রদান গুরুত্বপূর্ণ। জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, অনেক সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন সুবিধার অভাব রয়েছে, যা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। অভিভাবকরা চিকিৎসা সেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নওগাঁ সদর হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ; উপযুক্ত টিকাদান না হলে শিশুরা ঝুঁকিতে থাকে।
সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নওগাঁ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। আক্রান্তদের আশপাশের ৪০টি বাড়ির শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ দেয়া হচ্ছে, এবং অন্য উপজেলাগুলোতে বিশেষ নজরদারি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
আগামী মে মাসে সারাদেশে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিশুদের এমআর টিকার বুস্টার ডোজ দেয়া হবে। বিশেষজ্ঞরা দ্রুত পৃথক চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার, পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন, অন্যথায় সংক্রমণ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলাকা ভিত্তিক যেসব শিশুর জ্বর ও শরীরে র্যাশ উঠছে। তাদের দ্রুত অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। কারণ হাম সংক্রমণ রোগ। আক্রান্ত শিশুর মাধ্যমে সহজেই অন্যরা আক্রান্ত হতে পারে। তাই শিশুদের দেরি না করে নিকটস্থ চিকিৎসকের কাছে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুদের জন্য পৃথক অক্সিজেন সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, শিশুদের হাম ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। হাম নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরীক্ষা করা। আর যাদের জ্বর, র্যাশ উঠে, নাকে ইনফেকশন ও চোখ উঠে। হাম ছোয়াছে রোগ। এজন্য তাকে আলাদা করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। আর শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ার তিনি পরামর্শ দিয়েছে। শিশু হাসপাতালে আলাদা কর্নার চালু করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী: হামের টিকা আসার সঙ্গে সঙ্গে দেয়ার ব্যবস্থা হবে। দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার হামসহ ছয়টি রোগের টিকা সংগ্রহে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন, ‘টিকা কবে নাগাদ আসবে ইট ইজ নট ইন মাই হ্যান্ড। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের টিকা আসবে। টিকা আসার সঙ্গে সঙ্গে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করবো।’
‘আমাদের জনগণকে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের সব চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং এই মিজেলসের আক্রমণের ভেতরে আমরা যে র্যাপিডলি ভেন্টিলেটর এবং আইসিইউ ইউনিট এবং ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করেছি, অতীতে কোনো দিন হয়নি। উই উইল কন্টিনিউ আওয়ার এফোর্ট। ইনশাআল্লাহ্ আমরা করে যাব।’
এদিন দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামের রোগী শনাক্ত হয়। ১০ জানুয়ারি ক্যাম্প এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। ওই সময় রাজধানীর বস্তি এলাকায় হামের রোগী বৃদ্ধি পেতে থাকে। গত শুক্রবার রাজধানীর মহাখালীতে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় শয্যার চেয়ে রোগী বেশি। তাদের বড় অংশই হামের রোগী। ভাইরাসজনিত এ রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ কয়েক জেলায় শিশুদের মৃত্যর খবরও এসেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী গত রোববার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, ‘মিজেলসের (হাম) রোগী অনেক বেড়েছে। আট বছর আগে মিজেলসের ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। এরপর ভ্যাকসিন কোনো গভার্নমেন্ট দেয় নাই।’
গতকালের ব্রিফিংয়ে গত রোববারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘আপনারা ভালো করে শুনুন, মিজেলস প্রতিরোধে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্যাম্পেইন হয়। লাস্ট নাইট আমি কয়েকজন হেলথ ইন্সপেক্টরের সঙ্গে কথা বলেছি, যারা ভ্যাকসিন দিচ্ছেন। দ্য থিং ইজ ২০১৮ সালে একটা ক্যাম্পেইন (প্রচারাভিযান) হয়েছিল। এই ক্যাম্পেইনটা আফটার ইচ ফোর ইয়ারস হয়।’
‘কার জন্য হয়? যেই বেবিগুলোকে ধরেন ২০১৮ তে দেয়ার পরেও যারা লেফট আউট রয়ে গিয়েছে বা যে বেবিগুলো পলায় গেছে ভয়ে দেয় নাই এই একটা শ্রেণী আছে। আরেকটা শ্রেণী হলো যারা এরপরে নিউবর্ন। এদের তো টিকা দিতে হবে। ২০১৮ এর পরে আর কোনো ক্যাম্পেইন হয় নাই, এইট ইয়ার্স।’
সাংবাদিকদের প্রশ্ন করে মন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাভ বিন এবল টু রিভিউ দ্য ডিটেইলস? বুঝতে পারছেন আপনারা নাকি ভাই?’ যে শিশুরা হামের টিকার আওতায় আসেনি তারাই বর্তমানে বেশিসংখ্যক আক্রান্ত হচ্ছে বলে তুলে ধরেন মন্ত্রী।
এদিকে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলছে, দেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও ৪ লাখের মতো শিশু ঠিকমতো সব টিকা পায়নি এবং ৭০ হাজার (১ দশমিক ৫ শতাংশ) শিশু একেবারেই টিকা পায়নি।
শহর-অঞ্চলগুলোতে টিকা না পাওয়ার হার বেশি, মাত্র ৭৯ শতাংশ পুরোপুরি টিকা পেয়েছে। ২ দশমিক ৪ শতাংশ এক ডোজ টিকাও পায়নি এবং ৯ দশমিক ৮ শতাংশ টিকার সব ডোজ ঠিকমতোন পায়নি; সেই তুলনায় গ্রামাঞ্চলগুলোতে ৮৫ শতাংশ শিশু টিকার সব ডোজ পেয়েছে
২ কোটি শিশুকে টিকা দেয়া হবে। দেশে ২ কোটি শিশুকে হামের টিকা দেয়া হবে। টিকাদানের সিরিঞ্জ পাওয়া গেলে আগামী মে, জুন ও জুলাই মাসে এ টিকা দেয়া হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে এ টিকা আনা হবে। মহাখালী ইপিআই টিকা কর্মসূচির উপ-পরিচালক ডা. মো. শাহারিয়ার সাজ্জাত সংবাদকে মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ২০২০ সালে টিকা দেয়া দিয়ে ক্যাম্পেইন হয়েছিল। ২০২৪ সালে টিকা নিয়ে ক্যাম্পিং হওয়ার কথা ছিল কিন্তু নানা কারণে হয়নি। চলতি বছর কাম্পিং হচ্ছে। আবুধাবি, দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে টিকা আমদানি করা হয়।
বর্তমানে মহাখালী ইপিআই সেণ্টারে টিকা নেই। তবে জেলাগুলোতে কিছু টিকা আছে। বছরে প্রায় ৪২ লাখ শিশুকে টিকা দেয়া হয়। এরমধ্যে ৯ মাস পূর্ণ হলে এমআর-১ টিকা দেয়া হয়। আর ১৫ মাস পূর্ণ হলে এমআর-২ টিকা দেয়া হয়। টিকা দেয়া চলমান আছে। সাধারণত ৯টি টিকা হামসহ ১২টি রোগের জন্য দেয়া দেয়া হয়।
বছরে জন্ম নেয়া আগের হিসাব মতে, প্রায় ৪২ লাখ শিশু। তবে বর্তমানে লজিস্টিক সমস্যাসহ নানা সমস্যা রয়েছে। সামনে টিকার আরও সংকট দেখা দিতে পারে বলে এ কর্মকর্তা মন্তব্য করেন।
টিকা আমদানির জন্য প্রায় এক হাজার ৪শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। রাজধানীসহ বিভাগীয় ও জেলা, উপজেলা শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত টিকা দান কর্মসূচির আওতায় এই টিকা দেয়া হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করে বলেন, টিকা দেয়ার পরেও অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। কারণ সংক্রামক এ ভাইরাসজনিত রোগটি আক্রান্ত শিশুর জীবনকে জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলেছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। টিকার জন্য ২ কোটি সিরিঞ্জও দরকার। সবকিছু ঠিক থাকলে টিকা দানের বিশেষ কর্র্মসূচি শুরু করা হবে বলে মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬
সারাদেশে শিশুদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে পড়েছে। হামে আক্রান্ত হয়ে শত শত শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, আবার মারাও যাচ্ছেন। গতকাল পর্যন্ত ৪১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের হাম আক্রান্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
হাসপাতালগুলোতে ছোঁয়াছে এ রোগের চিকিৎসায় আলাদা ওয়ার্ড বা কর্নার চালু করা হয়েছে। তবে শিশুদের আইসিইউ সংকটের কারণে শিশুরা বেশি মারা যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। চলতি বছরের শুরুতে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে প্রথম শিশু হামে আক্রান্ত হয়। এরপর আস্তে আস্তে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। হামে আক্রান্ত নিয়ে দেশজুড়ে শিশু পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকষ্ঠা বিরাজ করছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ১০ জানুয়ারি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। ওই সময় রাজধানীর বস্তি এলাকায় হামের রোগী বৃদ্ধি পেতে থাকে। এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
আমাদের কুমিল্লা রির্পোটার জানান, হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুদের ‘গাদাগাদি’ অবস্থায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এরই মধ্যে কুমিল্লায় আক্রান্ত তিন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। যদিও তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি।
জেলা সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশির গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লা হাসপাতালে ২১ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। শিশুদের পাশাপাশি বয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে তথ্য আসছে। আমরা সেগুলো সংগ্রহ করছি এবং তাদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাম আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালটিতে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের অভিভাবকদের চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ।
শিশু ওয়ার্ডের বিভাগীয়প্রধান মিয়া মনজুর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, যারা হাম আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে তাদের বিশেষায়িতভাবে সেবা দেয়ার জন্য আলাদা একটি ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে। গত ১৮ মার্চ থেকে এখনও পর্যন্ত এ হাসপাতালে ২৫ শিশু হাম আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে।
তাদের মধ্যে ৮ জনকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। দুইজনকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। বাকি ১৫ জন চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুর মা তামান্না আক্তার বলেন, ‘মেঝেতে চাটাই বিছিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছি। শিশুর নিউমোনিয়া নিয়ে এসেছি, এখন গায়ে রেশ আর গুঁটি দেখে এই ওয়ার্ডে দেয়া হয়েছে।’
ব্রাহ্মণপাড়া থেকে আসা শিশুর মা আসমা ফেরদৌস বলেন, ‘একসঙ্গে এতজন এক রুমে থাকলে তো সমস্যা আরও বাড়বে। এক রুমে এখন আছি ৮/১০ জন; সঙ্গে আত্মীয়-স্বজন আছে আরও ৮/১০ জন। সবমিলিয়ে গাদাগাদি অবস্থা।’
সদর দক্ষিণ থেকে আসা আক্রান্ত শিশুর বাবা সজিবুল ইসলাম জানান, ‘একজন থেকে আরেকজনে যেন সংক্রমিত না হয় তাই বড় জায়গা দরকার। আরও আলো-বাতাস দরকার। আরও রোগী বাড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাবে।’
রোগী বাড়লে সমস্যা বাড়বে জানিয়ে হাসপাতালের পরিচালক মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘হাসপাতালে ৫২টি শয্যার বিপরীতে শিশু রোগীর সংখ্যা ১৭৯ জন। তার ওপর হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী আসছে। আমরা বাড়তি রোগীর বেড দেবো কীভাবে? তাই তাদের মেঝেতে কষ্ট করে থাকতে হচ্ছে। রোগী বাড়লে আরও সমস্যা হবে।’
‘অন্তর্র্বতী সরকারের টিকা সরবরাহে ব্যর্থতার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব’:
আমাদের রাজশাহী জেলা বার্তা পরিবেশক জানান, বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের সময়মতো টিকা সরবরাহে ব্যর্থতার কারণে দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। গতকাল দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৪ জানুয়ারি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম হাম শনাক্ত হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানা থাকলেও ভ্যাকসিন সংগ্রহে জটিলতার কারণে সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়নি। এর ফলে সংক্রমণ বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সঠিক প্রক্রিয়ায় ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হলেও পরে অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনও কার্যক্রম ব্যাহত করেছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ৯ ও ১৫ মাস বয়সে শিশুদের টিকা দেয়া হলেও চার মাস বয়সী শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে। তাই নির্ধারিত সময়ের আগেই সংক্রমণের কারণ খতিয়ে দেখা এবং নতুন গবেষণার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। প্রাথমিকপর্যায়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ করলে সংক্রমণ দ্রুত কমানো সম্ভব হবে।
রামেক হাসপাতালের পরিস্থিতি তুলে ধরে ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালটিতে প্রায় ১,২০০ শয্যা থাকলেও বর্তমানে প্রায় ২,৯০০ রোগী চিকিৎসাধীন, যা স্বাস্থ্যসেবায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। শিশুদের জন্য নির্ধারিত আইসিইউতে সীমিত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব, সেখানে বর্তমানে ১২ জন শিশু ভর্তি রয়েছেন।
প্রাথমিকপর্যায়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ করলে আইসিইউর ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে। ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, শিশুদের সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যারা হাসপাতালে কাজ শুরু করেছেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর হামের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
গোপালগঞ্জে শিশুর মৃত্যু:
আমাদের গোপালগঞ্জ রিপোর্টার জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ মাসের শিশুকন্যা তুবা ইসলাম তোহার মৃত্যু নিয়ে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন একটি কমিটি গঠন করেছেন । গতকাল মুকসুদপুরের কর্মরত চিকিৎসকদের সমন্বয়ে তিনি এ টিম গঠন করেছেন। সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক এ তথ্য জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, কমিটির সদস্যরা মঙ্গলবার (গতকাল) ওই এলাকায় যাবে, এ ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করবে। এছাড়া সাসপেক্ট কেস থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে। আমার সম্মেলন কক্ষে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার সব সরকারি হাসপতালের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সমন্বয়ে সভা করেছি । এ সভায় জেলার সব হাসপাতালে নীবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এছাড়া চিকিৎসকদের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের জ্বরে আক্রান্তদের পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন বলেন, গোপালগঞ্জের কোনো হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগী ভর্তি নেই। জ্বর নিয়ে কিছু শিশু ভর্তি আছে। তাদের মধ্যে হামের কোনো উপসর্গ নেই। গোপালগঞ্জের হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এখানে হামসহ সব ধরনের রোগের ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামের তুহিন শেখের তৃতীয় সন্তান ১০ মাসের ফুটফুটে হাসিখুশি তুবা ইসলাম তোহা গত ২৭ মার্চ হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকায় মারা যায় । তোহার মা নাজমা বেগম বলেন, হঠাৎ গত ১৯ মার্চ তার তুবার জ্বরে আক্রান্ত হয়।
পরদিন জ্বরের সঙ্গে হালকা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তাকে মুকসুদপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাই। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সুমন সাহা তাকে চিকিৎসা দেন। কিন্তু তাতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। গত ২৪ মার্চ আমার দিনমজুর স্বামী তুহিন শেখ মেয়েকে স্থানীয় সেবা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. কামাল হোসেনের কাছে নিয়ে যান। তিনিও বিভিন্ন প্রকার ওষুধ লেখে ব্যবস্থাপত্র দেন। কিন্তু তাতেও কোনো ফল আসেনি। বরং শিশুটির জ্বর, শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে সারা শরীরের হাম দেখা দেয়। নাজমা বলেন, ২৬ মার্চ (গত) সকাল ৯টার দিকে প্রচ- অসুস্থ অবস্থায় আবার তাকে মুকসুদপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নিয়ে যাই। ডা. মিজানুর রহমান মেয়ের অবস্থা খারাপ দেখে তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেন। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেন এবং কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান । পরে ওই রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে রেফার করেন।
শিশুটির মা নাজমা বেগম আরও বলেন, আমরা সরকারি হাসপাতালের সেবায় অসন্তুষ্ট ছিলাম। এ কারণে মেয়েকে এক আত্নীয়ের মাধ্যমে ঢাকার মালিবাগে বিএনকে লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করি। ওখানকার চিকিৎসক আমার বাচ্চাকে আইসিইউ সাপোর্ট ও চিকিৎসা দেন। তখন কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। কিন্তু গত ২৭ মার্চ দুপুর ১২টায় আমার কোলের মধ্যে আমার আদরের ধন নিস্তেজ হয়ে হা-পা ছেড়ে দেয়। তখন আমি চিৎকার দিলে ওখানকার চিকিৎসকরা নানাভাবে চেষ্টা করেন। কিন্তু সব চেষ্টা বিফলে যায়।
ওই শিশুর পিতা তুহিন শেখ বলেন, আমি আমার শিশু সন্তানকে নিয়ে মুকসুদপুর হাসপাতাল, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও ঢাকায় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়েছি। কিন্তু কোনো চিকিৎসায়ই কাজ হলো না। আমার সোনার টুকরা আমাদের ছেড়ে চলে গেলো।
গত শুক্রবার স্থানীয় মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানে আমার তোহার দাফন হয়। গত বোরবার বাদ আসর ওর জন্য মিলাদ ও দোয়া হয়েছে। আল্লাহ যেন ওকে জান্নাতবাসী করেন। টেংরাখোলা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য সহকারী খোরশেদা মল্লিক ডলি বলেন, জন্মের পর থেকে শিশুটিকে রুটিন মাফিক টিকা দেয়া হয়। গত ২৫ মার্চ শিশুটিকে হামের টিকা দেয়ার জন্য আমি তুহিন শেখের বাড়িতে যাই। তখন তুহিন শেখের স্ত্রী নাজমা বেগম জানান তার বাচ্চা অসুস্থ। তাই আমি হামের টিকা না দিয়ে বলে আসি ২৫ এপ্রিল আবার টিকা দিতে আসবো। পরে জানতে পারি শিশুটি মারা গেছে। মুকসুদপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন বলেন, স্বজনরা শিশুটিকে জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতলের জরুরি বিভাগে ২০ ও ২৬ মার্চ চিকিৎসা নিতে আনেন। ২৬ মার্চ শিশুটির অবস্থা সংকটপন্ন হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়। শুনেছি সেখান থেকে ঢাকা পাঠানো হয় এবং পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ডিজি অফিস থেকে শিশুটির মৃত্যুর তথ্য চাওয়া হয়েছে। আমরা যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে পাঠিয়েছি। ডিজি অফিস পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে আমাদের অবহিত করলে সেই মোতাবেক পদক্ষেপ নেব। তবে গত ৩ বছরের আমরা এখানে হামের কোনো পজিটিভ রোগী পায়নি। হাম ছোঁয়াচে রোগ হলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে আমি মনে করি শিশুটির মৃত্যুর কারণটা আমাদের জন্য জানা খুবই প্রয়োজন। সেজন্য সিভিল সার্জন কমিটি করে দিয়েছে। আজ থেকে কমিটি কাজ শুরু করবে।
ময়মনসিংহ মেডিকেলে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু
আমাদের ময়মনসিংহ রিপোর্টার জানান, হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। এছাড়া এ রোগ নিয়ন্ত্রণে জেলার ১৩ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয় শিশু ভর্তি হয়েছে; এছাড়া বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে ৬৮ শিশু।
গতকাল দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মুহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বায়ুবাহিত এ রোগে আক্রান্তদের জন্য নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১৭ মার্চ সকাল থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১০৮ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়। এরমধ্যে পাঁচ শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ৬৮ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামল দিতে গত ২৪ মার্চ হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য তিনটি আলাদা মেডিকেল দল গঠন করে হাসপাতাল প্রশাসন। এছাড়া শিশু ওয়ার্ডে তিনটি আলাদা কক্ষে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
‘হাম/মিসেলস কর্নার’ নামে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কক্ষগুলোতে একটি মেডিকেল দলের তত্ত্বাবধানে হামের চিকিৎসা চলছে। এছাড়া এদিন সকালে হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮ তলায় আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়।
হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডের ফোকাল পার্সন সহযোগী অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলেন, ‘পরিস্থিতি সামলাতে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপনের কাজ চলছে। সেখানে অক্সিজেন সরবরাহ, নার্স স্টেশন, চিকিৎসকদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
‘যে শিশুদের অক্সিজেন লাগছে, তারা পর্যাপ্ত পাছে। তবে আইসিইউ লাগবে এমন পরিস্থিতির কোনো রোগী এখন পর্যন্ত আমাদের এখানে ভর্তি হয়নি।’
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাইনউদ্দিন খান বলেন, ‘হামের প্রাদুর্ভাব সারাদেশে বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ময়মনসিংহ বিভাগীয় এলাকাতেও বেড়ে গেছে। যেহেতু রোগী সংখ্যা বেড়ে গেছে, শিশু ওয়ার্ডে জায়গা হচেছ না। সেজন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।’
ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ফয়সল আহমেদ বলেন, হামে আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ১৩ উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালট্যান্টকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকবেন।
আমাদের নওগাঁ জেলা বার্তা পরিবেশক জানান, নওগাঁ জেলা থেকে মোট ৩৮টি নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে হাম-রুবেলা রোগ শনাক্তের জন্য। এরমধ্যে ৩০টির ফলাফল এসেছে; পাঁচজন হাম এবং একজন রুবেলায় আক্রান্ত হিসাবে শনাক্ত হয়েছেন। বাকি আটটি পরীক্ষার ফলাফল এখনও আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বয়স ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে এবং তারা নওগাঁ সদর, পোরশা, নিয়ামতপুর, সাপাহার, আত্রাই ও মান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হামের কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টি ভাইরাল চিকিৎসা নেই; তাই উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা যেমন- জ্বর নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত পানি, পুষ্টিকর খাবার এবং ভিটামিন ‘এ’ প্রদান গুরুত্বপূর্ণ। জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, অনেক সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন সুবিধার অভাব রয়েছে, যা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। অভিভাবকরা চিকিৎসা সেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নওগাঁ সদর হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ; উপযুক্ত টিকাদান না হলে শিশুরা ঝুঁকিতে থাকে।
সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নওগাঁ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। আক্রান্তদের আশপাশের ৪০টি বাড়ির শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ দেয়া হচ্ছে, এবং অন্য উপজেলাগুলোতে বিশেষ নজরদারি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
আগামী মে মাসে সারাদেশে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিশুদের এমআর টিকার বুস্টার ডোজ দেয়া হবে। বিশেষজ্ঞরা দ্রুত পৃথক চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার, পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন, অন্যথায় সংক্রমণ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলাকা ভিত্তিক যেসব শিশুর জ্বর ও শরীরে র্যাশ উঠছে। তাদের দ্রুত অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। কারণ হাম সংক্রমণ রোগ। আক্রান্ত শিশুর মাধ্যমে সহজেই অন্যরা আক্রান্ত হতে পারে। তাই শিশুদের দেরি না করে নিকটস্থ চিকিৎসকের কাছে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুদের জন্য পৃথক অক্সিজেন সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, শিশুদের হাম ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। হাম নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরীক্ষা করা। আর যাদের জ্বর, র্যাশ উঠে, নাকে ইনফেকশন ও চোখ উঠে। হাম ছোয়াছে রোগ। এজন্য তাকে আলাদা করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। আর শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ার তিনি পরামর্শ দিয়েছে। শিশু হাসপাতালে আলাদা কর্নার চালু করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী: হামের টিকা আসার সঙ্গে সঙ্গে দেয়ার ব্যবস্থা হবে। দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার হামসহ ছয়টি রোগের টিকা সংগ্রহে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন, ‘টিকা কবে নাগাদ আসবে ইট ইজ নট ইন মাই হ্যান্ড। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের টিকা আসবে। টিকা আসার সঙ্গে সঙ্গে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করবো।’
‘আমাদের জনগণকে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের সব চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং এই মিজেলসের আক্রমণের ভেতরে আমরা যে র্যাপিডলি ভেন্টিলেটর এবং আইসিইউ ইউনিট এবং ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করেছি, অতীতে কোনো দিন হয়নি। উই উইল কন্টিনিউ আওয়ার এফোর্ট। ইনশাআল্লাহ্ আমরা করে যাব।’
এদিন দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামের রোগী শনাক্ত হয়। ১০ জানুয়ারি ক্যাম্প এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। ওই সময় রাজধানীর বস্তি এলাকায় হামের রোগী বৃদ্ধি পেতে থাকে। গত শুক্রবার রাজধানীর মহাখালীতে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় শয্যার চেয়ে রোগী বেশি। তাদের বড় অংশই হামের রোগী। ভাইরাসজনিত এ রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ কয়েক জেলায় শিশুদের মৃত্যর খবরও এসেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী গত রোববার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, ‘মিজেলসের (হাম) রোগী অনেক বেড়েছে। আট বছর আগে মিজেলসের ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। এরপর ভ্যাকসিন কোনো গভার্নমেন্ট দেয় নাই।’
গতকালের ব্রিফিংয়ে গত রোববারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘আপনারা ভালো করে শুনুন, মিজেলস প্রতিরোধে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্যাম্পেইন হয়। লাস্ট নাইট আমি কয়েকজন হেলথ ইন্সপেক্টরের সঙ্গে কথা বলেছি, যারা ভ্যাকসিন দিচ্ছেন। দ্য থিং ইজ ২০১৮ সালে একটা ক্যাম্পেইন (প্রচারাভিযান) হয়েছিল। এই ক্যাম্পেইনটা আফটার ইচ ফোর ইয়ারস হয়।’
‘কার জন্য হয়? যেই বেবিগুলোকে ধরেন ২০১৮ তে দেয়ার পরেও যারা লেফট আউট রয়ে গিয়েছে বা যে বেবিগুলো পলায় গেছে ভয়ে দেয় নাই এই একটা শ্রেণী আছে। আরেকটা শ্রেণী হলো যারা এরপরে নিউবর্ন। এদের তো টিকা দিতে হবে। ২০১৮ এর পরে আর কোনো ক্যাম্পেইন হয় নাই, এইট ইয়ার্স।’
সাংবাদিকদের প্রশ্ন করে মন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাভ বিন এবল টু রিভিউ দ্য ডিটেইলস? বুঝতে পারছেন আপনারা নাকি ভাই?’ যে শিশুরা হামের টিকার আওতায় আসেনি তারাই বর্তমানে বেশিসংখ্যক আক্রান্ত হচ্ছে বলে তুলে ধরেন মন্ত্রী।
এদিকে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলছে, দেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও ৪ লাখের মতো শিশু ঠিকমতো সব টিকা পায়নি এবং ৭০ হাজার (১ দশমিক ৫ শতাংশ) শিশু একেবারেই টিকা পায়নি।
শহর-অঞ্চলগুলোতে টিকা না পাওয়ার হার বেশি, মাত্র ৭৯ শতাংশ পুরোপুরি টিকা পেয়েছে। ২ দশমিক ৪ শতাংশ এক ডোজ টিকাও পায়নি এবং ৯ দশমিক ৮ শতাংশ টিকার সব ডোজ ঠিকমতোন পায়নি; সেই তুলনায় গ্রামাঞ্চলগুলোতে ৮৫ শতাংশ শিশু টিকার সব ডোজ পেয়েছে
২ কোটি শিশুকে টিকা দেয়া হবে। দেশে ২ কোটি শিশুকে হামের টিকা দেয়া হবে। টিকাদানের সিরিঞ্জ পাওয়া গেলে আগামী মে, জুন ও জুলাই মাসে এ টিকা দেয়া হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে এ টিকা আনা হবে। মহাখালী ইপিআই টিকা কর্মসূচির উপ-পরিচালক ডা. মো. শাহারিয়ার সাজ্জাত সংবাদকে মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ২০২০ সালে টিকা দেয়া দিয়ে ক্যাম্পেইন হয়েছিল। ২০২৪ সালে টিকা নিয়ে ক্যাম্পিং হওয়ার কথা ছিল কিন্তু নানা কারণে হয়নি। চলতি বছর কাম্পিং হচ্ছে। আবুধাবি, দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে টিকা আমদানি করা হয়।
বর্তমানে মহাখালী ইপিআই সেণ্টারে টিকা নেই। তবে জেলাগুলোতে কিছু টিকা আছে। বছরে প্রায় ৪২ লাখ শিশুকে টিকা দেয়া হয়। এরমধ্যে ৯ মাস পূর্ণ হলে এমআর-১ টিকা দেয়া হয়। আর ১৫ মাস পূর্ণ হলে এমআর-২ টিকা দেয়া হয়। টিকা দেয়া চলমান আছে। সাধারণত ৯টি টিকা হামসহ ১২টি রোগের জন্য দেয়া দেয়া হয়।
বছরে জন্ম নেয়া আগের হিসাব মতে, প্রায় ৪২ লাখ শিশু। তবে বর্তমানে লজিস্টিক সমস্যাসহ নানা সমস্যা রয়েছে। সামনে টিকার আরও সংকট দেখা দিতে পারে বলে এ কর্মকর্তা মন্তব্য করেন।
টিকা আমদানির জন্য প্রায় এক হাজার ৪শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। রাজধানীসহ বিভাগীয় ও জেলা, উপজেলা শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত টিকা দান কর্মসূচির আওতায় এই টিকা দেয়া হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করে বলেন, টিকা দেয়ার পরেও অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। কারণ সংক্রামক এ ভাইরাসজনিত রোগটি আক্রান্ত শিশুর জীবনকে জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলেছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। টিকার জন্য ২ কোটি সিরিঞ্জও দরকার। সবকিছু ঠিক থাকলে টিকা দানের বিশেষ কর্র্মসূচি শুরু করা হবে বলে মন্তব্য করেন।

আপনার মতামত লিখুন