গ্রীষ্মের তাপদাহে শীতল পরশ পেতে বৈদ্যুতিক পাখার পাশাপাশি তালপাতার হাতপাখার কদর এখনো কমেনি। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এর ব্যবহার ব্যাপক। লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় হাতপাখার চাহিদাও বেড়েছে। ফলে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পাখা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেক পরিবার।
উপজেলার ডাকাতিয়া, কৃষ্ণনগরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আসন্ন পহেলা বৈশাখকে ঘিরে পাখা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগরেরা। দিন-রাত সমানতালে চলছে পাখা তৈরির কাজ। বৈশাখ উপলক্ষে গ্রামগঞ্জে বসা মেলাগুলোতে তালপাতার হাতপাখার চাহিদা থাকে বেশি।
এই সুযোগে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অসংখ্য নারী-পুরুষ মৌসুমি পেশা হিসেবে পাখা তৈরি করে বাড়তি আয় করছেন। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে স্বস্তি পেতে হাতপাখার বিকল্প নেই। প্রত্যন্ত এলাকায়, যেখানে এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি, সেখানে গরমের দিনে এটি মানুষের প্রধান ভরসা।
স্থানীয় কারিগররা জানান, শুধু গ্রামেই নয়, শহরেও হাতপাখার চাহিদা বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল—কুমিল্লা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, গোপালগঞ্জ ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে এখানকার পাখা কিনে নিয়ে যান।
ডাকাতিয়া গ্রামের কারিগর দিলিপ মজুমদার, চিত্ত মজুমদার, সতীন্দ্র নাথ বালা ও আকুল বালা জানান, তাঁদের পরিবারের নারী-পুরুষ সবাই পাখা তৈরিতে যুক্ত। মৌসুমি এই কাজে তারা বাড়তি আয় করেন।
কারিগররা জানান, সাধারণত তিন ধরনের পাখা তৈরি করা হয়—বাট পাখা, ঘুল্লি পাখা ও ভাঁজপাখা। প্রতিটি পাখা ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে ভাঁজপাখার দাম তুলনামূলক বেশি, যা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।
ডাকাতিয়া গ্রামের রানা মজুমদার বলেন, এলাকার অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়িতে বসে পাখা তৈরি করছে। এতে তারা নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকেও সহায়তা করতে পারছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রীষ্ম মৌসুমে তালপাতার হাতপাখার চাহিদা আগের মতোই রয়েছে। বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহার বাড়লেও হাতপাখার প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি।
কারিগরদের আশা, বৈশাখকে কেন্দ্র করে মেলা ও স্থানীয় হাটবাজারে পাখা বিক্রি বাড়বে। তাই উৎসবকে সামনে রেখে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা।
আপনার মতামত লিখুন