সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শিলাবৃষ্টিতে হাওরের বোরো শেষ, কৃষকের হাহাকার


প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬

শিলাবৃষ্টিতে হাওরের বোরো শেষ, কৃষকের হাহাকার
ভগ্নহৃদয়ে বিনষ্ট বোরো জমির পাশে দাঁড়িয়ে আছেন কৃষক জয়নাল আবেদীন

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে একমাত্র বোরো ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে অনেকেই নির্বাক। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন।

মিঠামইন উপজেলার ঢাকী ইউনিয়নের বরকান্দা গ্রামের কৃষক ফাইজুল ইসলাম বলেন, এ বছর তিনি ৯ একর ৫০ শতক জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। জমিতে ৭০০ থেকে ৭৫০ মণ ধান হওয়ার কথা থাকলেও এখন ৯ মণও পাওয়ার আশা নেই। ধারদেনা করে চাষ করা এই ফসল হারিয়ে তিনি চরম সংকটে পড়েছেন।

সরেজমিনে বরকান্দা হাওরে গিয়ে দেখা যায়, শিলাবৃষ্টিতে ধানের গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শীষ ভেঙে গেছে, কোথাও আবার জমি শিলার স্তূপে ঢেকে গেছে। কয়েক দিন আগেও যেখানে বাম্পার ফলনের আশা ছিল, সেখানে এখন শুধু ধ্বংসস্তূপ।

কৃষকেরা জানান, মঙ্গলবার রাতের মাত্র ২০ থেকে ২৫ মিনিটের শিলাবৃষ্টিতেই সর্বনাশ হয়ে গেছে। গত ৩০ বছরে এমন শিলাবৃষ্টি দেখেননি বলে জানিয়েছেন অনেকে।

একই এলাকার কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, সাত একর জমিতে আবাদ করতে তাঁর প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন সেই জমি থেকে সাত মণ ধানও উঠবে না। ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের খরচ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

কৃষাণী আকলিমা আক্তার বলেন, আগের দিনও জমিতে ভালো ধান ছিল, পরদিন গিয়ে দেখেন কিছুই নেই। ঋণের কিস্তি কীভাবে দেবেন, তা ভেবে তিনি উদ্বিগ্ন।

কৃষক উজ্জ্বল মিয়া বলেন, তাঁর সাত একর জমির সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এমন শিলাবৃষ্টি আগে কখনো দেখেননি।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, শিলাবৃষ্টিতে জেলায় প্রাথমিকভাবে ৩ হাজার ৮৬৪ হেক্টর জমির বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে মিঠামইনে ২ হাজার ৫০০ হেক্টর, ইটনায় ৯৮৬ হেক্টর, অষ্টগ্রামে ১৪০ হেক্টর, নিকলীতে ১০০ হেক্টর, পাকুন্দিয়ায় ১২০ হেক্টর, হোসেনপুরে ১০ হেক্টর, কুলিয়ারচরে ৬ হেক্টর এবং ভৈরবে ২ হেক্টর জমি ক্ষতির তালিকায় রয়েছে। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন কৃষকেরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র নিরূপণে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬


শিলাবৃষ্টিতে হাওরের বোরো শেষ, কৃষকের হাহাকার

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে একমাত্র বোরো ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে অনেকেই নির্বাক। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন।

মিঠামইন উপজেলার ঢাকী ইউনিয়নের বরকান্দা গ্রামের কৃষক ফাইজুল ইসলাম বলেন, এ বছর তিনি ৯ একর ৫০ শতক জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। জমিতে ৭০০ থেকে ৭৫০ মণ ধান হওয়ার কথা থাকলেও এখন ৯ মণও পাওয়ার আশা নেই। ধারদেনা করে চাষ করা এই ফসল হারিয়ে তিনি চরম সংকটে পড়েছেন।

সরেজমিনে বরকান্দা হাওরে গিয়ে দেখা যায়, শিলাবৃষ্টিতে ধানের গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শীষ ভেঙে গেছে, কোথাও আবার জমি শিলার স্তূপে ঢেকে গেছে। কয়েক দিন আগেও যেখানে বাম্পার ফলনের আশা ছিল, সেখানে এখন শুধু ধ্বংসস্তূপ।

কৃষকেরা জানান, মঙ্গলবার রাতের মাত্র ২০ থেকে ২৫ মিনিটের শিলাবৃষ্টিতেই সর্বনাশ হয়ে গেছে। গত ৩০ বছরে এমন শিলাবৃষ্টি দেখেননি বলে জানিয়েছেন অনেকে।

একই এলাকার কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, সাত একর জমিতে আবাদ করতে তাঁর প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন সেই জমি থেকে সাত মণ ধানও উঠবে না। ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের খরচ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

কৃষাণী আকলিমা আক্তার বলেন, আগের দিনও জমিতে ভালো ধান ছিল, পরদিন গিয়ে দেখেন কিছুই নেই। ঋণের কিস্তি কীভাবে দেবেন, তা ভেবে তিনি উদ্বিগ্ন।

কৃষক উজ্জ্বল মিয়া বলেন, তাঁর সাত একর জমির সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এমন শিলাবৃষ্টি আগে কখনো দেখেননি।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, শিলাবৃষ্টিতে জেলায় প্রাথমিকভাবে ৩ হাজার ৮৬৪ হেক্টর জমির বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে মিঠামইনে ২ হাজার ৫০০ হেক্টর, ইটনায় ৯৮৬ হেক্টর, অষ্টগ্রামে ১৪০ হেক্টর, নিকলীতে ১০০ হেক্টর, পাকুন্দিয়ায় ১২০ হেক্টর, হোসেনপুরে ১০ হেক্টর, কুলিয়ারচরে ৬ হেক্টর এবং ভৈরবে ২ হেক্টর জমি ক্ষতির তালিকায় রয়েছে। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন কৃষকেরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র নিরূপণে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত