সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

তেল সংকটে নওগাঁয় মোটরসাইকেল বিক্রি প্রায় বন্ধ


জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬

তেল সংকটে নওগাঁয় মোটরসাইকেল বিক্রি প্রায় বন্ধ
ছবি : সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব দেশের জ্বালানি বাজারে পড়েছে। এর ফলে দেখা দেওয়া তেল সংকটে নওগাঁয় মোটরসাইকেলের বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন একাধিক মোটরসাইকেল বিক্রি হতো, সেখানে এখন অনেক শোরুমে দিন পার হচ্ছে ক্রেতাশূন্য অবস্থায়।

মোটরসাইকেল বিক্রেতারা জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে দিনে ৫ থেকে ৮টি মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও বর্তমানে তা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। জ্বালানির সরবরাহ অনিশ্চিত হওয়ায় অনেকেই মোটরসাইকেল কেনার সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) নওগাঁ শহরের বিভিন্ন শোরুম ঘুরে দেখা যায়, কোথাও তেমন ক্রেতা নেই। একই চিত্র সার্ভিসিং সেন্টারগুলোতেও। আগে যেখানে প্রতিদিন ২৫-৩০টি মোটরসাইকেল সার্ভিসিংয়ে আসত, এখন তা নেমে এসেছে ১-২টিতে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নওগাঁ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার। এ ছাড়া প্রায় ১ লাখ মোটরসাইকেল অনিবন্ধিত রয়েছে। জেলার ১১টি উপজেলায় শতাধিক মোটরসাইকেল বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে।

নওগাঁর তালতলী এলাকার বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষক নাসির হায়দার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টাকা জমিয়ে ঈদের আগে মোটরসাইকেল কেনার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইনের কারণে সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছেন।

হিরো মোটরসাইকেলের ডিলার ও নওগাঁ পল্লী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ঈদের তৃতীয় দিন থেকে শোরুমে কোনো ক্রেতা আসেননি। আগে দিনে ৫-৭টি মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও এখন একটিও বিক্রি হচ্ছে না। প্রতি বছর ঈদে ৩০০-৪০০টি মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও এবার বিক্রি হয়েছে মাত্র ১০০টি। প্রতিদিন শোরুম পরিচালনা ও কর্মচারীদের বেতন বাবদ ৪০-৪৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে, কিন্তু আয় নেই।

নওগাঁ আরিস মোটরসের স্বত্বাধিকারী মোতাহার হোসেন বলেন, ৯ বছরের ব্যবসায় জীবনে এ বছর সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছেন। ঈদে ২৫০টি মোটরসাইকেল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বিক্রি হয়েছে মাত্র ১১০টি। তেলের অভাবে অনেকেই মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন না, ফলে সার্ভিসিংয়ের কাজও কমে গেছে।

নওগাঁ টিভিএস বাইক ওয়ার্ল্ডের সেলস এক্সিকিউটিভ সাদনান আনসারী বলেন, আগে প্রতিদিন ২৫-৩০টি মোটরসাইকেল সার্ভিসিংয়ে এলেও এখন তা ১-২টিতে নেমে এসেছে। জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল নিয়ে বের হচ্ছেন না।

বিআরটিএ নওগাঁর মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, কিছু এলাকায় ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া জ্বালানি না দেওয়ার নির্দেশনা থাকায় মানুষ এখন সতর্ক হচ্ছে। তবে এখনো লাইসেন্সের জন্য চাপ বাড়েনি। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব বোঝা যাবে।

বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬


তেল সংকটে নওগাঁয় মোটরসাইকেল বিক্রি প্রায় বন্ধ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব দেশের জ্বালানি বাজারে পড়েছে। এর ফলে দেখা দেওয়া তেল সংকটে নওগাঁয় মোটরসাইকেলের বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন একাধিক মোটরসাইকেল বিক্রি হতো, সেখানে এখন অনেক শোরুমে দিন পার হচ্ছে ক্রেতাশূন্য অবস্থায়।

মোটরসাইকেল বিক্রেতারা জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে দিনে ৫ থেকে ৮টি মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও বর্তমানে তা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। জ্বালানির সরবরাহ অনিশ্চিত হওয়ায় অনেকেই মোটরসাইকেল কেনার সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) নওগাঁ শহরের বিভিন্ন শোরুম ঘুরে দেখা যায়, কোথাও তেমন ক্রেতা নেই। একই চিত্র সার্ভিসিং সেন্টারগুলোতেও। আগে যেখানে প্রতিদিন ২৫-৩০টি মোটরসাইকেল সার্ভিসিংয়ে আসত, এখন তা নেমে এসেছে ১-২টিতে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নওগাঁ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার। এ ছাড়া প্রায় ১ লাখ মোটরসাইকেল অনিবন্ধিত রয়েছে। জেলার ১১টি উপজেলায় শতাধিক মোটরসাইকেল বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে।

নওগাঁর তালতলী এলাকার বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষক নাসির হায়দার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টাকা জমিয়ে ঈদের আগে মোটরসাইকেল কেনার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইনের কারণে সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছেন।

হিরো মোটরসাইকেলের ডিলার ও নওগাঁ পল্লী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ঈদের তৃতীয় দিন থেকে শোরুমে কোনো ক্রেতা আসেননি। আগে দিনে ৫-৭টি মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও এখন একটিও বিক্রি হচ্ছে না। প্রতি বছর ঈদে ৩০০-৪০০টি মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও এবার বিক্রি হয়েছে মাত্র ১০০টি। প্রতিদিন শোরুম পরিচালনা ও কর্মচারীদের বেতন বাবদ ৪০-৪৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে, কিন্তু আয় নেই।

নওগাঁ আরিস মোটরসের স্বত্বাধিকারী মোতাহার হোসেন বলেন, ৯ বছরের ব্যবসায় জীবনে এ বছর সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছেন। ঈদে ২৫০টি মোটরসাইকেল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বিক্রি হয়েছে মাত্র ১১০টি। তেলের অভাবে অনেকেই মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন না, ফলে সার্ভিসিংয়ের কাজও কমে গেছে।

নওগাঁ টিভিএস বাইক ওয়ার্ল্ডের সেলস এক্সিকিউটিভ সাদনান আনসারী বলেন, আগে প্রতিদিন ২৫-৩০টি মোটরসাইকেল সার্ভিসিংয়ে এলেও এখন তা ১-২টিতে নেমে এসেছে। জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল নিয়ে বের হচ্ছেন না।

বিআরটিএ নওগাঁর মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, কিছু এলাকায় ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া জ্বালানি না দেওয়ার নির্দেশনা থাকায় মানুষ এখন সতর্ক হচ্ছে। তবে এখনো লাইসেন্সের জন্য চাপ বাড়েনি। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব বোঝা যাবে।

বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত