পাবনায় হঠাৎ করেই হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জেলার হাসপাতালগুলোতে এ ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। তবে এ পর্যন্ত কেউ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
পাবনা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সাতজন। গত সাত দিনে জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩ জন। আর গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৮ জন।
বর্তমানে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ২৭ জন চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে ২৫ জনের বয়স তিন মাস থেকে ১২ মাস। মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি দুই যুবকের একজনের বয়স ২২ ও অপরজনের ৩২ বছর।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডে রোগীর এত ভিড় যে মেঝেতে হাঁটার জায়গা নেই। এক শয্যায় দুই-তিনজন করে রোগী শুয়ে আছেন। ওয়ার্ডের বারান্দার কাঁচঘেরা কক্ষটিকে হামের আইসোলেশনে রূপ দেওয়া হয়েছে। সেখানেও এক শয্যায় দুজন ও মেঝেতে চারজন শিশু চিকিৎসাধীন।
পাবনা সদরের আশুতোষপুরের গৃহবধূ স্মৃতি খাতুন চার মাস বয়সী মেয়ে নিয়ে গত ২৬ মার্চ ভর্তি হয়েছেন। তিনি জানান, প্রথমে মেয়ের ঠান্ডা ও জ্বর আসে। পরে শরীরে ও মুখে লাল দানা বের হয়। শিশু অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করছে। চিকিৎসক পরীক্ষা করে হাম শনাক্ত করেছেন।
সদরের হারিয়াবাড়িয়া গ্রামের সুফিয়া বেগম নাতি মাশরাফকে (৯ মাস) কোলে নিয়ে পায়চারি করছিলেন। তিনি বলেন, ‘শনিবার (২৮ মার্চ) ভর্তি করেছি। ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছি না। ডাক্তার এলেও নার্সরা সাড়া দেন না। রুম পরিষ্কারও ঠিকমতো হয় না।’
মালিগাছার শিমলা খাতুন জানান, ঈদের পর দিন আট মাসের ছেলে সাফায়াতকে ভর্তি করেছেন। এখনো সুস্থ হননি। ‘হাসপাতাল থেকে ওষুধ ঠিকমতো পাচ্ছি না। ডাক্তার লিখে দিলে বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। নার্স বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী কেউ রুমে আসতে চান না।’
শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসক ডা. তানভীর ইসলাম বলেন, ‘রোগী বাড়ার সঙ্গে আমরা আলাদা জায়গায় রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি। এখনই কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বিষয়টি নজরদারিতে আছে।’
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. রফিকুল হাসান বলেন, ‘এটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। আপাতত চিকিৎসায় সংকট নেই।’ স্বজনদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘৩৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন ২০০ রোগী থাকে। তাই কিছু অসুবিধা হয়। হামের জন্য নতুন ওয়ার্ড চালুর কথা বলেছেন তিনি।’
পাবনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রায় প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের রোগী ভর্তি হচ্ছে। জেলার নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৃথক আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে। ৯ মাস বা তার কম বয়সী শিশু টিকা নেওয়ার পরও হামে আক্রান্ত হচ্ছে। এটি নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।’

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬
পাবনায় হঠাৎ করেই হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জেলার হাসপাতালগুলোতে এ ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। তবে এ পর্যন্ত কেউ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
পাবনা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সাতজন। গত সাত দিনে জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩ জন। আর গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৮ জন।
বর্তমানে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ২৭ জন চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে ২৫ জনের বয়স তিন মাস থেকে ১২ মাস। মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি দুই যুবকের একজনের বয়স ২২ ও অপরজনের ৩২ বছর।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডে রোগীর এত ভিড় যে মেঝেতে হাঁটার জায়গা নেই। এক শয্যায় দুই-তিনজন করে রোগী শুয়ে আছেন। ওয়ার্ডের বারান্দার কাঁচঘেরা কক্ষটিকে হামের আইসোলেশনে রূপ দেওয়া হয়েছে। সেখানেও এক শয্যায় দুজন ও মেঝেতে চারজন শিশু চিকিৎসাধীন।
পাবনা সদরের আশুতোষপুরের গৃহবধূ স্মৃতি খাতুন চার মাস বয়সী মেয়ে নিয়ে গত ২৬ মার্চ ভর্তি হয়েছেন। তিনি জানান, প্রথমে মেয়ের ঠান্ডা ও জ্বর আসে। পরে শরীরে ও মুখে লাল দানা বের হয়। শিশু অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করছে। চিকিৎসক পরীক্ষা করে হাম শনাক্ত করেছেন।
সদরের হারিয়াবাড়িয়া গ্রামের সুফিয়া বেগম নাতি মাশরাফকে (৯ মাস) কোলে নিয়ে পায়চারি করছিলেন। তিনি বলেন, ‘শনিবার (২৮ মার্চ) ভর্তি করেছি। ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছি না। ডাক্তার এলেও নার্সরা সাড়া দেন না। রুম পরিষ্কারও ঠিকমতো হয় না।’
মালিগাছার শিমলা খাতুন জানান, ঈদের পর দিন আট মাসের ছেলে সাফায়াতকে ভর্তি করেছেন। এখনো সুস্থ হননি। ‘হাসপাতাল থেকে ওষুধ ঠিকমতো পাচ্ছি না। ডাক্তার লিখে দিলে বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। নার্স বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী কেউ রুমে আসতে চান না।’
শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসক ডা. তানভীর ইসলাম বলেন, ‘রোগী বাড়ার সঙ্গে আমরা আলাদা জায়গায় রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি। এখনই কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বিষয়টি নজরদারিতে আছে।’
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. রফিকুল হাসান বলেন, ‘এটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। আপাতত চিকিৎসায় সংকট নেই।’ স্বজনদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘৩৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন ২০০ রোগী থাকে। তাই কিছু অসুবিধা হয়। হামের জন্য নতুন ওয়ার্ড চালুর কথা বলেছেন তিনি।’
পাবনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রায় প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের রোগী ভর্তি হচ্ছে। জেলার নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৃথক আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে। ৯ মাস বা তার কম বয়সী শিশু টিকা নেওয়ার পরও হামে আক্রান্ত হচ্ছে। এটি নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।’

আপনার মতামত লিখুন