সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যু: দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন


প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬

সাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যু: দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথে একটি নৌকায় অভিবাসনপ্রত্যাশী ২২ জন বাংলাদেশি নাগরিক মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে ১২ জন সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

জানা গেছে, নৌকাটি পথ হারিয়ে ছয় দিন সাগরে ভেসে ছিল। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে অভিবাসনপ্রত্যাশী এসব মানুষের মৃত্যু হয়েছে। উক্ত নৌকা থেকে বেঁচে ফেরা এক যুবক গণমাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছেন। মৃতদের লাশ সাগরে ফেলে দেয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের গ্রিসের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানিয়েছেন, বাংলাদেশ মিশন গ্রিসের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহায়তায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সহযোগিতা ও নিহতদের মরদেহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

সুনামগঞ্জের ডিসি বলেছেন, দালালদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে তথ্য সংগ্রহ করতে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

এই মৃত্যু হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা নয়। এটি একটি সংগঠিত অপরাধ চক্রের অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ডের পরিণতি। জানা গেছে, ভুক্তভোগী অনেক পরিবার দালালদেরকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছে। লক্ষ্য ছিল, সন্তানদের ইউরোপ পাঠানো। দালালরা ভুক্তভোগীদের সীমিত খাবার পানি অনিশ্চিত সমুদ্রের পথে দিয়ে রাবারের নৌকায় তুলে দিয়েছে। বাস্তবে এটি মানব পাচার ছাড়া আর কিছু নয়। 

সুনামগঞ্জের মতো একটি জেলা থেকে এত মানুষ একসঙ্গে অবৈধ পথে বিদেশে যাচ্ছিলেন কেন সেটা একটা প্রশ্ন। এর পেছনে রয়েছে দারিদ্র্য, বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার সুযোগের অভাব। দেশে কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে। অনেকের বিদেশ গিয়ে পরিবারে সচ্ছলতা আনার স্বপ্ন থাকে। দালালরা এই দুর্বলতাকে পুঁজি করে। স্বপ্ন দেখায়, টাকা নেয়, তারপর অবৈধ পথে তাদের বিদেশে নেয়ার চেষ্টা করে। 

অবৈধ অভিবাসনের পথ অত্যন্ত বিপজ্জনক। অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রায় মানুষের জীবন হারানোর ঘটনা অতীতেও ঘটছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। দালালচক্রকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বৈধ অভিবাসনের পথ সহজ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬


সাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যু: দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬

featured Image

লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথে একটি নৌকায় অভিবাসনপ্রত্যাশী ২২ জন বাংলাদেশি নাগরিক মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে ১২ জন সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

জানা গেছে, নৌকাটি পথ হারিয়ে ছয় দিন সাগরে ভেসে ছিল। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে অভিবাসনপ্রত্যাশী এসব মানুষের মৃত্যু হয়েছে। উক্ত নৌকা থেকে বেঁচে ফেরা এক যুবক গণমাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছেন। মৃতদের লাশ সাগরে ফেলে দেয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের গ্রিসের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানিয়েছেন, বাংলাদেশ মিশন গ্রিসের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহায়তায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সহযোগিতা ও নিহতদের মরদেহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

সুনামগঞ্জের ডিসি বলেছেন, দালালদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে তথ্য সংগ্রহ করতে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

এই মৃত্যু হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা নয়। এটি একটি সংগঠিত অপরাধ চক্রের অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ডের পরিণতি। জানা গেছে, ভুক্তভোগী অনেক পরিবার দালালদেরকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছে। লক্ষ্য ছিল, সন্তানদের ইউরোপ পাঠানো। দালালরা ভুক্তভোগীদের সীমিত খাবার পানি অনিশ্চিত সমুদ্রের পথে দিয়ে রাবারের নৌকায় তুলে দিয়েছে। বাস্তবে এটি মানব পাচার ছাড়া আর কিছু নয়। 

সুনামগঞ্জের মতো একটি জেলা থেকে এত মানুষ একসঙ্গে অবৈধ পথে বিদেশে যাচ্ছিলেন কেন সেটা একটা প্রশ্ন। এর পেছনে রয়েছে দারিদ্র্য, বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার সুযোগের অভাব। দেশে কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে। অনেকের বিদেশ গিয়ে পরিবারে সচ্ছলতা আনার স্বপ্ন থাকে। দালালরা এই দুর্বলতাকে পুঁজি করে। স্বপ্ন দেখায়, টাকা নেয়, তারপর অবৈধ পথে তাদের বিদেশে নেয়ার চেষ্টা করে। 

অবৈধ অভিবাসনের পথ অত্যন্ত বিপজ্জনক। অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রায় মানুষের জীবন হারানোর ঘটনা অতীতেও ঘটছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। দালালচক্রকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বৈধ অভিবাসনের পথ সহজ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত