মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রযুক্তি অপরিহার্য। প্রযুক্তি আমাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পাশাপাশি বিশ্বকে একটি ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ বা বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত করেছে। এরই ফলশ্রুতিতে এখন যেখানে তথ্য ও সেবা বিশ্ববাসীর হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। যা দৈনন্দিন কাজ সহজ, দ্রুত ও আরামদায়ক করে তুলেছে। এর পাশাপাশি ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, উন্নত চিকিৎসা, অনলাইন ব্যাংকিং, এবং শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার যোগাযোগ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করেছে। প্রতিনিয়ত এই প্রযুক্তির ব্যবহার স্বাস্থ্যসেবা, যাতায়াত ও বিনোদনের মতো খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে জীবনকে নিরাপদ ও আরও উন্নত করতে বড় ভূমিকা রাখছে। বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি খাতে বিপ্লব চলছে।
মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিটি স্তরে প্রযুক্তির ছোঁয়া পৌঁছে গেছে। তাই একবিংশ শতাব্দীতে জাতীয় জীবনের উন্নয়নের জন্য পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে আমাদের দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা প্রয়োজন। এদিকে ইন্টারনেট অব থিংস, রোবোটিকস, ক্লাউড কম্পিউটিং, মেশিন লার্নিং, ব্লকচেইন প্রযুক্তি, সেন্সর, অটোমেশন, থ্রিডি প্রিন্টিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, জিন ও প্রকৌশল প্রযুক্তির সমন্বয়ে আজকের বিশ্বে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। তবে একই সাথে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি, কর্মসংস্থান হ্রাস, গোপনীয়তা লঙ্ঘন, এবং ডিজিটাল বিভাজন বা বৈষম্যের মতো বড় চ্যালেঞ্জগুলোও তৈরি হয়েছে, যা মোকাবিলা করাই বর্তমানের প্রধান লক্ষ্য। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় দক্ষ কর্মী তৈরি, শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা নীতি, এবং উদ্ভাবনের সাথে সাথে নৈতিক ব্যবহারের নিশ্চিতকরণ অপরিহার্য।
ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে এনে সাধারণ মানুষের তথ্য ও সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রযুক্তি ব্যবহার এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বৈশ্বিক উন্নয়নে পিছিয়ে পরা দেশগুলোকে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। এদিকে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হলে দারিদ্র্য দূরীকরণের পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তাই বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আজকের তথ্য শক্তিই আগামীর পৃথিবীর চালিকাশক্তি। বর্তমান আধুনিক যুগে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার স্বার্থে তথ্যের প্রয়োজন। এই কথাটি এখন স্পষ্ট যে যার নিকট যত বেশি তথ্য রয়েছে সে তত বেশি শক্তিশালী। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পৃথিবীর দরিদ্র জনগোষ্টির জন্য খুলে দিয়েছে অপার সম্ভাবনার দুয়ার। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় কৃষি বিপ্লব, শিল্প বিপ্লবের পর বর্তমান পৃথিবী নতুনতর এক বিপ্লবের মুখোমুখি হতে চলেছে যার নাম তথ্য বিপ্লব।
তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে মানুষের জীবন হয়েছে এখন অনেক সহজ, সরল এবং স্বাচ্ছন্দ্যময়। ঘরে বসে বিশ্ব ভ্রমণ, মার্কেটিং, ব্যাংকিং বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস কিংবা ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে ঘোরাঘুরি করা এখন একেবারে সহজ। তাইতো এখন মানুষের এমন কোন কাজ নেই যেখানে প্রযুক্তির ছোয়া লাগেনি। বিশ্বের দারিদ্র্যপীড়িত দেশগুলোর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রযুক্তির ভূমিকা অপরিহার্য। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগই একটি দেশের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে। তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে যদি দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা যায়, তবে দারিদ্র্য ও বেকারত্বকে বিদায় দেয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে। এজন্য আমাদের লক্ষ্য হতে হবে প্রযুক্তিবান্ধব একটি সমাজ গঠন করা, যেখানে মেধা ও সুযোগের সঠিক সমন্বয় ঘটবে।
প্রযুক্তির উন্নয়ন মানে একটি দেশ ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়ন। এটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। প্রযুক্তি মানুষকে যোগায় জীবন সহায়ক ব্যবস্থা বা লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম, যে কারণে মানুষ পৃথিবীতে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়ার শক্তি অর্জন করে। আর এভাবেই প্রতিনিয়ত প্রযুক্তি হয়ে উঠছে মানুষের প্রতিদিনের সঙ্গী।
[লেখক: নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান (আইসিটি সেল), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়]

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬
মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রযুক্তি অপরিহার্য। প্রযুক্তি আমাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পাশাপাশি বিশ্বকে একটি ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ বা বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত করেছে। এরই ফলশ্রুতিতে এখন যেখানে তথ্য ও সেবা বিশ্ববাসীর হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। যা দৈনন্দিন কাজ সহজ, দ্রুত ও আরামদায়ক করে তুলেছে। এর পাশাপাশি ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, উন্নত চিকিৎসা, অনলাইন ব্যাংকিং, এবং শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার যোগাযোগ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করেছে। প্রতিনিয়ত এই প্রযুক্তির ব্যবহার স্বাস্থ্যসেবা, যাতায়াত ও বিনোদনের মতো খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে জীবনকে নিরাপদ ও আরও উন্নত করতে বড় ভূমিকা রাখছে। বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি খাতে বিপ্লব চলছে।
মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিটি স্তরে প্রযুক্তির ছোঁয়া পৌঁছে গেছে। তাই একবিংশ শতাব্দীতে জাতীয় জীবনের উন্নয়নের জন্য পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে আমাদের দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা প্রয়োজন। এদিকে ইন্টারনেট অব থিংস, রোবোটিকস, ক্লাউড কম্পিউটিং, মেশিন লার্নিং, ব্লকচেইন প্রযুক্তি, সেন্সর, অটোমেশন, থ্রিডি প্রিন্টিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, জিন ও প্রকৌশল প্রযুক্তির সমন্বয়ে আজকের বিশ্বে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। তবে একই সাথে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি, কর্মসংস্থান হ্রাস, গোপনীয়তা লঙ্ঘন, এবং ডিজিটাল বিভাজন বা বৈষম্যের মতো বড় চ্যালেঞ্জগুলোও তৈরি হয়েছে, যা মোকাবিলা করাই বর্তমানের প্রধান লক্ষ্য। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় দক্ষ কর্মী তৈরি, শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা নীতি, এবং উদ্ভাবনের সাথে সাথে নৈতিক ব্যবহারের নিশ্চিতকরণ অপরিহার্য।
ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে এনে সাধারণ মানুষের তথ্য ও সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রযুক্তি ব্যবহার এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বৈশ্বিক উন্নয়নে পিছিয়ে পরা দেশগুলোকে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। এদিকে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হলে দারিদ্র্য দূরীকরণের পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তাই বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আজকের তথ্য শক্তিই আগামীর পৃথিবীর চালিকাশক্তি। বর্তমান আধুনিক যুগে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার স্বার্থে তথ্যের প্রয়োজন। এই কথাটি এখন স্পষ্ট যে যার নিকট যত বেশি তথ্য রয়েছে সে তত বেশি শক্তিশালী। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পৃথিবীর দরিদ্র জনগোষ্টির জন্য খুলে দিয়েছে অপার সম্ভাবনার দুয়ার। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় কৃষি বিপ্লব, শিল্প বিপ্লবের পর বর্তমান পৃথিবী নতুনতর এক বিপ্লবের মুখোমুখি হতে চলেছে যার নাম তথ্য বিপ্লব।
তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে মানুষের জীবন হয়েছে এখন অনেক সহজ, সরল এবং স্বাচ্ছন্দ্যময়। ঘরে বসে বিশ্ব ভ্রমণ, মার্কেটিং, ব্যাংকিং বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস কিংবা ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে ঘোরাঘুরি করা এখন একেবারে সহজ। তাইতো এখন মানুষের এমন কোন কাজ নেই যেখানে প্রযুক্তির ছোয়া লাগেনি। বিশ্বের দারিদ্র্যপীড়িত দেশগুলোর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রযুক্তির ভূমিকা অপরিহার্য। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগই একটি দেশের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে। তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে যদি দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা যায়, তবে দারিদ্র্য ও বেকারত্বকে বিদায় দেয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে। এজন্য আমাদের লক্ষ্য হতে হবে প্রযুক্তিবান্ধব একটি সমাজ গঠন করা, যেখানে মেধা ও সুযোগের সঠিক সমন্বয় ঘটবে।
প্রযুক্তির উন্নয়ন মানে একটি দেশ ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়ন। এটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। প্রযুক্তি মানুষকে যোগায় জীবন সহায়ক ব্যবস্থা বা লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম, যে কারণে মানুষ পৃথিবীতে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়ার শক্তি অর্জন করে। আর এভাবেই প্রতিনিয়ত প্রযুক্তি হয়ে উঠছে মানুষের প্রতিদিনের সঙ্গী।
[লেখক: নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান (আইসিটি সেল), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়]

আপনার মতামত লিখুন