অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার কিছু কাজ করবে, কিছু গণতান্ত্রিক সংস্কার করবে বলে সবার ধারণা ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করাতে লবিস্টদের আরও বেশি তৎপরতা দেখা গেছে। কয়েকজন উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী ছিলেন- যাঁরা নামে উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী, কিন্তু কাজে তাঁরা করপোরেট লবিস্ট ছিলেন।’
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘জ্বালানি খাত সংস্কার ও ক্যাবের ১৩ দফা দাবি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ অধ্যাপক আরও বলেন, “জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় বহুদিন ধরেই বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নেই। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোই সেটি নিয়ন্ত্রণ করে।” তিনি আরও বলেন, “যে চুক্তিগুলো হয়, সেই টেবিলের দুই পাশেই একই পক্ষের লোক থাকে। ওই কোম্পানির দেশি বড় কোম্পানি কিংবা বিদেশি কোম্পানি আর তাদের লোকজনের মধ্য দিয়ে চুক্তি হয়। এর ফলে বাংলাদেশে একের পর এক বিপুল সম্পদের ব্যয় হয়েছে এবং দেশ ক্রমাগত নির্ভরশীলতার মধ্যে আটকে যাচ্ছে।’
জ্বালানি নিয়ে সৃষ্ট সংকট নীতির কারণে তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আমদানিনির্ভর, বিদেশি ঋণনির্ভর, বিদেশি কোম্পানিমুখী যেসব চুক্তি বিগত সময়ে হয়েছে এবং তার পেছনে যেসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাদের ওপর নির্ভরশীলতা থাকলে এখান থেকে বের হওয়া যাবে না।’ এ ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি ও জাইকার নাম উল্লেখ করেন তিনি।
বিদ্যুতের আমদানিমুখী কাঠামো একটি মহাপরিকল্পনার অধীন হয়েছে বলে দাবি করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘এটা হঠাৎ কোনো মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টারা করেননি। এই মহাপরিকল্পনা করেছে জাইকা।’
তৎকালীন সরকারকে দায়ী করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সরকার এমনই মেরুদণ্ডহীন এবং জাতীয় দায়িত্ববোধহীন যে, তারা একটা জ্বালানি নীতি প্রণয়নের জন্য দেশের মানুষের ওপর ভরসা করে না। কারণ তাদের দরকার বিদেশি কোম্পানিকে খুশি করা।’
১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে দেশে সৃষ্ট সংকটের কথা মনে করিয়ে দিয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, নির্বাচিত সরকার আসার এক মাসের মাথায় আবারও সে রকম ঘটনা ঘটছে। সংকট এড়াতে ‘ভিআইপি কালচার’ থেকে দেশকে বের করার উপায় নিয়ে ভাবার পরামর্শ দেন তিনি। বলেন, “ভিআইপি জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা। তাদের অতিভোগের কারণে সংকট বাড়ে। এটা থেকে বের হতে হবে।”
গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, শ্রমিক অধিকারকর্মী তাসলিমা আখতার প্রমুখ। আলোচনার শুরুতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জ্বালানি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ক্যাবের পক্ষ থেকে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার কিছু কাজ করবে, কিছু গণতান্ত্রিক সংস্কার করবে বলে সবার ধারণা ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করাতে লবিস্টদের আরও বেশি তৎপরতা দেখা গেছে। কয়েকজন উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী ছিলেন- যাঁরা নামে উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী, কিন্তু কাজে তাঁরা করপোরেট লবিস্ট ছিলেন।’
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘জ্বালানি খাত সংস্কার ও ক্যাবের ১৩ দফা দাবি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ অধ্যাপক আরও বলেন, “জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় বহুদিন ধরেই বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নেই। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোই সেটি নিয়ন্ত্রণ করে।” তিনি আরও বলেন, “যে চুক্তিগুলো হয়, সেই টেবিলের দুই পাশেই একই পক্ষের লোক থাকে। ওই কোম্পানির দেশি বড় কোম্পানি কিংবা বিদেশি কোম্পানি আর তাদের লোকজনের মধ্য দিয়ে চুক্তি হয়। এর ফলে বাংলাদেশে একের পর এক বিপুল সম্পদের ব্যয় হয়েছে এবং দেশ ক্রমাগত নির্ভরশীলতার মধ্যে আটকে যাচ্ছে।’
জ্বালানি নিয়ে সৃষ্ট সংকট নীতির কারণে তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আমদানিনির্ভর, বিদেশি ঋণনির্ভর, বিদেশি কোম্পানিমুখী যেসব চুক্তি বিগত সময়ে হয়েছে এবং তার পেছনে যেসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাদের ওপর নির্ভরশীলতা থাকলে এখান থেকে বের হওয়া যাবে না।’ এ ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি ও জাইকার নাম উল্লেখ করেন তিনি।
বিদ্যুতের আমদানিমুখী কাঠামো একটি মহাপরিকল্পনার অধীন হয়েছে বলে দাবি করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘এটা হঠাৎ কোনো মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টারা করেননি। এই মহাপরিকল্পনা করেছে জাইকা।’
তৎকালীন সরকারকে দায়ী করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সরকার এমনই মেরুদণ্ডহীন এবং জাতীয় দায়িত্ববোধহীন যে, তারা একটা জ্বালানি নীতি প্রণয়নের জন্য দেশের মানুষের ওপর ভরসা করে না। কারণ তাদের দরকার বিদেশি কোম্পানিকে খুশি করা।’
১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে দেশে সৃষ্ট সংকটের কথা মনে করিয়ে দিয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, নির্বাচিত সরকার আসার এক মাসের মাথায় আবারও সে রকম ঘটনা ঘটছে। সংকট এড়াতে ‘ভিআইপি কালচার’ থেকে দেশকে বের করার উপায় নিয়ে ভাবার পরামর্শ দেন তিনি। বলেন, “ভিআইপি জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা। তাদের অতিভোগের কারণে সংকট বাড়ে। এটা থেকে বের হতে হবে।”
গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, শ্রমিক অধিকারকর্মী তাসলিমা আখতার প্রমুখ। আলোচনার শুরুতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জ্বালানি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ক্যাবের পক্ষ থেকে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

আপনার মতামত লিখুন