পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। সম্প্রতি ইবি প্রেস ক্লাবের এক জরিপে এ তথ্য উঠে আসে। এসব বৈষম্যের ফলে হতাশা, হীনমন্যতা, বিষন্নতাসহ নানা মানসিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এসকল শিক্ষার্থীদেরকে। জরিপে শিক্ষার্থীরা ফলাফল প্রকাশে বৈষম্য, শিক্ষক দ্বারা নম্বর প্রদানে পক্ষপাতিত্ব, প্রশাসনিক সেবায় হয়রানি, হলের সিট বণ্টনে রাজনৈতিক প্রভাব ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিনিয়র বুলিংয়ের মতো অভিযোগ তুলে ধরেন।
জরিপে ফলাফলের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন ৫৬ শতাংশ ও শিক্ষকদের দূর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়া সহপাঠীদের থেকে বুলিংয়ের শিকার হন ১৭ শতাংশ শিক্ষার্থী।
জরিপ অনুযায়ী, রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি ৫৬ শতাংশ। এছাড়া লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের অভিযোগ করেছেন ২০ শতাংশ, ধর্মীয় ১৯ শতাংশ, অর্থনৈতিক ১৮ শতাংশ এবং শারীরিক অক্ষমতার কারণে বৈষম্যের অভিযোগ করেছেন ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের মতে, প্রশাসনিক ভবনে সার্টিফিকেট উত্তোলন বা একাডেমিক কাজের ক্ষেত্রে বৈষম্য সবচেয়ে বেশি ঘটে বলে মনে করেন ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়া শ্রেণিকক্ষে বৈষম্যের কথা বলেছেন ৪৯.৫ শতাংশ। এমনকি আবাসিক হল, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন ও বিভাগীয় পর্যায়েও বৈষম্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৈষম্যের কারণে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন অধিকাংশ শিক্ষার্থী। ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী হতাশায় ভুগছেন। আত্মসম্মানহানির কথা উল্লেখ করেছেন ৬৮ শতাংশ ও ৫৯ শতাংশ বিষন্নতায় আক্রান্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। তবে বৈষম্যের শিকার হয়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা যেমন কাউন্সেলিং ও থেরাপি নিয়েছেন মাত্র ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। বাকি ৮৭ শতাংশ কোনো ধরনের সেবা নেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ না থাকায় তারা সেবা গ্রহণ করেননি বলে জানান।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আশেক উল্লাহ বলেন, মানসিক রোগটা আসলে মাল্টিকজেজ। এটি একটি কারণেই ঘটে থাকে বিষয়টি এমন নয়। অনেকগুলো কারণ একসাথে হয়েই মূলত একজন মানুষ মানসিক রোগে ভুগে থাকেন। বাংলাদেশে এটি নিরবে মহামারী আকার ধারণ করেছে। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের অধিকাংশই মানসিক রোগে আক্রান্ত। এজন্য আমাদের পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সকলের সচেতনতা ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
বৈষম্যের শিকার ৮১ শতাংশ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেননি বলে জরিপে উঠে এসেছে। মাত্র ১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন। তবে এসকল অভিযোগকারীদের মধ্যে অধিকাংশই সঠিক প্রতিকার পাননি বলে জানান।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, বাইরের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি বিভাগে চিকিৎসক ও সাইকিয়াট্রিস্ট থাকেন। আমরাও শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। আমাদের শিক্ষাপদ্ধতিতে মোটিভেশন ভিত্তিক শিক্ষাদান প্রায় নেই। আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠদান করি, কিন্তু তাদের মানসিক অবস্থা খুঁজে দেখার চেষ্টা করি না। যদি কোনো ছাত্রের চেহারা মলিন বা চিন্তিত দেখলে আমরা তাদের খোঁজখবর নিতাম, শিক্ষার্থীরা হয়তো তাদের সমস্যার কথা আমাদের কাছে জানাত। আমি মনে করি স্টুডেন্ট এডভাইজরশিপ চালু করা গেলে শিক্ষার্থীরা কিছুটা মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে পারে।

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬
পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। সম্প্রতি ইবি প্রেস ক্লাবের এক জরিপে এ তথ্য উঠে আসে। এসব বৈষম্যের ফলে হতাশা, হীনমন্যতা, বিষন্নতাসহ নানা মানসিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এসকল শিক্ষার্থীদেরকে। জরিপে শিক্ষার্থীরা ফলাফল প্রকাশে বৈষম্য, শিক্ষক দ্বারা নম্বর প্রদানে পক্ষপাতিত্ব, প্রশাসনিক সেবায় হয়রানি, হলের সিট বণ্টনে রাজনৈতিক প্রভাব ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিনিয়র বুলিংয়ের মতো অভিযোগ তুলে ধরেন।
জরিপে ফলাফলের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন ৫৬ শতাংশ ও শিক্ষকদের দূর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়া সহপাঠীদের থেকে বুলিংয়ের শিকার হন ১৭ শতাংশ শিক্ষার্থী।
জরিপ অনুযায়ী, রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি ৫৬ শতাংশ। এছাড়া লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের অভিযোগ করেছেন ২০ শতাংশ, ধর্মীয় ১৯ শতাংশ, অর্থনৈতিক ১৮ শতাংশ এবং শারীরিক অক্ষমতার কারণে বৈষম্যের অভিযোগ করেছেন ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের মতে, প্রশাসনিক ভবনে সার্টিফিকেট উত্তোলন বা একাডেমিক কাজের ক্ষেত্রে বৈষম্য সবচেয়ে বেশি ঘটে বলে মনে করেন ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়া শ্রেণিকক্ষে বৈষম্যের কথা বলেছেন ৪৯.৫ শতাংশ। এমনকি আবাসিক হল, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন ও বিভাগীয় পর্যায়েও বৈষম্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৈষম্যের কারণে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন অধিকাংশ শিক্ষার্থী। ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী হতাশায় ভুগছেন। আত্মসম্মানহানির কথা উল্লেখ করেছেন ৬৮ শতাংশ ও ৫৯ শতাংশ বিষন্নতায় আক্রান্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। তবে বৈষম্যের শিকার হয়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা যেমন কাউন্সেলিং ও থেরাপি নিয়েছেন মাত্র ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। বাকি ৮৭ শতাংশ কোনো ধরনের সেবা নেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ না থাকায় তারা সেবা গ্রহণ করেননি বলে জানান।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আশেক উল্লাহ বলেন, মানসিক রোগটা আসলে মাল্টিকজেজ। এটি একটি কারণেই ঘটে থাকে বিষয়টি এমন নয়। অনেকগুলো কারণ একসাথে হয়েই মূলত একজন মানুষ মানসিক রোগে ভুগে থাকেন। বাংলাদেশে এটি নিরবে মহামারী আকার ধারণ করেছে। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের অধিকাংশই মানসিক রোগে আক্রান্ত। এজন্য আমাদের পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সকলের সচেতনতা ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
বৈষম্যের শিকার ৮১ শতাংশ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেননি বলে জরিপে উঠে এসেছে। মাত্র ১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন। তবে এসকল অভিযোগকারীদের মধ্যে অধিকাংশই সঠিক প্রতিকার পাননি বলে জানান।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, বাইরের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি বিভাগে চিকিৎসক ও সাইকিয়াট্রিস্ট থাকেন। আমরাও শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। আমাদের শিক্ষাপদ্ধতিতে মোটিভেশন ভিত্তিক শিক্ষাদান প্রায় নেই। আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠদান করি, কিন্তু তাদের মানসিক অবস্থা খুঁজে দেখার চেষ্টা করি না। যদি কোনো ছাত্রের চেহারা মলিন বা চিন্তিত দেখলে আমরা তাদের খোঁজখবর নিতাম, শিক্ষার্থীরা হয়তো তাদের সমস্যার কথা আমাদের কাছে জানাত। আমি মনে করি স্টুডেন্ট এডভাইজরশিপ চালু করা গেলে শিক্ষার্থীরা কিছুটা মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন