জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হবে কিনা, এ বিষয়ে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীল আমির শফিকুর রহমানের তোলা মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিরোধী দলীয় নেতার দাখিল করা মুলতবি প্রস্তাবের নোটিসে বলা হয়, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে পরিষদের অধিবেশন না ডাকায় ‘অচলাবস্থা’ তৈরি হয়েছে; ‘জাতির প্রত্যাশা পূরণে’ এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ )সন্ধ্যার পর কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ বিধিতে এই আলোচনা শুরু হয়। এর আগে ২৯ মার্চ সংসদের বৈঠকে ঠিক হয়েছিল, ৩১ মার্চ বিষয়টি নিয়ে দুই ঘণ্টা আলোচনা হবে।
মূলতবি প্রস্তাবের আলোচ্য বিষয়ে বলা হয়েছে, “জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ (আদেশ নং-০১, ২০২৫) এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহবান প্রসঙ্গে।”
প্রস্তাবটি উত্থাপন করে শফিকুর রহমান বলেন, ১৫ মার্চ পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি তোলার পর স্পিকারের পরামর্শে তিনি যথাযথ নোটিস দেন, পরে তা আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আপনাকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি এটা সূচনা করার জন্য।”
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের মানুষের পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়নি; অতীতে ভোটে নির্বাচিত সরকার এলেও ভোটাধিকার বারবার খর্ব করা হয়েছে।”
তার ভাষায়, গত সাড়ে ১৫ বছরে দেশে ‘প্রচণ্ড দুঃশাসন’ চালানো হয়েছে; বহু মানুষ গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ‘ধ্বংস’ করা হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, এটি শুধু তরুণদের আন্দোলন ছিল না; কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, ছাত্রজনতা, এমনকি শিশু সন্তানকে নিয়েও মায়েরা রাস্তায় নেমেছিলেন।
তিনি বলেন, “জুলাইতে হয়েছিল যে ন্যায্যতার ভিত্তিতে, ন্যায়বিচারের উপরে একটা দেশ কায়েম হবে যেখানে সবাই সমান অধিকার পাবে নাগরিক হিসেবে।”
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, দীর্ঘ আলোচনা শেষে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে সংস্কারের প্রস্তাব চূড়ান্ত হয় এবং সেই আলোকে রাষ্ট্রপতি একটি আদেশ জারি করেন।
তিনি বলেন, “যে সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বর্তমান সংসদে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেই বিষয়টিই এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে না।”
শফিকুর রহমান বলেন, “যেই আদেশটি আমি গতদিন সবিস্তারে পড়ে শুনিয়েছি। আজকে আর আমি সেইদিকে যাচ্ছি না। বিরোধী দল থেকে যারা বক্তব্য দেবেন, হয়ত সরকারি দল থেকেও দেবেন। আমরা যেহেতু এই নোটিসটি উত্থাপন করেছি, আমাদেরকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আমার কথা আপাতত এখানে শেষ করছি।”

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হবে কিনা, এ বিষয়ে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীল আমির শফিকুর রহমানের তোলা মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিরোধী দলীয় নেতার দাখিল করা মুলতবি প্রস্তাবের নোটিসে বলা হয়, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে পরিষদের অধিবেশন না ডাকায় ‘অচলাবস্থা’ তৈরি হয়েছে; ‘জাতির প্রত্যাশা পূরণে’ এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ )সন্ধ্যার পর কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ বিধিতে এই আলোচনা শুরু হয়। এর আগে ২৯ মার্চ সংসদের বৈঠকে ঠিক হয়েছিল, ৩১ মার্চ বিষয়টি নিয়ে দুই ঘণ্টা আলোচনা হবে।
মূলতবি প্রস্তাবের আলোচ্য বিষয়ে বলা হয়েছে, “জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ (আদেশ নং-০১, ২০২৫) এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহবান প্রসঙ্গে।”
প্রস্তাবটি উত্থাপন করে শফিকুর রহমান বলেন, ১৫ মার্চ পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি তোলার পর স্পিকারের পরামর্শে তিনি যথাযথ নোটিস দেন, পরে তা আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আপনাকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি এটা সূচনা করার জন্য।”
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের মানুষের পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়নি; অতীতে ভোটে নির্বাচিত সরকার এলেও ভোটাধিকার বারবার খর্ব করা হয়েছে।”
তার ভাষায়, গত সাড়ে ১৫ বছরে দেশে ‘প্রচণ্ড দুঃশাসন’ চালানো হয়েছে; বহু মানুষ গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ‘ধ্বংস’ করা হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, এটি শুধু তরুণদের আন্দোলন ছিল না; কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, ছাত্রজনতা, এমনকি শিশু সন্তানকে নিয়েও মায়েরা রাস্তায় নেমেছিলেন।
তিনি বলেন, “জুলাইতে হয়েছিল যে ন্যায্যতার ভিত্তিতে, ন্যায়বিচারের উপরে একটা দেশ কায়েম হবে যেখানে সবাই সমান অধিকার পাবে নাগরিক হিসেবে।”
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, দীর্ঘ আলোচনা শেষে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে সংস্কারের প্রস্তাব চূড়ান্ত হয় এবং সেই আলোকে রাষ্ট্রপতি একটি আদেশ জারি করেন।
তিনি বলেন, “যে সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বর্তমান সংসদে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেই বিষয়টিই এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে না।”
শফিকুর রহমান বলেন, “যেই আদেশটি আমি গতদিন সবিস্তারে পড়ে শুনিয়েছি। আজকে আর আমি সেইদিকে যাচ্ছি না। বিরোধী দল থেকে যারা বক্তব্য দেবেন, হয়ত সরকারি দল থেকেও দেবেন। আমরা যেহেতু এই নোটিসটি উত্থাপন করেছি, আমাদেরকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আমার কথা আপাতত এখানে শেষ করছি।”

আপনার মতামত লিখুন