জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে এক উত্তপ্ত আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উদ্যোগকে তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ করেছেন। তিনি এই আদেশকে ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’ বা শুরু থেকেই অবৈধ হিসেবে অভিহিত করে একে ‘জাতীয় প্রতারণার দলিল’ বলে বর্ণনা করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্পষ্ট করে বলেন, যে
আদেশের কোনো আইনি ভিত্তি
নেই, সেটি আইনত অবৈধ।
এটি না কোনো অধ্যাদেশ,
না কোনো আইন; বরং
এটি একটি ‘নিউট্রাল জেন্ডার’ বা অন্তহীন প্রতারণার
নামান্তর।
তিনি
আরও যোগ করেন, ১৯৭৩
সালের পর রাষ্ট্রপতির এমন
কোনো আদেশ জারির সাংবিধানিক
ক্ষমতা আর অবশিষ্ট নেই।
মঙ্গলবার
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত একটি মুলতবি প্রস্তাবের
ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এই মন্তব্য করেন। তিনি সংবিধানের বিভিন্ন
অনুচ্ছেদ ও তফসিল উদ্ধৃত
করে বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে
এই আদেশকে বৈধ আইন বলা
হলেও এর জন্মই হয়েছে
অবৈধভাবে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার
ঘোষণাপত্র এবং ১৯৭২ সালের
আদেশ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা থাকলেও ১৯৭৩ সালের প্রথম
সংসদীয় বৈঠকের পর সেই ক্ষমতা
রহিত হয়ে গেছে। ৯৩
অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারলেও
সংবিধানের কোনো বিধান পরিবর্তন
বা রহিত করার এখতিয়ার
তার নেই। এই আদেশের
মাধ্যমে বর্তমান সংসদের সার্বভৌম ক্ষমতা খর্ব করার অপচেষ্টা
চালানো হয়েছে, যা নজিরবিহীন।
গণভোটের
প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ
বলেন, জনগণ জুলাই জাতীয়
সনদের পক্ষে কি না তা
জানতে আমরাই প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যালটে যেভাবে প্রশ্ন সাজানো হয়েছে, তা অনেকটা ‘কুইনাইন
ট্যাবলেট’ কলার ভেতরে ঢুকিয়ে
খাওয়ানোর মতো। তিনটি ভালো
প্রশ্নের সাথে একটি বিতর্কিত
আদেশ চাপিয়ে দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
একইসাথে
তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কঠোর সমালোচনা করে
বলেন, সংসদ সদস্যরা সংবিধানের
১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন, কোনো
সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নয়। সিইসি এই
ফরম সংসদে পাঠিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন ও শপথ ভঙ্গ
করেছেন।
বিএনপির
অবস্থান পরিষ্কার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি
সংস্কারের বিরোধী নয় বরং আমরা
২০২৫ সালের জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর ধারণ করি। তবে
আমরা সেই সংস্কার চাই
যা সংবিধানসম্মত এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব
অক্ষুণ্ণ রাখে।
জুলাই
জাতীয় সনদের ৪৭টি বিষয়ে যে
ঐকমত্য হয়েছে, তা আগামীতে সংসদে
বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে জনগণের ম্যানডেট অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে বলে
তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত
করেন।

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬
জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে এক উত্তপ্ত আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উদ্যোগকে তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ করেছেন। তিনি এই আদেশকে ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’ বা শুরু থেকেই অবৈধ হিসেবে অভিহিত করে একে ‘জাতীয় প্রতারণার দলিল’ বলে বর্ণনা করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্পষ্ট করে বলেন, যে
আদেশের কোনো আইনি ভিত্তি
নেই, সেটি আইনত অবৈধ।
এটি না কোনো অধ্যাদেশ,
না কোনো আইন; বরং
এটি একটি ‘নিউট্রাল জেন্ডার’ বা অন্তহীন প্রতারণার
নামান্তর।
তিনি
আরও যোগ করেন, ১৯৭৩
সালের পর রাষ্ট্রপতির এমন
কোনো আদেশ জারির সাংবিধানিক
ক্ষমতা আর অবশিষ্ট নেই।
মঙ্গলবার
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত একটি মুলতবি প্রস্তাবের
ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এই মন্তব্য করেন। তিনি সংবিধানের বিভিন্ন
অনুচ্ছেদ ও তফসিল উদ্ধৃত
করে বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে
এই আদেশকে বৈধ আইন বলা
হলেও এর জন্মই হয়েছে
অবৈধভাবে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার
ঘোষণাপত্র এবং ১৯৭২ সালের
আদেশ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা থাকলেও ১৯৭৩ সালের প্রথম
সংসদীয় বৈঠকের পর সেই ক্ষমতা
রহিত হয়ে গেছে। ৯৩
অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারলেও
সংবিধানের কোনো বিধান পরিবর্তন
বা রহিত করার এখতিয়ার
তার নেই। এই আদেশের
মাধ্যমে বর্তমান সংসদের সার্বভৌম ক্ষমতা খর্ব করার অপচেষ্টা
চালানো হয়েছে, যা নজিরবিহীন।
গণভোটের
প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ
বলেন, জনগণ জুলাই জাতীয়
সনদের পক্ষে কি না তা
জানতে আমরাই প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যালটে যেভাবে প্রশ্ন সাজানো হয়েছে, তা অনেকটা ‘কুইনাইন
ট্যাবলেট’ কলার ভেতরে ঢুকিয়ে
খাওয়ানোর মতো। তিনটি ভালো
প্রশ্নের সাথে একটি বিতর্কিত
আদেশ চাপিয়ে দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
একইসাথে
তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কঠোর সমালোচনা করে
বলেন, সংসদ সদস্যরা সংবিধানের
১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন, কোনো
সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নয়। সিইসি এই
ফরম সংসদে পাঠিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন ও শপথ ভঙ্গ
করেছেন।
বিএনপির
অবস্থান পরিষ্কার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি
সংস্কারের বিরোধী নয় বরং আমরা
২০২৫ সালের জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর ধারণ করি। তবে
আমরা সেই সংস্কার চাই
যা সংবিধানসম্মত এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব
অক্ষুণ্ণ রাখে।
জুলাই
জাতীয় সনদের ৪৭টি বিষয়ে যে
ঐকমত্য হয়েছে, তা আগামীতে সংসদে
বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে জনগণের ম্যানডেট অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে বলে
তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত
করেন।

আপনার মতামত লিখুন