ডিপো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করায় কোনো পাম্পেই দুই-তিন ঘণ্টার বেশি তেল দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে গ্রাহকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, ২০০ টাকার তেল নিতে গিয়ে আট-দশটি পাম্প ঘুরেও মিলছে না পর্যাপ্ত তেল।
এ ছাড়া রংপুর জেলায় ডিজেল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জেলায় ডিজেলের মজুত ছিল শূন্য। পেট্রোল ছিল ২৬ হাজার ৫০০ লিটার, অকটেন তিন হাজার ৫০০ লিটার এবং কেরোসিন ২৭ হাজার লিটার।
বুধবার (১ এপ্রিল) নগরীর কয়েকটি পাম্পে জ্বালানি তেল আসবে। সেখান থেকে সন্ধ্যার পর বিক্রি করা হবে।
এ বিষয়ে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) রমিজ আলম জানান, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা সার্বিক বিষয় নজরে রাখছি।’
নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, ৫০টি পাম্পের মধ্যে ১৫টিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হলেও কোথাও পেট্রোল থাকলে অকটেন নেই।
নগরীর সালেক পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পে তেল নেই। কর্মচারীরা বলছেন, আগের দিন বিকেলে ডিপো থেকে তিন হাজার লিটার পেট্রোল পাওয়া গেলেও রাতেই তা বিক্রি হয়ে গেছে।
ম্যানেজার আশরাফ জানান, ‘আমাদের স্বাভাবিক চাহিদা ৯ হাজার লিটার। কিন্তু দেওয়া হচ্ছে মাত্র তিন হাজার লিটার। ফলে গ্রাহকদের চাহিদা কোনোভাবেই মেটানো যাচ্ছে না।’
একই অবস্থা নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়ের পেট্রোল পাম্পে। সেখানে পেট্রোল নেই। শুধু অকটেন দেওয়া হচ্ছে জনপ্রতি ২০০ টাকার করে। পাম্পের সামনে আধা মাইল দীর্ঘ মোটরসাইকেলের লাইন। পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছেন, বিকেল তিনটা পর্যন্ত অকটেন দেওয়া যেতে পারে।
তারা জানান, এক দিন পর পর পেট্রোল দেওয়া হয়। প্রয়োজন নয় হাজার লিটার, দেওয়া হয় মাত্র তিন হাজার লিটার। এভাবে কী করে চাহিদা মেটানো সম্ভব?
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুটি পাম্পের ম্যানেজার জানান, জ্বালানি তেলের সংকট আছে, কিন্তু সরকার ও ডিপো তা স্বীকার করতে চায় না।
তারা প্রশ্ন তোলেন, সংকট না থাকলে কেন ডিপো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তিন ভাগের এক ভাগ জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে? পেট্রোল দিলে অকটেন না থাকা এবং রেশনিং না করে স্বাভাবিক নিয়মে তেল সরবরাহ করলে গ্রাহকদের এ ভোগান্তি পোহাতে হতো না।
নগরীর শাপলা চত্বরে দেখা যায় মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। চালকরা বলছেন, আট-দশটি পাম্প ঘুরে দুই-একটিতে তেল পাওয়া যাচ্ছে, তাও আবার ২০০ টাকার। এভাবে তাদের জিম্মি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এনওটিতে চাকরিরত মাঠকর্মী রহমান মজিদ ও ব্যাংক কর্মচারী জুনায়েত মাসুমসহ অনেকে।
এদিকে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাম্পগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নর্দান ট্রেডাস পাম্পে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই শরীফ জানান, ‘আমরা প্রতিটি পাম্পে নিরাপত্তা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছি।’

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬
ডিপো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করায় কোনো পাম্পেই দুই-তিন ঘণ্টার বেশি তেল দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে গ্রাহকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, ২০০ টাকার তেল নিতে গিয়ে আট-দশটি পাম্প ঘুরেও মিলছে না পর্যাপ্ত তেল।
এ ছাড়া রংপুর জেলায় ডিজেল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জেলায় ডিজেলের মজুত ছিল শূন্য। পেট্রোল ছিল ২৬ হাজার ৫০০ লিটার, অকটেন তিন হাজার ৫০০ লিটার এবং কেরোসিন ২৭ হাজার লিটার।
বুধবার (১ এপ্রিল) নগরীর কয়েকটি পাম্পে জ্বালানি তেল আসবে। সেখান থেকে সন্ধ্যার পর বিক্রি করা হবে।
এ বিষয়ে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) রমিজ আলম জানান, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা সার্বিক বিষয় নজরে রাখছি।’
নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, ৫০টি পাম্পের মধ্যে ১৫টিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হলেও কোথাও পেট্রোল থাকলে অকটেন নেই।
নগরীর সালেক পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পে তেল নেই। কর্মচারীরা বলছেন, আগের দিন বিকেলে ডিপো থেকে তিন হাজার লিটার পেট্রোল পাওয়া গেলেও রাতেই তা বিক্রি হয়ে গেছে।
ম্যানেজার আশরাফ জানান, ‘আমাদের স্বাভাবিক চাহিদা ৯ হাজার লিটার। কিন্তু দেওয়া হচ্ছে মাত্র তিন হাজার লিটার। ফলে গ্রাহকদের চাহিদা কোনোভাবেই মেটানো যাচ্ছে না।’
একই অবস্থা নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়ের পেট্রোল পাম্পে। সেখানে পেট্রোল নেই। শুধু অকটেন দেওয়া হচ্ছে জনপ্রতি ২০০ টাকার করে। পাম্পের সামনে আধা মাইল দীর্ঘ মোটরসাইকেলের লাইন। পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছেন, বিকেল তিনটা পর্যন্ত অকটেন দেওয়া যেতে পারে।
তারা জানান, এক দিন পর পর পেট্রোল দেওয়া হয়। প্রয়োজন নয় হাজার লিটার, দেওয়া হয় মাত্র তিন হাজার লিটার। এভাবে কী করে চাহিদা মেটানো সম্ভব?
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুটি পাম্পের ম্যানেজার জানান, জ্বালানি তেলের সংকট আছে, কিন্তু সরকার ও ডিপো তা স্বীকার করতে চায় না।
তারা প্রশ্ন তোলেন, সংকট না থাকলে কেন ডিপো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তিন ভাগের এক ভাগ জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে? পেট্রোল দিলে অকটেন না থাকা এবং রেশনিং না করে স্বাভাবিক নিয়মে তেল সরবরাহ করলে গ্রাহকদের এ ভোগান্তি পোহাতে হতো না।
নগরীর শাপলা চত্বরে দেখা যায় মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। চালকরা বলছেন, আট-দশটি পাম্প ঘুরে দুই-একটিতে তেল পাওয়া যাচ্ছে, তাও আবার ২০০ টাকার। এভাবে তাদের জিম্মি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এনওটিতে চাকরিরত মাঠকর্মী রহমান মজিদ ও ব্যাংক কর্মচারী জুনায়েত মাসুমসহ অনেকে।
এদিকে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাম্পগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নর্দান ট্রেডাস পাম্পে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই শরীফ জানান, ‘আমরা প্রতিটি পাম্পে নিরাপত্তা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছি।’

আপনার মতামত লিখুন