পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গজ, ব্যান্ডেজ, সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেটের মতো অতিপ্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হাসপাতালে না থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচ ও ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। চিকিৎসার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহেও বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য কেবল স্যালাইন পাওয়া গেলেও অন্যান্য সরঞ্জাম নেই। শ্রীরামপুর ইউনিয়ন থেকে আসা সোহেল (২৫) নামের এক রোগী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যদি সব সরঞ্জাম বাইরে থেকে কিনতে হয়, তবে আমাদের জন্য কষ্ট হয়ে যায়। গরিব মানুষ কোথায় যাবে?
একই চিত্র দেখা গেছে মহিলা ওয়ার্ডেও। সেখানে ভর্তি এক রোগীর স্বজন রিনা বেগম অভিযোগ করেন, চিকিৎসকেরা ব্যবস্থাপত্র দিলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হাসপাতালে পাওয়া যায় না। ফার্মেসি থেকে বেশি দামে এসব কিনতে হচ্ছে।
জ্বর ও কাশি নিয়ে ভর্তি থাকা সজিব (২৭) বলেন, কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে আছেন তিনি। প্রতিদিন কোনো না কোনো সরঞ্জাম বাইরে থেকে কিনতে হওয়ায় চিকিৎসার খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুধু সাধারণ চিকিৎসাসামগ্রী নয়, মাঠপর্যায়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীরও দীর্ঘদিন ধরে সংকট চলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাঠকর্মীরা সাধারণত কনডম, খাওয়ার বড়ি, আইইউডি, ইনজেকশন ও ইমপ্ল্যান্ট-এই পাঁচ ধরনের সামগ্রী বিতরণ করেন। এর মধ্যে কনডম ও বড়ির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। অধিদপ্তরের হিসাবে, প্রতি মাসে মাঠকর্মীরা ৫০ লাখ ৩৫ হাজার কনডম ও ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার সাইকেল বড়ি দম্পতিদের কাছে পৌঁছে দেন। তবে বর্তমানে সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান বলেন, এসব সামগ্রী দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা হয়। এ বছর দরপত্র অনুমোদনের জন্য পরিচালকের কাছে পাঠানো হলেও সেখানে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে এখনো কেনাকাটা করা সম্ভব হয়নি। তবে বিকল্প বিভিন্ন উৎস থেকে এসব সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
ডা. মীর শহীদুল হাসান আরও বলেন, ‘আশা করা যাচ্ছে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হবে। এরপর ঠিকাদারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সব সামগ্রী সরবরাহ করা সম্ভব হবে।’
আপনার মতামত লিখুন