ঈদুল ফিতরের সময় দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৮৮ জন আহত হয়েছেন। শুধু সড়কপথেই ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জনের প্রাণ গেছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এই তথ্য। প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছরের তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৮.৯৫ শতাংশ। প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। এবার ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন মারা গেছেন। ঈদে মোটরসাইকেলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। একই সঙ্গে মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল পরিস্থিতি আরও জটিল করছে। এই যানবাহনগুলো দ্রুতগতির সড়কে চলার উপযুক্ত নয়, তবু চলছে। কারণ একটাই—নিয়ন্ত্রণের অভাব।
দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি জাতীয় মহাসড়কে। দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন। এছাড়া বেপরোয়া গতি এবং রাস্তার অবকাঠামোগত ত্রুটিও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। ঈদ ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি সভায় যাত্রী বা নাগরিক সমাজের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রভাবে এই সভাগুলো একপাক্ষিক হয়ে পড়ে। ফলে যাদের নিরাপত্তার জন্য পরিকল্পনা, তারাই সেই পরিকল্পনার বাইরে থাকেন। এই চর্চা বন্ধ হওয়া দরকার।
প্রতি ঈদে একই ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি দেখে বোঝা যায়, সড়ক নিরাপত্তা এখনো আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকারের তালিকায় যথাযথ স্থান পায়নি। সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পরিবহন খাতের সব অংশীজনকে মিলে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। যাতে আগামী দিনে ঈদযাত্রা আর মৃত্যুর যাত্রা না হয়।

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬
ঈদুল ফিতরের সময় দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৮৮ জন আহত হয়েছেন। শুধু সড়কপথেই ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জনের প্রাণ গেছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এই তথ্য। প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছরের তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৮.৯৫ শতাংশ। প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। এবার ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন মারা গেছেন। ঈদে মোটরসাইকেলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। একই সঙ্গে মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল পরিস্থিতি আরও জটিল করছে। এই যানবাহনগুলো দ্রুতগতির সড়কে চলার উপযুক্ত নয়, তবু চলছে। কারণ একটাই—নিয়ন্ত্রণের অভাব।
দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি জাতীয় মহাসড়কে। দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন। এছাড়া বেপরোয়া গতি এবং রাস্তার অবকাঠামোগত ত্রুটিও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। ঈদ ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি সভায় যাত্রী বা নাগরিক সমাজের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রভাবে এই সভাগুলো একপাক্ষিক হয়ে পড়ে। ফলে যাদের নিরাপত্তার জন্য পরিকল্পনা, তারাই সেই পরিকল্পনার বাইরে থাকেন। এই চর্চা বন্ধ হওয়া দরকার।
প্রতি ঈদে একই ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি দেখে বোঝা যায়, সড়ক নিরাপত্তা এখনো আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকারের তালিকায় যথাযথ স্থান পায়নি। সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পরিবহন খাতের সব অংশীজনকে মিলে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। যাতে আগামী দিনে ঈদযাত্রা আর মৃত্যুর যাত্রা না হয়।

আপনার মতামত লিখুন