হাম, মিজলস বা রুবিওলা, বর্তমান সময়ে এক আতঙ্কের নাম। এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। শিশুদের মাঝে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়, তবে তার মানে এই নয় যে এটি শুধু শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, এই ভাইরাস সব বয়সের মানুষকেই আক্রমণ করতে পারে। যেহেতু এই রোগ অতি সংক্রামক, সেহেতু আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি বা কাশি দিলে, আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকা, তার সঙ্গে কথা বলা বা তার আশপাশে সময় কাটালে সংক্রমণ ঘটতে পারে। এছাড়া ভাইরাসযুক্ত বস্তু, যেমন দরজার হাতল বা টেবিল স্পর্শ করে পরে চোখ, নাক বা মুখে হাত দিলে এই রোগ ছড়াতে পারে। এই ভাইরাস কিছু সময় বাতাসে ভেসে থাকতে সক্ষম, তাই একই ঘরে থাকলে অন্য ব্যক্তি সহজেই আক্রান্ত হতে পারে।
আমরা কিছু সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ অনুসরণ করলে হাম থেকে রক্ষা পেতে পারি। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক বয়সে মিসেলস, মাম্পস, রুবেলা (গগজ) টিকা নেয়া, যা শিশুর শরীরকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে। এয়াড়া সংক্রমণ থেকে নিজেকে ও শিশুকে রক্ষা করতে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি না যাওয়া, হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ঢেকে নেয়া বা টিস্যু ব্যবহার করা, এবং ঘনবসতিপূর্ণ জায়গা বা জনসমাগম এড়িয়ে চলা খুব জরুরি। কেউ যদি মনে করে সে হাম আক্রান্ত রোগির সান্নিধ্যে এসেছে এবং তার হাম হতে পারে বলে সন্দেহ করে, তাহলে তার উচিত সংস্পর্শে আসার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামের টিকা নেওয়া অথবা সংস্পর্শে আসার ছয় দিনের মধ্যে ইমিউন গ্লোবুলিন নেয়া।
আমাদের মাথায় রাখতে হবে, হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা এখনও আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। যদি কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত হয়ে যায়, তাহলে তার যে কাজ করার ক্ষেত্রে মোটেও অবহেলা করা যাবেনা তা হলোঃ কোনোভাবে কালক্ষেপন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া, শিশুদের টিকার আওতায় নিয়ে আসা, প্রচুর পরিমাণে তরল পান করা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম অপরিহার্য একটি উপাদান, স্টিম ইনহেলেশন ব্যবহার করা, যা গলা প্রশমিত করতে এবং কাশি কমাতে সাহায্য করে, উচ্চমাত্রার ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া। বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকার মজুত করতে হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটার আগে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যেন পাওয়া যায়, সে বিষয়ে এখন থেকেই আলোচনা করে যেতে হবে। ল্যাব সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে।
আরিফ উল্লাহ

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬
হাম, মিজলস বা রুবিওলা, বর্তমান সময়ে এক আতঙ্কের নাম। এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। শিশুদের মাঝে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়, তবে তার মানে এই নয় যে এটি শুধু শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, এই ভাইরাস সব বয়সের মানুষকেই আক্রমণ করতে পারে। যেহেতু এই রোগ অতি সংক্রামক, সেহেতু আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি বা কাশি দিলে, আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকা, তার সঙ্গে কথা বলা বা তার আশপাশে সময় কাটালে সংক্রমণ ঘটতে পারে। এছাড়া ভাইরাসযুক্ত বস্তু, যেমন দরজার হাতল বা টেবিল স্পর্শ করে পরে চোখ, নাক বা মুখে হাত দিলে এই রোগ ছড়াতে পারে। এই ভাইরাস কিছু সময় বাতাসে ভেসে থাকতে সক্ষম, তাই একই ঘরে থাকলে অন্য ব্যক্তি সহজেই আক্রান্ত হতে পারে।
আমরা কিছু সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ অনুসরণ করলে হাম থেকে রক্ষা পেতে পারি। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক বয়সে মিসেলস, মাম্পস, রুবেলা (গগজ) টিকা নেয়া, যা শিশুর শরীরকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে। এয়াড়া সংক্রমণ থেকে নিজেকে ও শিশুকে রক্ষা করতে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি না যাওয়া, হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ঢেকে নেয়া বা টিস্যু ব্যবহার করা, এবং ঘনবসতিপূর্ণ জায়গা বা জনসমাগম এড়িয়ে চলা খুব জরুরি। কেউ যদি মনে করে সে হাম আক্রান্ত রোগির সান্নিধ্যে এসেছে এবং তার হাম হতে পারে বলে সন্দেহ করে, তাহলে তার উচিত সংস্পর্শে আসার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামের টিকা নেওয়া অথবা সংস্পর্শে আসার ছয় দিনের মধ্যে ইমিউন গ্লোবুলিন নেয়া।
আমাদের মাথায় রাখতে হবে, হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা এখনও আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। যদি কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত হয়ে যায়, তাহলে তার যে কাজ করার ক্ষেত্রে মোটেও অবহেলা করা যাবেনা তা হলোঃ কোনোভাবে কালক্ষেপন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া, শিশুদের টিকার আওতায় নিয়ে আসা, প্রচুর পরিমাণে তরল পান করা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম অপরিহার্য একটি উপাদান, স্টিম ইনহেলেশন ব্যবহার করা, যা গলা প্রশমিত করতে এবং কাশি কমাতে সাহায্য করে, উচ্চমাত্রার ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া। বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকার মজুত করতে হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটার আগে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যেন পাওয়া যায়, সে বিষয়ে এখন থেকেই আলোচনা করে যেতে হবে। ল্যাব সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে।
আরিফ উল্লাহ

আপনার মতামত লিখুন