বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে। সরকার ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করতে চায়। নিঃসন্দেহে এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে, গতানুগতিক ধারায় খাল খনন করা হলে খননের অর্থ খালেই যাবে। কারণ বিগত বেশ কিছু বছরযাবত খননকৃত খালগুলো কোনো কাজেই আসেনি। না সেসব খাল বর্ষা মৌসুমের পানি নিষ্কাশনে কাজে লেগেছে, না শুষ্ক মৌসুমে সেচের কাজে লেগেছে। বরং এটা বলা যায় যে, সেগুলো ছিল খাল কেটে নালা বানানোর প্রকল্প। এটা নিয়ে নাগরিক সমাজকে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, কিন্তু কোনো কাজে আসেনি।
খননকৃত খালগুলোর মূল সমস্যা নাব্যতা সংকটে ভরাট হয়ে যাওয়া। খালগুলোর বুক ছিল বিলের চেয়ে উঁচু। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন তো দূরে থাক, উল্টো খালের পানিতে বিল তো একাকার হয়ই, জনপদও ডুবে যায়।
খাল খননের এই চিরচেনা দৃশ্য আর দেখতে চাই না। এজন্য খনন প্রক্রিয়ায় কৌশলগত পরিবর্তন আবশ্যক।
চলমান খনন কর্মসূচিতে খালের গভীরতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে। অর্থাৎ বিলের চেয়ে খালের বুক উঁচু- এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। বর্তমানে খননের ক্ষেত্রে যেটা করা হচ্ছে- তা বেশ হাস্যকর। ধরুন- একটি খাল ৬ ফিট গভীর। উপরের অংশে প্রস্থ ২০ ফিট। প্রাক্কলন অনুযায়ী, খননের পর খালটি ১৫ ফিট গভীর হওয়ার কথা। আর উপরের অংশের প্রস্থ ৩০ ফিট। সাম্প্রতিক বছরগুলো দেখা গেছে, স্কেভেটর দিয়ে খাল খননের পর প্রাক্কলন অনুযায়ী ১৫ ফিট গভীর ও ওপরের অংশের প্রস্থ ৩০ ফিট হয়েছে। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে গভীরতা বাড়েনি এক ইঞ্চিও। কারণ খালের দুই পাশের মাটি কেটে বিদ্যমান পাড়ের ওপরে ফেলে পাহাড়ের মতো ঢিবি বানানো হয়েছে। এবং পূর্বের গভীরতা থেকে পাহাড়ের ঢিবির ওপরের অংশ পর্যন্ত মেপে গভীরতা দেখানো হয়েছে। এটাই বাস্তবতা। এতে খাল তার পূর্বের আকৃতি হারিয়ে যেমন নালা আকৃতিতে রূপান্তর হয়, তেমনি খাল খননের পরও তা বর্ষা মৌসুমের বিলের পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা ফিরে পায় না। জলাধার হিসেবেও বাড়ে না পানির ধারণ ক্ষমতা।
খাল খননের মাটি বিক্রি নিয়েও প্রান্তিক পর্যায়ে নানা ঘটনা চোখে পড়ে। তাই খননের মাটি ব্যবস্থাপনায়ও কঠোর হতে হবে। প্রথমত, খননের মাটি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিতে হবে স্থানীয় সরকারকে। দ্বিতীয়ত, খাল খননের মাটি দিয়ে পতিত নিচুঁ জমি ভরাট, প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি স্থাপনা বিশেষ করে সারাদেশের বিনা, বারি, ব্রির গবেষণা প্লটসহ অন্য চত্বর ভরাট করতে হবে। এতে এসব কাজে আলাদা বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না। সরকারের অর্থ সাশ্রয় হবে। তাই খাল খননের আগেই পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও মৎস্য অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয় হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু দেখা যায়, বাস্তবে দেখা পানি উন্নয়ন বোর্ড খাল কেটে নালা বানায়, যা সুফলের পরিবর্তে বিপর্যয় ডেকে আনে। এজন্য সরকারকে খাল খনন কর্মসূচিতে বাস্তবতার নিরিখে তদারকির উদ্যোগ নিতে হবে।
তানজির কচি

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬
বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে। সরকার ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করতে চায়। নিঃসন্দেহে এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে, গতানুগতিক ধারায় খাল খনন করা হলে খননের অর্থ খালেই যাবে। কারণ বিগত বেশ কিছু বছরযাবত খননকৃত খালগুলো কোনো কাজেই আসেনি। না সেসব খাল বর্ষা মৌসুমের পানি নিষ্কাশনে কাজে লেগেছে, না শুষ্ক মৌসুমে সেচের কাজে লেগেছে। বরং এটা বলা যায় যে, সেগুলো ছিল খাল কেটে নালা বানানোর প্রকল্প। এটা নিয়ে নাগরিক সমাজকে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, কিন্তু কোনো কাজে আসেনি।
খননকৃত খালগুলোর মূল সমস্যা নাব্যতা সংকটে ভরাট হয়ে যাওয়া। খালগুলোর বুক ছিল বিলের চেয়ে উঁচু। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন তো দূরে থাক, উল্টো খালের পানিতে বিল তো একাকার হয়ই, জনপদও ডুবে যায়।
খাল খননের এই চিরচেনা দৃশ্য আর দেখতে চাই না। এজন্য খনন প্রক্রিয়ায় কৌশলগত পরিবর্তন আবশ্যক।
চলমান খনন কর্মসূচিতে খালের গভীরতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে। অর্থাৎ বিলের চেয়ে খালের বুক উঁচু- এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। বর্তমানে খননের ক্ষেত্রে যেটা করা হচ্ছে- তা বেশ হাস্যকর। ধরুন- একটি খাল ৬ ফিট গভীর। উপরের অংশে প্রস্থ ২০ ফিট। প্রাক্কলন অনুযায়ী, খননের পর খালটি ১৫ ফিট গভীর হওয়ার কথা। আর উপরের অংশের প্রস্থ ৩০ ফিট। সাম্প্রতিক বছরগুলো দেখা গেছে, স্কেভেটর দিয়ে খাল খননের পর প্রাক্কলন অনুযায়ী ১৫ ফিট গভীর ও ওপরের অংশের প্রস্থ ৩০ ফিট হয়েছে। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে গভীরতা বাড়েনি এক ইঞ্চিও। কারণ খালের দুই পাশের মাটি কেটে বিদ্যমান পাড়ের ওপরে ফেলে পাহাড়ের মতো ঢিবি বানানো হয়েছে। এবং পূর্বের গভীরতা থেকে পাহাড়ের ঢিবির ওপরের অংশ পর্যন্ত মেপে গভীরতা দেখানো হয়েছে। এটাই বাস্তবতা। এতে খাল তার পূর্বের আকৃতি হারিয়ে যেমন নালা আকৃতিতে রূপান্তর হয়, তেমনি খাল খননের পরও তা বর্ষা মৌসুমের বিলের পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা ফিরে পায় না। জলাধার হিসেবেও বাড়ে না পানির ধারণ ক্ষমতা।
খাল খননের মাটি বিক্রি নিয়েও প্রান্তিক পর্যায়ে নানা ঘটনা চোখে পড়ে। তাই খননের মাটি ব্যবস্থাপনায়ও কঠোর হতে হবে। প্রথমত, খননের মাটি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিতে হবে স্থানীয় সরকারকে। দ্বিতীয়ত, খাল খননের মাটি দিয়ে পতিত নিচুঁ জমি ভরাট, প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি স্থাপনা বিশেষ করে সারাদেশের বিনা, বারি, ব্রির গবেষণা প্লটসহ অন্য চত্বর ভরাট করতে হবে। এতে এসব কাজে আলাদা বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না। সরকারের অর্থ সাশ্রয় হবে। তাই খাল খননের আগেই পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও মৎস্য অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয় হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু দেখা যায়, বাস্তবে দেখা পানি উন্নয়ন বোর্ড খাল কেটে নালা বানায়, যা সুফলের পরিবর্তে বিপর্যয় ডেকে আনে। এজন্য সরকারকে খাল খনন কর্মসূচিতে বাস্তবতার নিরিখে তদারকির উদ্যোগ নিতে হবে।
তানজির কচি

আপনার মতামত লিখুন