রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ‘ছিনিমিনি খেলছে’ একটি সংঘবদ্ধ চক্র। দীর্ঘ চার মাস ধরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে জীবনরক্ষাকারী দেশি-বিদেশি ওষুধ গোপনে নকল করে আসছিলো তারা।
সুনির্দিষ্ট
তথ্যের ভিত্তিতে
বুধবার কেরানীগঞ্জের আর্টিবাজার ও জোয়াইন এলাকায়
অভিযান চালায় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর
ও র্যাব। অভিযানে প্রায় তিন ট্রাক পরিমাণ
নকল, ভেজাল ও নিবন্ধনহীন ওষুধসহ
বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
এ সময় কারখানার মূল
হোতাকে কারাদণ্ড প্রদানের পাশাপাশি বাড়িওয়ালাকেও বড় অঙ্কের জরিমানা
করা হয়।
ওষুধের
দোকানের মালিক ও ব্যবসায়ী জিয়াউর
রহমান মুঠোফোনে সংবাদকে বলেন, যারা জীবনরক্ষাকারী ওষুধ
নকল করে তাদের আইনের আওতায় আনা উচিৎ।
ওষুধ
প্রশাসন ও র্যাব জানায়,
কেরানীগঞ্জের জোয়াইন এলাকার একটি নির্জন বাড়ি
ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা
হয়েছিলো এই ‘বিষাক্ত সাম্রাজ্য’।
সেখানে কয়েকটি রুমে যন্ত্রপাতির মাধ্যমে
অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে
নিষিদ্ধ সব ওষুধ তৈরি
করা হচ্ছিলো। শুধু বড়দের ওষুধই
নয়, সেখানে শিশুদের জন্য তৈরি করা
হতো নকল জুস।
র্যাবের
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল হাসানের
উপস্থিতিতে এই বিশেষ অভিযান
পরিচালনা করা হয়। অভিযানে
৬ থেকে ১০ ধরনের
নকল ওষুধ, তা তৈরির কাঁচামাল
জব্দ করা হয় এবং
যার পরিমাণ ৩টি ট্রাক পূর্ণ
করার সমান।
এই ঘটনায় জড়িত মজিব হোসেন
নামে এক ব্যক্তিকে এক
বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ লাখ
টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই
সাথে অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য
ঘর ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে
বাড়ির মালিককে ১ লাখ টাকা
জরিমানা করা হয়।
নাম প্রকাশে
অনিচ্ছুক একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার মতে, ওষুধ নকলবাজদের বিশেষ ক্ষমতা আইনে সর্বোচ্চ
সাজা হলেই, নকল ওষুধ তৈরী কমবে।
ঔষধ
প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুর রশিদ অভিযানের বিষয়টি
নিশ্চিত করেছেন। সংস্থাটির পরিচালক আখতার হোসেন জানান, "আমরা নকল ভেজাল
ওষুধ উদ্ধারে নিরবচ্ছিন্ন কাজ করছি। সম্প্রতি
জীবনরক্ষাকারী হিউম্যান অ্যালবুমিন ইনজেকশনও নকল হয়েছে। আমরা
অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায়
আনতে কাজ করছি এবং
বিভিন্ন সংস্থাকে এ বিষয়ে সতর্ক
করা হয়েছে।"
বিশেষজ্ঞদের
মতে, এই ধরনের ভেজাল
ওষুধ সেবন মৃত্যুর কারন।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) আইসিইউ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবব্রত বণিক
সংবাদকে বলেন,
"নকল ওষুধ রোগীর কোনো
কাজেই লাগে না, বরং
উল্টো কিডনি, লিভার, ব্রেন ও স্কিনের মারাত্মক
ক্ষতি করে। ক্ষতিকর কেমিক্যাল
ব্যবহারের ফলে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি
বহুগুণ বেড়ে যায়।"
অপরাধ
বিষয়ক সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ আহমেদ গাজী
এই প্রসঙ্গে সংবাদকে বলেন, "ড্রাগ আইনে নকলবাজদের সর্বোচ্চ
শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত যাতে
কেউ ভবিষ্যতে এমন সাহস না
পায়।"
গোয়েন্দা
কর্মকর্তাদের ধারণা, জিনজিরা, আর্টিবাজার, কলাতিয়াসহ কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট ঘরে
এমন আরও কারখানা থাকতে
পারে। এ সব ভেজাল ওষুধ
নদীপথে মিটফোর্ড হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে
সারা দেশের দোকানে।
বাংলাদেশ
কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির
নেতা আল আমিন হোসেন
খান ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদকে বলেন, "জীবনরক্ষাকারী ওষুধ যারা নকল
করে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি বা মৃত্যুদণ্ড হওয়া
উচিত। কোনো বিক্রেতা এ
সব ওষুধ বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধেও
কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ‘ছিনিমিনি খেলছে’ একটি সংঘবদ্ধ চক্র। দীর্ঘ চার মাস ধরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে জীবনরক্ষাকারী দেশি-বিদেশি ওষুধ গোপনে নকল করে আসছিলো তারা।
সুনির্দিষ্ট
তথ্যের ভিত্তিতে
বুধবার কেরানীগঞ্জের আর্টিবাজার ও জোয়াইন এলাকায়
অভিযান চালায় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর
ও র্যাব। অভিযানে প্রায় তিন ট্রাক পরিমাণ
নকল, ভেজাল ও নিবন্ধনহীন ওষুধসহ
বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
এ সময় কারখানার মূল
হোতাকে কারাদণ্ড প্রদানের পাশাপাশি বাড়িওয়ালাকেও বড় অঙ্কের জরিমানা
করা হয়।
ওষুধের
দোকানের মালিক ও ব্যবসায়ী জিয়াউর
রহমান মুঠোফোনে সংবাদকে বলেন, যারা জীবনরক্ষাকারী ওষুধ
নকল করে তাদের আইনের আওতায় আনা উচিৎ।
ওষুধ
প্রশাসন ও র্যাব জানায়,
কেরানীগঞ্জের জোয়াইন এলাকার একটি নির্জন বাড়ি
ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা
হয়েছিলো এই ‘বিষাক্ত সাম্রাজ্য’।
সেখানে কয়েকটি রুমে যন্ত্রপাতির মাধ্যমে
অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে
নিষিদ্ধ সব ওষুধ তৈরি
করা হচ্ছিলো। শুধু বড়দের ওষুধই
নয়, সেখানে শিশুদের জন্য তৈরি করা
হতো নকল জুস।
র্যাবের
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল হাসানের
উপস্থিতিতে এই বিশেষ অভিযান
পরিচালনা করা হয়। অভিযানে
৬ থেকে ১০ ধরনের
নকল ওষুধ, তা তৈরির কাঁচামাল
জব্দ করা হয় এবং
যার পরিমাণ ৩টি ট্রাক পূর্ণ
করার সমান।
এই ঘটনায় জড়িত মজিব হোসেন
নামে এক ব্যক্তিকে এক
বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ লাখ
টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই
সাথে অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য
ঘর ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে
বাড়ির মালিককে ১ লাখ টাকা
জরিমানা করা হয়।
নাম প্রকাশে
অনিচ্ছুক একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার মতে, ওষুধ নকলবাজদের বিশেষ ক্ষমতা আইনে সর্বোচ্চ
সাজা হলেই, নকল ওষুধ তৈরী কমবে।
ঔষধ
প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুর রশিদ অভিযানের বিষয়টি
নিশ্চিত করেছেন। সংস্থাটির পরিচালক আখতার হোসেন জানান, "আমরা নকল ভেজাল
ওষুধ উদ্ধারে নিরবচ্ছিন্ন কাজ করছি। সম্প্রতি
জীবনরক্ষাকারী হিউম্যান অ্যালবুমিন ইনজেকশনও নকল হয়েছে। আমরা
অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায়
আনতে কাজ করছি এবং
বিভিন্ন সংস্থাকে এ বিষয়ে সতর্ক
করা হয়েছে।"
বিশেষজ্ঞদের
মতে, এই ধরনের ভেজাল
ওষুধ সেবন মৃত্যুর কারন।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) আইসিইউ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবব্রত বণিক
সংবাদকে বলেন,
"নকল ওষুধ রোগীর কোনো
কাজেই লাগে না, বরং
উল্টো কিডনি, লিভার, ব্রেন ও স্কিনের মারাত্মক
ক্ষতি করে। ক্ষতিকর কেমিক্যাল
ব্যবহারের ফলে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি
বহুগুণ বেড়ে যায়।"
অপরাধ
বিষয়ক সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ আহমেদ গাজী
এই প্রসঙ্গে সংবাদকে বলেন, "ড্রাগ আইনে নকলবাজদের সর্বোচ্চ
শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত যাতে
কেউ ভবিষ্যতে এমন সাহস না
পায়।"
গোয়েন্দা
কর্মকর্তাদের ধারণা, জিনজিরা, আর্টিবাজার, কলাতিয়াসহ কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট ঘরে
এমন আরও কারখানা থাকতে
পারে। এ সব ভেজাল ওষুধ
নদীপথে মিটফোর্ড হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে
সারা দেশের দোকানে।
বাংলাদেশ
কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির
নেতা আল আমিন হোসেন
খান ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদকে বলেন, "জীবনরক্ষাকারী ওষুধ যারা নকল
করে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি বা মৃত্যুদণ্ড হওয়া
উচিত। কোনো বিক্রেতা এ
সব ওষুধ বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধেও
কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

আপনার মতামত লিখুন