চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের পেছনে সাবেক তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের কোনো ব্যক্তিগত নির্দেশনা ছিল না বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী।
জুনায়েদ আহমেদ পলকের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আইনজীবী লিটন আহমেদ বলেন, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশে যে ইন্টারনেট বিভ্রাট বা সীমিত হওয়া দেখা গিয়েছিল, তা মূলত কারিগরি ও বাহ্যিক ক্ষয়ক্ষতির কারণে। ”
আইনজীবী দাবি করে বলেন, “মহাখালীতে অবস্থিত ডেটা সেন্টার, বিটিভি ভবন এবং মেট্রোরেলের স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ফলে ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হয়। এছাড়া প্রচলিত টেলিকমিউনিকেশন আইন অনুযায়ী, ইন্টারনেট বন্ধ বা চালু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি ক্ষমতা এককভাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নেই। ”
ইন্টারনেট বন্ধের আইনি ক্ষমতা বিটিআরসি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের ওপর ন্যস্ত বলেও মন্তব্য করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। পলক ব্যক্তিগতভাবে কোনো টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে ইন্টারনেট বন্ধের লিখিত বা মৌখিক আদেশ দেননি বলে জানান লিটন আহমেদ।
বুধবার (১ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১ এ আসামিপক্ষের জেরা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান পলকের আইনজীবী এম লিটন। মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে সিআইডি বিশেষজ্ঞ আতিকুর রহমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া অডিও রেকর্ডের কণ্ঠটি পলকের নয় বলে দাবি করে আইনজীবী লিটন আহমেদ বলেন, “অডিওটির ফরেনসিক পরীক্ষা ত্রুটিপূর্ণ এবং এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে করা হয়নি।" শুধুমাত্র সিআইডির ল্যাবে করা এই পরীক্ষায় কোথা থেকে কীভাবে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কার কার নমুনার সঙ্গে তা মেলানো হয়েছে- তার বিস্তারিত তথ্য ফরেনসিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
মানবতাবিরোধী একটি অপরাধের জন্য যে ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন, সেইরূপ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন আসামিপক্ষের এ আইনজীবী। ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন না করে ফরেনসিক টেস্ট করা হয়েছে দাবি করে তিনি লিটন আহমেদ বলেন, “প্রোপার পদ্ধতি অনুসরণ করে সেটা করা উচিত ছিল। ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিসসহ আরও আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, সেটা করা হয়নি।”
আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরা বলেছি এটা ত্রুটিপূর্ণ এবং ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতি অনুসরণ করে তারা এই টেস্ট করেছে এবং সেজন্যই সেখানে আমাদের আপত্তি আছে।”
ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশনার সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো সম্পর্ক বা ‘নেক্সাস’ নেই বলে জানান এই আইনজীবী। তিনি জানান, মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতে ইন্টারনেট বন্ধের কারণে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে—এমন যুক্তিতে পৃথিবীর কোথাও বিচার বা সাজা হওয়ার নজির নেই।
এ বিষয়ে আইনজীবী বলেন, “এ পর্যন্ত পৃথিবীব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধের মৌখিক নির্দেশনার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে, এইরূপ একটিও অপরাধে পৃথিবীব্যাপী কোনো বিচার বা সাজা হয়েছে বলে এমন নজির নাই।”
জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত ‘ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যার’ ঘটনায় পলক ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলছে। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও জেরা চলছে।মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১২ এপ্রিল দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের পেছনে সাবেক তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের কোনো ব্যক্তিগত নির্দেশনা ছিল না বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী।
জুনায়েদ আহমেদ পলকের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আইনজীবী লিটন আহমেদ বলেন, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশে যে ইন্টারনেট বিভ্রাট বা সীমিত হওয়া দেখা গিয়েছিল, তা মূলত কারিগরি ও বাহ্যিক ক্ষয়ক্ষতির কারণে। ”
আইনজীবী দাবি করে বলেন, “মহাখালীতে অবস্থিত ডেটা সেন্টার, বিটিভি ভবন এবং মেট্রোরেলের স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ফলে ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হয়। এছাড়া প্রচলিত টেলিকমিউনিকেশন আইন অনুযায়ী, ইন্টারনেট বন্ধ বা চালু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি ক্ষমতা এককভাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নেই। ”
ইন্টারনেট বন্ধের আইনি ক্ষমতা বিটিআরসি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের ওপর ন্যস্ত বলেও মন্তব্য করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। পলক ব্যক্তিগতভাবে কোনো টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে ইন্টারনেট বন্ধের লিখিত বা মৌখিক আদেশ দেননি বলে জানান লিটন আহমেদ।
বুধবার (১ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১ এ আসামিপক্ষের জেরা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান পলকের আইনজীবী এম লিটন। মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে সিআইডি বিশেষজ্ঞ আতিকুর রহমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া অডিও রেকর্ডের কণ্ঠটি পলকের নয় বলে দাবি করে আইনজীবী লিটন আহমেদ বলেন, “অডিওটির ফরেনসিক পরীক্ষা ত্রুটিপূর্ণ এবং এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে করা হয়নি।" শুধুমাত্র সিআইডির ল্যাবে করা এই পরীক্ষায় কোথা থেকে কীভাবে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কার কার নমুনার সঙ্গে তা মেলানো হয়েছে- তার বিস্তারিত তথ্য ফরেনসিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
মানবতাবিরোধী একটি অপরাধের জন্য যে ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন, সেইরূপ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন আসামিপক্ষের এ আইনজীবী। ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন না করে ফরেনসিক টেস্ট করা হয়েছে দাবি করে তিনি লিটন আহমেদ বলেন, “প্রোপার পদ্ধতি অনুসরণ করে সেটা করা উচিত ছিল। ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিসসহ আরও আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, সেটা করা হয়নি।”
আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরা বলেছি এটা ত্রুটিপূর্ণ এবং ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতি অনুসরণ করে তারা এই টেস্ট করেছে এবং সেজন্যই সেখানে আমাদের আপত্তি আছে।”
ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশনার সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো সম্পর্ক বা ‘নেক্সাস’ নেই বলে জানান এই আইনজীবী। তিনি জানান, মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতে ইন্টারনেট বন্ধের কারণে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে—এমন যুক্তিতে পৃথিবীর কোথাও বিচার বা সাজা হওয়ার নজির নেই।
এ বিষয়ে আইনজীবী বলেন, “এ পর্যন্ত পৃথিবীব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধের মৌখিক নির্দেশনার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে, এইরূপ একটিও অপরাধে পৃথিবীব্যাপী কোনো বিচার বা সাজা হয়েছে বলে এমন নজির নাই।”
জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত ‘ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যার’ ঘটনায় পলক ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলছে। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও জেরা চলছে।মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১২ এপ্রিল দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।

আপনার মতামত লিখুন