সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৬ লাখ টাকা

বাল্যবিবাহের শিকার আখিমণির হৃদযন্ত্রে ছিদ্র


প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: ১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

বাল্যবিবাহের শিকার আখিমণির হৃদযন্ত্রে ছিদ্র
১০ মাসের শিশু মাফিকে কোলে নিয়ে অসুস্থ মা আখিমণি। সঙ্গে তার অসহায় বাবা-মা। ছবি : সংবাদ

১০ মাস বয়সী শিশু মাফি জানে না তার মা কী ভয়াবহ রোগ শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন। সে সারাক্ষণ মায়ের কাছে থাকতে চায়, মায়ের বুকের দুধ পান করতে চায়। কিন্তু অসুস্থতার কারণে ১৮ বছর বয়সী মা আখিমণি নিজের সন্তানকে কোলেও নিতে পারছেন না। হৃদযন্ত্রে ছিদ্র ও ভালভের সমস্যায় আক্রান্ত আখিমণি এখন শয্যাশায়ী। অর্থাভাবে থমকে গেছে তার চিকিৎসা।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ উমানন্দ জামিরবাড়ি আদর্শপাড়া গ্রামের দিনমজুর রাজু মিয়া ও আমেনা বেগমের মেয়ে আখিমণি। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তাকে পার্শ্ববর্তী কাসিমবাজার গ্রামের এক দর্জির সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, সন্তান গর্ভে আসার পর আখিমণির হার্টের সমস্যা ধরা পড়লে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। বর্তমানে দিনমজুর বাবার আশ্রয়েই ধুঁকছেন এই তরুণী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আখিমণির চিকিৎসার জন্য তার দরিদ্র বাবা বসতভিটার দুই শতক জমিও বিক্রি করেছেন। প্রথমে কুড়িগ্রাম ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকার গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হার্ট সেন্টারে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। 

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আখিমণির হার্টে দ্রুত অস্ত্রোপচার করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন প্রায় ৬ লাখ টাকা। কিন্তু দিনমজুর বাবার পক্ষে এই বিশাল অঙ্কের টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জীর্ণ ঘরে অসুস্থ আখিমণি তার অবুঝ সন্তানের দিকে তাকিয়ে অশ্রু ফেলছেন। প্রতিবেশীরা জানান, দেড় মাস আগে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও টাকার অভাবে তা করা যাচ্ছে না। গ্রামবাসী নিজেদের সাধ্যমতো সহায়তা করলেও তা চিকিৎসার ব্যয়ের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

আখিমণির মা আমেনা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার মেয়েটা ঠিকমতো নিশ্বাস নিতে পারে না। প্রচণ্ড ব্যথায় যখন কুঁকড়ে যায়, তখন কলিজা ফেটে যায়। আমাদের কোনো সামর্থ্য নাই যে মেয়ের চিকিৎসা করাব। আপনারা সাহায্য না করলে মেয়েটাকে বাঁচাতে পারব না।’

বাবা রাজু মিয়া বলেন, ‘কামলা খেটে সংসার চালাই। বাড়িভিটার জমিও বিক্রি করেছি। এখন অপারেশনের টাকা কোথায় পাব? ছোট বাচ্চাটার জন্য আমার মেয়েটার সুস্থ হওয়া খুব দরকার।’

অসুস্থ আখিমণি ক্ষীণ স্বরে বলেন, ‘আমার বাচ্চাটার জন্য আমি বাঁচতে চাই। আমার বাবার বা স্বামীর সামর্থ্য নাই চিকিৎসা করার। হৃদয়বান মানুষ যদি একটু সাহায্য করে, তবে আমি সুস্থ হয়ে ফিরতে পারব।’

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:
আখিমণির চিকিৎসার জন্য সাহায্য পাঠাতে পারেন তার বাবার ব্যক্তিগত এই নম্বরে: ০১৮৭১০৩৮৪৩৫ (রাজু মিয়া)।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬


বাল্যবিবাহের শিকার আখিমণির হৃদযন্ত্রে ছিদ্র

প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

১০ মাস বয়সী শিশু মাফি জানে না তার মা কী ভয়াবহ রোগ শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন। সে সারাক্ষণ মায়ের কাছে থাকতে চায়, মায়ের বুকের দুধ পান করতে চায়। কিন্তু অসুস্থতার কারণে ১৮ বছর বয়সী মা আখিমণি নিজের সন্তানকে কোলেও নিতে পারছেন না। হৃদযন্ত্রে ছিদ্র ও ভালভের সমস্যায় আক্রান্ত আখিমণি এখন শয্যাশায়ী। অর্থাভাবে থমকে গেছে তার চিকিৎসা।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ উমানন্দ জামিরবাড়ি আদর্শপাড়া গ্রামের দিনমজুর রাজু মিয়া ও আমেনা বেগমের মেয়ে আখিমণি। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তাকে পার্শ্ববর্তী কাসিমবাজার গ্রামের এক দর্জির সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, সন্তান গর্ভে আসার পর আখিমণির হার্টের সমস্যা ধরা পড়লে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। বর্তমানে দিনমজুর বাবার আশ্রয়েই ধুঁকছেন এই তরুণী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আখিমণির চিকিৎসার জন্য তার দরিদ্র বাবা বসতভিটার দুই শতক জমিও বিক্রি করেছেন। প্রথমে কুড়িগ্রাম ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকার গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হার্ট সেন্টারে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। 

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আখিমণির হার্টে দ্রুত অস্ত্রোপচার করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন প্রায় ৬ লাখ টাকা। কিন্তু দিনমজুর বাবার পক্ষে এই বিশাল অঙ্কের টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জীর্ণ ঘরে অসুস্থ আখিমণি তার অবুঝ সন্তানের দিকে তাকিয়ে অশ্রু ফেলছেন। প্রতিবেশীরা জানান, দেড় মাস আগে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও টাকার অভাবে তা করা যাচ্ছে না। গ্রামবাসী নিজেদের সাধ্যমতো সহায়তা করলেও তা চিকিৎসার ব্যয়ের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

আখিমণির মা আমেনা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার মেয়েটা ঠিকমতো নিশ্বাস নিতে পারে না। প্রচণ্ড ব্যথায় যখন কুঁকড়ে যায়, তখন কলিজা ফেটে যায়। আমাদের কোনো সামর্থ্য নাই যে মেয়ের চিকিৎসা করাব। আপনারা সাহায্য না করলে মেয়েটাকে বাঁচাতে পারব না।’

বাবা রাজু মিয়া বলেন, ‘কামলা খেটে সংসার চালাই। বাড়িভিটার জমিও বিক্রি করেছি। এখন অপারেশনের টাকা কোথায় পাব? ছোট বাচ্চাটার জন্য আমার মেয়েটার সুস্থ হওয়া খুব দরকার।’

অসুস্থ আখিমণি ক্ষীণ স্বরে বলেন, ‘আমার বাচ্চাটার জন্য আমি বাঁচতে চাই। আমার বাবার বা স্বামীর সামর্থ্য নাই চিকিৎসা করার। হৃদয়বান মানুষ যদি একটু সাহায্য করে, তবে আমি সুস্থ হয়ে ফিরতে পারব।’

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:
আখিমণির চিকিৎসার জন্য সাহায্য পাঠাতে পারেন তার বাবার ব্যক্তিগত এই নম্বরে: ০১৮৭১০৩৮৪৩৫ (রাজু মিয়া)।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত