মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় হিজড়া সম্প্রদায়ের কয়েকজনকে তুলে নিয়ে মারধর এবং তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মুঠোফোন ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সম্প্রদায়ের অপর একটি পক্ষের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষের ‘গুরু মা’ রাবিনা হিজড়া কালকিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের সূর্যমণি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর জেলার হিজড়া সম্প্রদায়ের গুরু মা রাবিনা হিজড়া সম্প্রতি কালকিনি উপজেলার লক্ষ্মীপুর ও বাঁশগাড়ি ইউনিয়নে কাজ করার অধিকার স্থানীয় গুরু মা সাথী আক্তারের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে গ্রহণ করেন। সেই অনুযায়ী রাবিনা তার পাঁচ শিষ্য-নূপুর, মাহি, নীলা, মেঘলা ও ছামিয়াকে ওই এলাকায় পাঠান।
অভিযোগ রয়েছে, মুকুল হাজীর নির্দেশে এবং লাবনী হিজড়ার নেতৃত্বে জুই, দোয়েল, মল্লিকা, প্রিয়াঙ্কা ও জ্যোতিসহ একটি দল তাদের সূর্যমণি বাজার এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের মারধর করা হয়। এ সময় তাদের কাছে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রাবিনা হিজড়া বলেন, ‘আমার মেয়েদের ছেড়ে দিলেও তাদের কাছ থেকে সব কিছু লুটে নেওয়া হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ বিষয়ে গুরু মা সাথী আক্তার বলেন, অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি তার এলাকাভুক্ত দুটি ইউনিয়ন রাবিনা হিজড়ার কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। সেই চুক্তি অনুযায়ী রাবিনার লোকজন সেখানে গিয়েছিলেন।
অভিযুক্ত লাবনী হিজড়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আপনার মতামত লিখুন