সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে

অদম্য রাজু, এখন প্রয়োজন শুধু সহযোগিতা


জেলা বার্তা পরিবেশক, কুষ্টিয়া
জেলা বার্তা পরিবেশক, কুষ্টিয়া
প্রকাশ: ১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম

অদম্য রাজু, এখন প্রয়োজন শুধু সহযোগিতা
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পিঁয়াজ তোলার শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন মেধাবী ছাত্র ওসমান রাজু। ছবি :সংবাদ

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার অদম্য মেধাবী ওসমান রাজু এ বছর তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষায় তিনি মেধা তালিকায় ৯০তম স্থান অধিকার করেছেন।

এ ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫১তম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪৩তম হয়েছেন তিনি। কিন্তু অভাবের সংসারে এই খুশির খবর এখন বিষাদে রূপ নিয়েছে। তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থাভাবে তার পড়াশোনা এখন অনিশ্চিত।

ওসমান রাজু কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের মহিষাখোলা গ্রামের মৃত খবির উদ্দিনের ছেলে। রাজু যখন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়েন, তখন তার বাবা কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

এরপর থেকে তার মা ফাতেমা খাতুন অন্যের বাড়িতে কাজ করে দুই ছেলেকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালিয়ে আসছেন। রাজু নিজেও পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষি শ্রমিকের কাজ করে নিজের খরচ কিছুটা মেটাতেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা জোগাতে তিনি ৫০০ টাকা দৈনিক চুক্তিতে খেতে পিঁয়াজ তোলার কাজ করছেন।

রাজু ২০২৩ সালে কুমারখালীর জিডি শামছুদ্দিন আহমেদ কলেজিয়েট স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে ৪ দশমিক ৯২ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। কুষ্টিয়ার একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষকের সহযোগিতায় তিনি বিনামূল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান।

রাজুর মা ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘১৪ বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। মাথা গোঁজার ঘরটিও মানুষের সাহায্যে বানানো। রাজু ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী। শিক্ষক ও প্রতিবেশীদের সাহায্যে সে এত দূর এসেছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির অনেক টাকা, আমি এত টাকা কোথায় পাব?’

সরেজমিনে মহিষাখোলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একটি মেঠো পথের ধারে জীর্ণ টিনশেড ঘরে রাজুদের বসবাস। জানালার ভাঙা জায়গায় ছেঁড়া কাপড় ও কাঠের টুকরো দিয়ে আটকানো।

রাজু বলেন, ‘ক্লাস টু থেকে বাবার আদর পাইনি। স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সাহায্যে আজ এই পর্যন্ত এসেছি। পিঁয়াজ তুলে যা পাচ্ছি, তা দিয়ে তো আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও থাকার খরচ চলবে না। সবার সহযোগিতা পেলে পড়াশোনা করে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাই।’

জিডি শামছুদ্দিন আহমেদ কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাজু আমাদের প্রতিষ্ঠানের গর্ব। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো চেষ্টা করব ওকে সহযোগিতা করতে। তবে ওর উচ্চশিক্ষার জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, ‘মেধাবী শিক্ষার্থী রাজুর বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। তার ভর্তির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬


অদম্য রাজু, এখন প্রয়োজন শুধু সহযোগিতা

প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার অদম্য মেধাবী ওসমান রাজু এ বছর তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষায় তিনি মেধা তালিকায় ৯০তম স্থান অধিকার করেছেন।

এ ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫১তম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪৩তম হয়েছেন তিনি। কিন্তু অভাবের সংসারে এই খুশির খবর এখন বিষাদে রূপ নিয়েছে। তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থাভাবে তার পড়াশোনা এখন অনিশ্চিত।

ওসমান রাজু কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের মহিষাখোলা গ্রামের মৃত খবির উদ্দিনের ছেলে। রাজু যখন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়েন, তখন তার বাবা কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

এরপর থেকে তার মা ফাতেমা খাতুন অন্যের বাড়িতে কাজ করে দুই ছেলেকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালিয়ে আসছেন। রাজু নিজেও পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষি শ্রমিকের কাজ করে নিজের খরচ কিছুটা মেটাতেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা জোগাতে তিনি ৫০০ টাকা দৈনিক চুক্তিতে খেতে পিঁয়াজ তোলার কাজ করছেন।

রাজু ২০২৩ সালে কুমারখালীর জিডি শামছুদ্দিন আহমেদ কলেজিয়েট স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে ৪ দশমিক ৯২ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। কুষ্টিয়ার একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষকের সহযোগিতায় তিনি বিনামূল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান।

রাজুর মা ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘১৪ বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। মাথা গোঁজার ঘরটিও মানুষের সাহায্যে বানানো। রাজু ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী। শিক্ষক ও প্রতিবেশীদের সাহায্যে সে এত দূর এসেছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির অনেক টাকা, আমি এত টাকা কোথায় পাব?’

সরেজমিনে মহিষাখোলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একটি মেঠো পথের ধারে জীর্ণ টিনশেড ঘরে রাজুদের বসবাস। জানালার ভাঙা জায়গায় ছেঁড়া কাপড় ও কাঠের টুকরো দিয়ে আটকানো।

রাজু বলেন, ‘ক্লাস টু থেকে বাবার আদর পাইনি। স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সাহায্যে আজ এই পর্যন্ত এসেছি। পিঁয়াজ তুলে যা পাচ্ছি, তা দিয়ে তো আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও থাকার খরচ চলবে না। সবার সহযোগিতা পেলে পড়াশোনা করে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাই।’

জিডি শামছুদ্দিন আহমেদ কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাজু আমাদের প্রতিষ্ঠানের গর্ব। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো চেষ্টা করব ওকে সহযোগিতা করতে। তবে ওর উচ্চশিক্ষার জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, ‘মেধাবী শিক্ষার্থী রাজুর বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। তার ভর্তির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।’


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত