ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে আরও ২১ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত তাদের ভর্তি করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে এসব শিশুর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মমেক হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১৪৩টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬৪ জন। অন্য শিশুরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
এদিকে ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সাল আহমেদ জানান, জেলায় এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা সন্দেহভাজন ছিল। জেলায় এখন পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৭। অন্য শিশুরা জ্বর, হাঁচি ও কাশিসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে, যাদের সন্দেহভাজন হিসেবে ধরা হচ্ছে।
সিভিল সার্জন আরও জানান, শিশুদের সুচিকিৎসার জন্য জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহিঃবিভাগে ‘ফিভার কর্নার’ এবং অন্তঃবিভাগে বিশেষ শয্যা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় বিশেষায়িত টিম গঠন করা হয়েছে, যারা মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। প্রতিদিন সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য দিয়ে আতঙ্ক না ছড়ানোর জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন খান বলেন, হাম রোগীদের চিকিৎসায় গত সোমবার থেকে হাসপাতালের আটতলার কেবিন এলাকায় ৬৪ শয্যার পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে নিবিড়ভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন