বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত চর্মরোগ ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ (এলএসডি) ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আক্রান্ত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু গবাদিপশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে এই রোগের পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন বা টিকা না থাকায় আক্রান্ত পশুর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
স্থানীয় খামারি ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রীষ্মের শুরুতেই এলাকায় এই রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত পশুর শরীরে গুটি গুটি হয়ে ফুলে উঠছে এবং পরে সেখানে পচন ধরছে। অসুস্থ পশু কোনো খাবার গ্রহণ করছে না এবং উঠে দাঁড়াতে পারছে না। যথাযথ চিকিৎসার অভাবে অনেক খামারি তাদের ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা মূল্যের গরু হারিয়েছেন। রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উপজেলার শ্যামপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অসীম মণ্ডল জানান, কয়েক দিন আগে তার গোয়ালের একটি গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়। পশুর দেহের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরে এবং সব সময় প্রচণ্ড জ্বর থাকত। শেষ পর্যন্ত সঠিক চিকিৎসার অভাবে এক লাখ টাকা মূল্যের গরুটি মারা যায়। একই গ্রামের স্বপন মণ্ডলের একটি গাভীও এই রোগে মারা গেছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া উমাজুড়ি গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় আরও অনেক খামারির গরু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী খামারিদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ বা টিকা না থাকায় তারা বেসরকারিভাবে চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু এতে ব্যয় অনেক বেশি হচ্ছে এবং সব ক্ষেত্রে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।
চিতলমারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আহম্মদ ইকবাল বলেন, এটি একটি ভাইরাসজনিত চর্মরোগ। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে দপ্তরে এ রোগের কোনো ভ্যাকসিন মজুত নেই। আগে যা ছিল, তা শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
আপনার মতামত লিখুন