সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

খোকসা স্টেশনে ভোগান্তিতে রেলযাত্রীরা

৫ ফুট উঁচু কামরায় ওঠার ‘যুদ্ধ’


প্রতিনিধি, খোকসা (কুষ্টিয়া)
প্রতিনিধি, খোকসা (কুষ্টিয়া)
প্রকাশ: ১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০১ পিএম

৫ ফুট উঁচু কামরায় ওঠার ‘যুদ্ধ’

কুষ্টিয়ার খোকসা রেল স্টেশনের ২ নম্বর লাইনে কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই। সমতল ভূমি থেকে ট্রেনের কামরার উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট। ফলে এই লাইনে দাঁড়ানো ট্রেনে ওঠা-নামা করতে যাত্রীদের রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়।

বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি আধুনিক প্ল্যাটফর্ম ও শেড নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

পশ্চিম রেলওয়ের পোড়াদহ-দৌলতদিয়া ঘাট (রাজবাড়ী সেকশন) রুটে রাজধানী ঢাকা, রাজশাহী, বেনাপোল ও খুলনার মধ্যে প্রতিদিন অন্তত ১০ জোড়া ট্রেন চলাচল করে।

এসব ট্রেনের মধ্যে অন্তত দুই জোড়া আন্তনগর ট্রেনের ‘ক্রসিং’ হয় খোকসা স্টেশনে। এ সময় একটি ট্রেনকে ১ নম্বর এবং অন্যটিকে ২ নম্বর লাইনে দাঁড়াতে হয়। ২ নম্বর লাইনে প্ল্যাটফর্ম না থাকায় সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে উঠতে গিয়ে যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। শুধু খোকসা নয়, এই রুটের কুষ্টিয়া জেলার ছয়টি স্টেশনের একটিরও ২ নম্বর লাইনে প্ল্যাটফর্ম নেই।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে খোকসা স্টেশনে সরেজমিনে দেখা যায়, রাজশাহীগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনের জন্য যাত্রীরা ২ নম্বর লাইনে অপেক্ষা করছেন। ট্রেনটি স্টেশনে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই কামরায় ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়

সমতল থেকে ট্রেনের পাদানিতে উঠতে একে অপরকে টেনে তুলছেন যাত্রীরা। উচ্চতা বেশি হওয়ায় অনেক নারী ও শিশু দীর্ঘ চেষ্টার পর ব্যর্থ হয়ে ২ নম্বর লাইন থেকে সরে যান। কিছুক্ষণ পর ১ নম্বর লাইনে এসে দাঁড়ায় ঢাকাগামী মধুমতি এক্সপ্রেস। ট্রেন দুটি স্টেশন ছেড়ে গেলেও প্ল্যাটফর্মে অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

উপজেলার সাতপাখিয়া গ্রাম থেকে আসা রাহেলা বেগম নামের এক যাত্রী বলেন, ‘রাজশাহীতে ডাক্তার দেখানোর কথা ছিল, টিকিটও কেটেছিলাম। কিন্তু ট্রেনের কামরা এত উঁচুতে যে আমি আর আমার ছেলে উঠতে পারলাম না। আজ আর ডাক্তার দেখানো হলো না, এখন বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের দাবিতে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। প্রতিবারই আশ্বাস মিলেছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। কণ্ঠশিল্পী খন্দকার সেলিম রেজা বলেন, ‘আমরা কয়েক দফায় আবেদন করেছি। রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিবারই প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু প্ল্যাটফর্ম আর তৈরি হয় না।’

স্টেশনের বুকিং মাস্টার সজল হোসেন বলেন, ট্রেনের ক্রসিং হলে ২ নম্বর লাইনের যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। মাটি থেকে প্রায় ৫ ফুট উঁচুতে ওঠা সাধারণ মানুষের জন্য খুবই কষ্টকর।

এ বিষয়ে পশ্চিম রেলের পাকশী বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, রাজবাড়ী সেকশনের পাংশা স্টেশনের উন্নয়নকাজ চলছে। কুষ্টিয়া সদরের কোর্ট স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের দরপত্র (টেন্ডার) হয়ে গেছে। পর্যায়ক্রমে অন্য স্টেশনগুলোরও উন্নয়নকাজ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬


৫ ফুট উঁচু কামরায় ওঠার ‘যুদ্ধ’

প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কুষ্টিয়ার খোকসা রেল স্টেশনের ২ নম্বর লাইনে কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই। সমতল ভূমি থেকে ট্রেনের কামরার উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট। ফলে এই লাইনে দাঁড়ানো ট্রেনে ওঠা-নামা করতে যাত্রীদের রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়।

বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি আধুনিক প্ল্যাটফর্ম ও শেড নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

পশ্চিম রেলওয়ের পোড়াদহ-দৌলতদিয়া ঘাট (রাজবাড়ী সেকশন) রুটে রাজধানী ঢাকা, রাজশাহী, বেনাপোল ও খুলনার মধ্যে প্রতিদিন অন্তত ১০ জোড়া ট্রেন চলাচল করে।

এসব ট্রেনের মধ্যে অন্তত দুই জোড়া আন্তনগর ট্রেনের ‘ক্রসিং’ হয় খোকসা স্টেশনে। এ সময় একটি ট্রেনকে ১ নম্বর এবং অন্যটিকে ২ নম্বর লাইনে দাঁড়াতে হয়। ২ নম্বর লাইনে প্ল্যাটফর্ম না থাকায় সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে উঠতে গিয়ে যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। শুধু খোকসা নয়, এই রুটের কুষ্টিয়া জেলার ছয়টি স্টেশনের একটিরও ২ নম্বর লাইনে প্ল্যাটফর্ম নেই।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে খোকসা স্টেশনে সরেজমিনে দেখা যায়, রাজশাহীগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনের জন্য যাত্রীরা ২ নম্বর লাইনে অপেক্ষা করছেন। ট্রেনটি স্টেশনে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই কামরায় ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়

সমতল থেকে ট্রেনের পাদানিতে উঠতে একে অপরকে টেনে তুলছেন যাত্রীরা। উচ্চতা বেশি হওয়ায় অনেক নারী ও শিশু দীর্ঘ চেষ্টার পর ব্যর্থ হয়ে ২ নম্বর লাইন থেকে সরে যান। কিছুক্ষণ পর ১ নম্বর লাইনে এসে দাঁড়ায় ঢাকাগামী মধুমতি এক্সপ্রেস। ট্রেন দুটি স্টেশন ছেড়ে গেলেও প্ল্যাটফর্মে অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

উপজেলার সাতপাখিয়া গ্রাম থেকে আসা রাহেলা বেগম নামের এক যাত্রী বলেন, ‘রাজশাহীতে ডাক্তার দেখানোর কথা ছিল, টিকিটও কেটেছিলাম। কিন্তু ট্রেনের কামরা এত উঁচুতে যে আমি আর আমার ছেলে উঠতে পারলাম না। আজ আর ডাক্তার দেখানো হলো না, এখন বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের দাবিতে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। প্রতিবারই আশ্বাস মিলেছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। কণ্ঠশিল্পী খন্দকার সেলিম রেজা বলেন, ‘আমরা কয়েক দফায় আবেদন করেছি। রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিবারই প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু প্ল্যাটফর্ম আর তৈরি হয় না।’

স্টেশনের বুকিং মাস্টার সজল হোসেন বলেন, ট্রেনের ক্রসিং হলে ২ নম্বর লাইনের যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। মাটি থেকে প্রায় ৫ ফুট উঁচুতে ওঠা সাধারণ মানুষের জন্য খুবই কষ্টকর।

এ বিষয়ে পশ্চিম রেলের পাকশী বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, রাজবাড়ী সেকশনের পাংশা স্টেশনের উন্নয়নকাজ চলছে। কুষ্টিয়া সদরের কোর্ট স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের দরপত্র (টেন্ডার) হয়ে গেছে। পর্যায়ক্রমে অন্য স্টেশনগুলোরও উন্নয়নকাজ করা হবে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত