কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধ রাখতে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করতে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজাকে লিগ্যাল নোটিশ (আইনি নোটিশ) পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মজিদ কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হৃদয় হাসানের পক্ষে এই নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবকারী ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করতে হবে অথবা তাদের আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরে একটি ইফতার মাহফিল ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি আমির হামজা দাবি করেছিলেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি বন্ধ রাখতে কয়েক দিনে তাকে ৫০ কোটি টাকার বেশি ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তিনি সে সময় বলেছিলেন, ‘৫০ কোটি কেন, ১০০ কোটি বা পুরো কুষ্টিয়া লিখে দিলেও আমি আমার জায়গা থেকে একচুল নড়ব না।’ তার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রীয় ও শরিয়াহ আইন অনুযায়ী ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা উভয়েই সমান অপরাধী। আমির হামজা জনসমক্ষে ঘুষের প্রস্তাব পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও অপরাধীদের নাম প্রকাশ করেননি। অপরাধীদের নাম প্রকাশ না করা এবং তাদের আইনের হাতে তুলে না দেওয়া আইনের দৃষ্টিতে অপরাধীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল।
নোটিশ প্রেরণকারী ছাত্রদল নেতা হৃদয় হাসান বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমি এই নোটিশ পাঠিয়েছি। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে। কারা এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছে, আমরা তা জানতে চাই। যদি নাম প্রকাশ না করা হয়, তবে পরবর্তীকালে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, সংসদ সদস্য তিন দিনে ৫০ কোটি টাকার অফার পাওয়ার কথা বললেও তাদের নাম প্রকাশ করছেন না। এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ (ক্রিমিনাল অফেন্স)। তার উচিত দ্রুত তাদের নাম জনসমক্ষে আনা।
এ বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
আপনার মতামত লিখুন