দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামে আক্রান্ত হয়ে একের পর এক শিশুর মৃত্যুর খবর আসছে।
রাজধানীর একমাত্র বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে তিল ধারণের জায়গা নেই। শয্যার অভাবে নতুন রোগী ভর্তি নিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ, আর হাসপাতালের বারান্দায় ও ফট প্রিয় সন্তানের জীবন বাঁচাতে অভিভাবকদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠছে।
মুন্সিগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে আসা এক মা তার চার মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে পার করছেন দুঃসহ এক পথ। অসুস্থ শিশুকে নিয়ে চারবার সিএনজি পাল্টে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলেও বয়স কম অজুহাতে তাকে ভর্তি করা হয়নি। এরপর ডিএনসিসি হাসপাতালেও মেলেনি জায়গা। শেষ সম্বল হিসেবে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এসে অনেক জোরাজোরি ও কান্নাকাটির পর মেঝেতে একটি শয্যা পেয়েছেন তিনি।
সেই মা সংবাদকে জানান, শুরুতে শিশুর গালে সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেও তিনি গুরুত্ব বোঝেননি। স্থানীয় দোকান থেকে মলম ও ওষুধ খাওয়ানোর পর সাময়িক উপশম হলেও এক সপ্তাহ পর পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে এবং তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বর্তমান চিত্র অনেকটাই 'করুণ'। আইসিইউতে থাকা এক শিশুর নানি জানান, ঠান্ডা ও জ্বর নিয়ে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ঘোরার পর অবশেষে এখানে এসে অক্সিজেন ও চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছেন তারা।
হাসপাতালে মাত্র ৫টি আইসিইউ শয্যা থাকলেও জরুরি প্রয়োজনে তা বাড়িয়ে ৭টি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টিতেই হামের রোগী এবং ১টিতে ধনুষ্টঙ্কারের রোগী চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালের আইসিইউগুলো মূলত বড়দের জন্য নির্মিত, যা শিশুদের বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত নয়।
চিকিৎসকরা জানান, সাধারণত হামের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার বয়স ৯ মাস বয়সে। কিন্তু বর্তমান প্রাদুর্ভাবে দেখা যাচ্ছে, আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগেরই বয়স ৪ থেকে ৬ মাস। অর্থাৎ, টিকার আওতায় আসার আগেই শিশুরা এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।
হাসপাতালের সামনে এখনো অনেক অভিভাবককে শয্যার আশায় ছুটোছুটি করতে দেখা যাচ্ছে। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া এবং সচেতনতার অভাবে এই পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামে আক্রান্ত হয়ে একের পর এক শিশুর মৃত্যুর খবর আসছে।
রাজধানীর একমাত্র বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে তিল ধারণের জায়গা নেই। শয্যার অভাবে নতুন রোগী ভর্তি নিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ, আর হাসপাতালের বারান্দায় ও ফট প্রিয় সন্তানের জীবন বাঁচাতে অভিভাবকদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠছে।
মুন্সিগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে আসা এক মা তার চার মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে পার করছেন দুঃসহ এক পথ। অসুস্থ শিশুকে নিয়ে চারবার সিএনজি পাল্টে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলেও বয়স কম অজুহাতে তাকে ভর্তি করা হয়নি। এরপর ডিএনসিসি হাসপাতালেও মেলেনি জায়গা। শেষ সম্বল হিসেবে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এসে অনেক জোরাজোরি ও কান্নাকাটির পর মেঝেতে একটি শয্যা পেয়েছেন তিনি।
সেই মা সংবাদকে জানান, শুরুতে শিশুর গালে সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেও তিনি গুরুত্ব বোঝেননি। স্থানীয় দোকান থেকে মলম ও ওষুধ খাওয়ানোর পর সাময়িক উপশম হলেও এক সপ্তাহ পর পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে এবং তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বর্তমান চিত্র অনেকটাই 'করুণ'। আইসিইউতে থাকা এক শিশুর নানি জানান, ঠান্ডা ও জ্বর নিয়ে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ঘোরার পর অবশেষে এখানে এসে অক্সিজেন ও চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছেন তারা।
হাসপাতালে মাত্র ৫টি আইসিইউ শয্যা থাকলেও জরুরি প্রয়োজনে তা বাড়িয়ে ৭টি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টিতেই হামের রোগী এবং ১টিতে ধনুষ্টঙ্কারের রোগী চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালের আইসিইউগুলো মূলত বড়দের জন্য নির্মিত, যা শিশুদের বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত নয়।
চিকিৎসকরা জানান, সাধারণত হামের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার বয়স ৯ মাস বয়সে। কিন্তু বর্তমান প্রাদুর্ভাবে দেখা যাচ্ছে, আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগেরই বয়স ৪ থেকে ৬ মাস। অর্থাৎ, টিকার আওতায় আসার আগেই শিশুরা এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।
হাসপাতালের সামনে এখনো অনেক অভিভাবককে শয্যার আশায় ছুটোছুটি করতে দেখা যাচ্ছে। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া এবং সচেতনতার অভাবে এই পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন