বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধে জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার ও দণ্ডাদেশকে ‘বেআইনি’ ও ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী’ বলে উল্লেখ করে তা বাতিলে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনার পক্ষে লন্ডনভিত্তিক আইন সংস্থা কিংসলে নেপলি এ সংক্রান্ত নোটিশ ট্রাইব্যুনালের কাছে পাঠিয়েছে। গত ৩০ মার্চে পাঠানো আইনি নোটিশে কিংসলে নেপলি এলএলপি নামে আইন সংস্থার স্বাক্ষর রয়েছে।
চিঠিতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অভাব ও রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই আইন সংস্থার দাবি, ‘ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেঞ্চকে এমন ব্যক্তিদের নিয়ে পুনর্গঠন করা হয়েছে যাদের অভিজ্ঞতা কম ও বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে যাদের প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।’
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী দীর্ঘদিন অবসরে থাকার পর নিয়োগ পা। তাদের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদকে ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ দেওয়ার মাত্র ৬ দিন আগে হাইকোর্টের বিচারক করা হয়, যার সঙ্গে বিএনপির প্রকাশ্য সম্পর্ক রয়েছে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়। ‘এছাড়া বিচার চলাকালে বেঞ্চ থেকে এমন মন্তব্য করা হয়েছে যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আসামির অপরাধ আগেই নির্ধারিত ছিল, যা ‘ন্যায়বিচারের পরিপন্থী’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে ।
নোটিশে সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি বিচার চলাকালীন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া প্রসিকিউশন টিমের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান প্রসিকিউটরের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থানকে পক্ষপাতমূলক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, “শেখ হাসিনাকে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হয়নি। তাকে নিজের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচার হওয়া ও এরপর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এটি ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বা ‘সামারি এক্সিকিউশন’ হিসেবে গণ্য হতে পারে ।”
শেখ হাসিনাকে অভিযোগ প্রমাণ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এটি নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৪ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন বলে নোটিশে উল্লেখ করেছে লন্ডনভিত্তিক কেংসলি নেপলি নামের এ আইনি সংস্থা। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে যে, ১৯৭৩ সালের আইসিটি অ্যাক্টের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ঘটনার বিচার করা হচ্ছে, যা ট্রাইব্যুনালের মূল এখতিয়ারের বাইরে।
নোটিশে আইনজীবীরা অভিযোগ করে বলেন, বিচারটি এমন এক শত্রুভাবাপন্ন রাজনৈতিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে আওয়ামী লীগ ও এর সমর্থকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশের শেষে কিংসলে নেপলি ট্রাইব্যুনালের কাছে তিন দফা দাবি জানান। দাবিসমূহ হলো- শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রদত্ত রায় এবং সাজা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, যেকোনো পরবর্তী বিচার অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে হতে হবে ও আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত আইনজীবী ও ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। চিঠির বিষয়ে ১৪ দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালকে অনুরোধ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধে জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার ও দণ্ডাদেশকে ‘বেআইনি’ ও ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী’ বলে উল্লেখ করে তা বাতিলে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনার পক্ষে লন্ডনভিত্তিক আইন সংস্থা কিংসলে নেপলি এ সংক্রান্ত নোটিশ ট্রাইব্যুনালের কাছে পাঠিয়েছে। গত ৩০ মার্চে পাঠানো আইনি নোটিশে কিংসলে নেপলি এলএলপি নামে আইন সংস্থার স্বাক্ষর রয়েছে।
চিঠিতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অভাব ও রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই আইন সংস্থার দাবি, ‘ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেঞ্চকে এমন ব্যক্তিদের নিয়ে পুনর্গঠন করা হয়েছে যাদের অভিজ্ঞতা কম ও বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে যাদের প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।’
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী দীর্ঘদিন অবসরে থাকার পর নিয়োগ পা। তাদের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদকে ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ দেওয়ার মাত্র ৬ দিন আগে হাইকোর্টের বিচারক করা হয়, যার সঙ্গে বিএনপির প্রকাশ্য সম্পর্ক রয়েছে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়। ‘এছাড়া বিচার চলাকালে বেঞ্চ থেকে এমন মন্তব্য করা হয়েছে যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আসামির অপরাধ আগেই নির্ধারিত ছিল, যা ‘ন্যায়বিচারের পরিপন্থী’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে ।
নোটিশে সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি বিচার চলাকালীন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া প্রসিকিউশন টিমের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান প্রসিকিউটরের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থানকে পক্ষপাতমূলক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, “শেখ হাসিনাকে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হয়নি। তাকে নিজের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচার হওয়া ও এরপর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এটি ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বা ‘সামারি এক্সিকিউশন’ হিসেবে গণ্য হতে পারে ।”
শেখ হাসিনাকে অভিযোগ প্রমাণ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এটি নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৪ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন বলে নোটিশে উল্লেখ করেছে লন্ডনভিত্তিক কেংসলি নেপলি নামের এ আইনি সংস্থা। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে যে, ১৯৭৩ সালের আইসিটি অ্যাক্টের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ঘটনার বিচার করা হচ্ছে, যা ট্রাইব্যুনালের মূল এখতিয়ারের বাইরে।
নোটিশে আইনজীবীরা অভিযোগ করে বলেন, বিচারটি এমন এক শত্রুভাবাপন্ন রাজনৈতিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে আওয়ামী লীগ ও এর সমর্থকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশের শেষে কিংসলে নেপলি ট্রাইব্যুনালের কাছে তিন দফা দাবি জানান। দাবিসমূহ হলো- শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রদত্ত রায় এবং সাজা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, যেকোনো পরবর্তী বিচার অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে হতে হবে ও আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত আইনজীবী ও ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। চিঠির বিষয়ে ১৪ দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালকে অনুরোধ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন