অস্বাভাবিক ধুলিকণা আর ধোঁয়াটে চাদরে ঢাকা পড়েছে রাজধানী ঢাকা। বসন্তের শেষ আর গ্রীষ্মের শুরুতে বৃষ্টিহীন আবহাওয়ার কারণে ঢাকার বায়ুমান ‘বিপজ্জনক’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ সকালেও আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার এর মানদণ্ডে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে ঢাকা।
আজ সকাল ৯টার দিকে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) রেকর্ড
করা হয়েছে ৩১২, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে
বিবেচিত হয়। সাধারণত AQI স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১
থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ বলা হয়।
দূষণের নেপথ্যে প্রধান কারণসমূহ
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বায়ুদূষণ এখন আর কেবল মৌসুমী
সমস্যা নয়, এটি একটি স্থায়ী সংকটে রূপ নিয়েছে। এর পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো:
স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নগরবাসী
বায়ুদূষণের ফলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ রাজধানীর বিভিন্ন
হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ফুসফুসের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ
বেড়েছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ:
"বাতাসে অতি ক্ষুদ্র ধূলিকণা $PM_{2.5}$ এর পরিমাণ বেড়ে
যাওয়ায় তা সরাসরি রক্তে মিশে যাচ্ছে। এতে শিশু ও বৃদ্ধদের ফুসফুস মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত
হচ্ছে। এই অবস্থায় বাইরে বের হলে অবশ্যই ভালো মানের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।"
কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও আদালতের নির্দেশনা
উচ্চ আদালত বারবার বায়ুদূষণ রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা
দিলেও মাঠ পর্যায়ে এর প্রয়োগ সীমিত। পরিবেশ অধিদপ্তর মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা
করলেও দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমাধান লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তবে পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো
হয়েছে, শীঘ্রই নগরের ধুলো নিয়ন্ত্রণে 'ডাস্ট কন্ট্রোল গাইডলাইন' কঠোরভাবে কার্যকর করা
হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল সরকারি উদ্যোগ নয়, বায়ুদূষণ রোধে
ব্যক্তিগত পর্যায়েও সচেতনতা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
অস্বাভাবিক ধুলিকণা আর ধোঁয়াটে চাদরে ঢাকা পড়েছে রাজধানী ঢাকা। বসন্তের শেষ আর গ্রীষ্মের শুরুতে বৃষ্টিহীন আবহাওয়ার কারণে ঢাকার বায়ুমান ‘বিপজ্জনক’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ সকালেও আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার এর মানদণ্ডে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে ঢাকা।
আজ সকাল ৯টার দিকে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) রেকর্ড
করা হয়েছে ৩১২, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে
বিবেচিত হয়। সাধারণত AQI স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১
থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ বলা হয়।
দূষণের নেপথ্যে প্রধান কারণসমূহ
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বায়ুদূষণ এখন আর কেবল মৌসুমী
সমস্যা নয়, এটি একটি স্থায়ী সংকটে রূপ নিয়েছে। এর পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো:
স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নগরবাসী
বায়ুদূষণের ফলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ রাজধানীর বিভিন্ন
হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ফুসফুসের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ
বেড়েছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ:
"বাতাসে অতি ক্ষুদ্র ধূলিকণা $PM_{2.5}$ এর পরিমাণ বেড়ে
যাওয়ায় তা সরাসরি রক্তে মিশে যাচ্ছে। এতে শিশু ও বৃদ্ধদের ফুসফুস মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত
হচ্ছে। এই অবস্থায় বাইরে বের হলে অবশ্যই ভালো মানের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।"
কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও আদালতের নির্দেশনা
উচ্চ আদালত বারবার বায়ুদূষণ রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা
দিলেও মাঠ পর্যায়ে এর প্রয়োগ সীমিত। পরিবেশ অধিদপ্তর মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা
করলেও দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমাধান লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তবে পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো
হয়েছে, শীঘ্রই নগরের ধুলো নিয়ন্ত্রণে 'ডাস্ট কন্ট্রোল গাইডলাইন' কঠোরভাবে কার্যকর করা
হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল সরকারি উদ্যোগ নয়, বায়ুদূষণ রোধে
ব্যক্তিগত পর্যায়েও সচেতনতা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন