সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সুনামগঞ্জে হাওরে জলাবদ্ধতা

সুরক্ষাবাঁধই এখন গলার কাঁটা, তলিয়ে যাচ্ছে ফসল


লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ
লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: ২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৪ পিএম

সুরক্ষাবাঁধই এখন গলার কাঁটা, তলিয়ে যাচ্ছে ফসল
জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজেদের উদ্যোগে বাঁধ কাটেন নিরুপায় কৃষক। ছবি : সংবাদ

সুনামগঞ্জে বোরো ফসল রক্ষার জন্য নির্মিত বাঁধগুলো এখন কৃষকদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও বাঁধের কারণে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে না।

ফলে চোখের সামনেই তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের কাঁচা-পাকা ধান। এ অবস্থায় কোথাও কোথাও নিরুপায় কৃষকেরা বাঁধ কেটে পানি বের করার চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সঙ্গে তাদের উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জলাবদ্ধতার কারণে জেলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত জেলার শস্যভাণ্ডার খ্যাত দেখার হাওর। এই হাওরের ৯ হাজার ২৬১ হেক্টর জমির মধ্যে অন্তত ৫০০ একর জমি এখন জলাবদ্ধতার কবলে।

বিশেষ করে সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের ইছাগরি, হরিপুর, কলাউরাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কৃষকেরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, শান্তিগঞ্জের আস্তমা গ্রামের পাশে মহাশিং নদীর নিকট উথারিয়া বাঁধ নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে থাকা তিনটি পাইপ পানি সরাতে যথেষ্ট নয়। গত বছর তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী একটি স্লুইসগেট নির্মাণের নির্দেশ দিলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

একই চিত্র দেখা গেছে সদর উপজেলার জোয়াল ভাঙা হাওর এবং ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার হাওরগুলোতে। মধ্যনগর ও ধর্মপাশার ৩১ হাজার ৯১০ হেক্টর আবাদের মধ্যে ২৯৫ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। যার বড় অংশই টগার হাওরে। শাল্লা উপজেলায়ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কৃষকেরা বাঁধ কাটতে গেলে প্রশাসনের বাধার মুখে পড়েন, যা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় অনেক জায়গায় স্লুইসগেট নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। জলাবদ্ধতা নিরসনে আরও স্লুইসগেট প্রয়োজন।’

হাওর গবেষক ও হাউস-এর নির্বাহী পরিচালক সালেহীন চৌধুরী শুভ মনে করেন, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অনেক জায়গায় অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণই এই সংকটের মূল কারণ।

একইভাবে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, ‘হাওরকে বাঁধ দিয়ে পুকুর বানিয়ে ফেলা হয়েছে। এর স্থায়ী সমাধান না করলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬


সুরক্ষাবাঁধই এখন গলার কাঁটা, তলিয়ে যাচ্ছে ফসল

প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জে বোরো ফসল রক্ষার জন্য নির্মিত বাঁধগুলো এখন কৃষকদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও বাঁধের কারণে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে না।

ফলে চোখের সামনেই তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের কাঁচা-পাকা ধান। এ অবস্থায় কোথাও কোথাও নিরুপায় কৃষকেরা বাঁধ কেটে পানি বের করার চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সঙ্গে তাদের উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জলাবদ্ধতার কারণে জেলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত জেলার শস্যভাণ্ডার খ্যাত দেখার হাওর। এই হাওরের ৯ হাজার ২৬১ হেক্টর জমির মধ্যে অন্তত ৫০০ একর জমি এখন জলাবদ্ধতার কবলে।

বিশেষ করে সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের ইছাগরি, হরিপুর, কলাউরাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কৃষকেরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, শান্তিগঞ্জের আস্তমা গ্রামের পাশে মহাশিং নদীর নিকট উথারিয়া বাঁধ নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে থাকা তিনটি পাইপ পানি সরাতে যথেষ্ট নয়। গত বছর তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী একটি স্লুইসগেট নির্মাণের নির্দেশ দিলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

একই চিত্র দেখা গেছে সদর উপজেলার জোয়াল ভাঙা হাওর এবং ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার হাওরগুলোতে। মধ্যনগর ও ধর্মপাশার ৩১ হাজার ৯১০ হেক্টর আবাদের মধ্যে ২৯৫ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। যার বড় অংশই টগার হাওরে। শাল্লা উপজেলায়ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কৃষকেরা বাঁধ কাটতে গেলে প্রশাসনের বাধার মুখে পড়েন, যা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় অনেক জায়গায় স্লুইসগেট নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। জলাবদ্ধতা নিরসনে আরও স্লুইসগেট প্রয়োজন।’

হাওর গবেষক ও হাউস-এর নির্বাহী পরিচালক সালেহীন চৌধুরী শুভ মনে করেন, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অনেক জায়গায় অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণই এই সংকটের মূল কারণ।

একইভাবে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, ‘হাওরকে বাঁধ দিয়ে পুকুর বানিয়ে ফেলা হয়েছে। এর স্থায়ী সমাধান না করলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।’


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত