ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় হ্যাপি আক্তার নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ এপ্রিল) উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের মানিকারহাট বাজার সংলগ্ন শ্বশুরবাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত হ্যাপি আক্তার বোরহানউদ্দিন পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল মালেকের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে মানিকারহাট এলাকার শাহজাহানের ছেলে লিমনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দুই বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, লিমনের কর্মস্থল ঢাকা হওয়ায় তারা ঢাকার বাবু বাজার কদমতলী এলাকায় বসবাস করতেন। সম্প্রতি ঈদুল আজহা উপলক্ষে তারা গ্রামের বাড়িতে আসেন। ঈদের ছুটি শেষে লিমন ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরে গেলেও হ্যাপি শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে গ্রামেই থেকে যান। গত বৃহস্পতিবার তারও ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যেই গত বুধবার শ্বশুরবাড়ির শয়নকক্ষ থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
তবে হ্যাপির মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে মানতে নারাজ তার পরিবার। নিহতের বাবা আব্দুল মালেকের অভিযোগ, ‘আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার শ্বশুর-শাশুড়ি দীর্ঘদিন ধরে তাকে নির্যাতন করে আসছিলেন। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও অনেকের আশঙ্কা, পারিবারিক কলহের জেরে এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও পরিবারের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আপনার মতামত লিখুন