জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বরেন্দ্র অঞ্চলে খরা বাড়ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নেমে যাচ্ছে। এর ফলে সেখানে কৃষি উৎপাদন কমছে। চাষের ব্যয় বাড়ছে।
বরেন্দ্র অঞ্চলে ১৯৯৪ সালে যেখানে গড়ে ৩৫ ফুট গভীরে পানি পাওয়া যেত, ২০২১ সালে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৭০ ফুটে। কোনো কোনো এলাকায় ২০০ ফুট নিচেও পানির সন্ধান মেলেনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের গবেষণার এই একটি তথ্যই বলে দেয়, সমস্যাটি কতটা গভীর।
গবেষণায় দেখা গেছে, খরার কারণে কোনো কোনো এলাকায় ধানের উৎপাদন ৩৬ শতাংশ। গমের উৎপাদন ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। অনেক কৃষকের আয় কমে গেছে। সেচের খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদ লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে কৃষকরা ঋণ নিচ্ছেন। কেউ কেউ সম্পদ বিক্রি করছেন। অনেকে পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন।
বর্তমানে এ অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক গভীর ও অগভীর নলকূপের ওপর নির্ভরশীল। সমস্যা হচ্ছে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় অনেক নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ছে। এক দশক আগে যেখানে ৮০-৮৫ ফুট গভীরতায় পানি পাওয়া যেত, এখন তা ১৩০ ফুটের নিচে নেমেছে।
বরেন্দ্র অঞ্চল বাংলাদেশের অন্যতম খরাপ্রবণ এলাকা। সেখানকার কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদি হুমকির মুখে। এই সমস্যা আর উপেক্ষা করা যায় না। ভূপৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বাড়ানো দরকার। কম খরচের সেচ প্রযুক্তি কাজে লাগাতে হবে। কম সুদের ঋণ নিশ্চিত করতে হবে। খরাপীড়িত কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তা চালু করা যায় কিনা সেটা ভেবে দেখতে হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা যাতে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে পারেন সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বরেন্দ্র অঞ্চলে খরা বাড়ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নেমে যাচ্ছে। এর ফলে সেখানে কৃষি উৎপাদন কমছে। চাষের ব্যয় বাড়ছে।
বরেন্দ্র অঞ্চলে ১৯৯৪ সালে যেখানে গড়ে ৩৫ ফুট গভীরে পানি পাওয়া যেত, ২০২১ সালে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৭০ ফুটে। কোনো কোনো এলাকায় ২০০ ফুট নিচেও পানির সন্ধান মেলেনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের গবেষণার এই একটি তথ্যই বলে দেয়, সমস্যাটি কতটা গভীর।
গবেষণায় দেখা গেছে, খরার কারণে কোনো কোনো এলাকায় ধানের উৎপাদন ৩৬ শতাংশ। গমের উৎপাদন ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। অনেক কৃষকের আয় কমে গেছে। সেচের খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদ লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে কৃষকরা ঋণ নিচ্ছেন। কেউ কেউ সম্পদ বিক্রি করছেন। অনেকে পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন।
বর্তমানে এ অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক গভীর ও অগভীর নলকূপের ওপর নির্ভরশীল। সমস্যা হচ্ছে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় অনেক নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ছে। এক দশক আগে যেখানে ৮০-৮৫ ফুট গভীরতায় পানি পাওয়া যেত, এখন তা ১৩০ ফুটের নিচে নেমেছে।
বরেন্দ্র অঞ্চল বাংলাদেশের অন্যতম খরাপ্রবণ এলাকা। সেখানকার কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদি হুমকির মুখে। এই সমস্যা আর উপেক্ষা করা যায় না। ভূপৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বাড়ানো দরকার। কম খরচের সেচ প্রযুক্তি কাজে লাগাতে হবে। কম সুদের ঋণ নিশ্চিত করতে হবে। খরাপীড়িত কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তা চালু করা যায় কিনা সেটা ভেবে দেখতে হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা যাতে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে পারেন সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন