কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে নারী-শিশুসহ সাতজনকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। অভিযোগ রয়েছে, তাদেরকে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। তাদের উন্নত জীবন ও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারীরা ওই বসতঘরে নিয়ে এসেছিল। অভিযানের খবর পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। এই ঘটনা মানব পাচারের চলমান নেটওয়ার্কের আরেকটি উদাহরণ।
দেশ থেকে প্রতিনিয়ত মানুষ বিদেশে যাওয়ার আশায় দালালদের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে বিদেশে পাঠানো হয়। যাত্রাপথে মৃত্যু, নির্যাতন ও কারাবাসের ঘটনা ঘটছে। দিন কয়েক আগে ইউরোপ যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ২২ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ধরনের মৃত্যু বা নিখোঁজের ঘটনা ঘটলে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয় না।
মানব পাচারের ঘটনায় মামলা হয়। তবে দোষীদের সাজা হয় কতটা সেটা একটা প্রশ্ন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মানব পাচার মামলায় আসামিদের ৯৪-৯৫ শতাংশ খালাস পেয়েছে। সিআইডির হিসাবেও গ্রেপ্তারের সংখ্যা কম। মানবপাচারে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চক্রের যোগসাজশ রয়েছে। এ কারণে প্রমাণ সংগ্রহ কঠিন হয়। ভুক্তভোগীরাও অনেক সময় অভিযুক্তদের সঙ্গে আপস করেন। এতে করে পাচারকারীরা উৎসাহিত হয়, অপরাধ চক্র অব্যাহত থাকে।
আকাশ, সমুদ্র ও স্থলপথে মানবপাচারের জটিল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। রুটও বদলাচ্ছে। কয়েকটি জেলা মানবপাচারের হটস্পট হয়ে উঠেছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। মানব পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে মাঝে অভিযান চালায়। তবে অভিযান চালানোই যথেষ্ট নয়। পাচারচক্রের নেপথ্যের গডফাদারদের ধরতে হবে। মামলার দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
মানবপাচার রোধে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। যাতে করে মানুষ কোনো প্রলোভনে পড়ে জীবনের ঝুঁকি না নেয়।

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে নারী-শিশুসহ সাতজনকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। অভিযোগ রয়েছে, তাদেরকে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। তাদের উন্নত জীবন ও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারীরা ওই বসতঘরে নিয়ে এসেছিল। অভিযানের খবর পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। এই ঘটনা মানব পাচারের চলমান নেটওয়ার্কের আরেকটি উদাহরণ।
দেশ থেকে প্রতিনিয়ত মানুষ বিদেশে যাওয়ার আশায় দালালদের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে বিদেশে পাঠানো হয়। যাত্রাপথে মৃত্যু, নির্যাতন ও কারাবাসের ঘটনা ঘটছে। দিন কয়েক আগে ইউরোপ যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ২২ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ধরনের মৃত্যু বা নিখোঁজের ঘটনা ঘটলে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয় না।
মানব পাচারের ঘটনায় মামলা হয়। তবে দোষীদের সাজা হয় কতটা সেটা একটা প্রশ্ন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মানব পাচার মামলায় আসামিদের ৯৪-৯৫ শতাংশ খালাস পেয়েছে। সিআইডির হিসাবেও গ্রেপ্তারের সংখ্যা কম। মানবপাচারে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চক্রের যোগসাজশ রয়েছে। এ কারণে প্রমাণ সংগ্রহ কঠিন হয়। ভুক্তভোগীরাও অনেক সময় অভিযুক্তদের সঙ্গে আপস করেন। এতে করে পাচারকারীরা উৎসাহিত হয়, অপরাধ চক্র অব্যাহত থাকে।
আকাশ, সমুদ্র ও স্থলপথে মানবপাচারের জটিল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। রুটও বদলাচ্ছে। কয়েকটি জেলা মানবপাচারের হটস্পট হয়ে উঠেছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। মানব পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে মাঝে অভিযান চালায়। তবে অভিযান চালানোই যথেষ্ট নয়। পাচারচক্রের নেপথ্যের গডফাদারদের ধরতে হবে। মামলার দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
মানবপাচার রোধে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। যাতে করে মানুষ কোনো প্রলোভনে পড়ে জীবনের ঝুঁকি না নেয়।

আপনার মতামত লিখুন