পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতলের বিভিন্ন জাতিসত্তার প্রধান সামাজিক উৎসবগুলোতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) স্থায়ী ছুটির দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, বৈ-সা-বি (বৈসুক, সাংগ্রাই, বিজু), সাংক্রান, বিষুয়া এবং সমতলের বাহা, কারাম ও সোহরাই উৎসবের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা শিথিল করতে হবে। একইসঙ্গে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে এসব উৎসবের জন্য স্থায়ী ছুটির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিব কুমার ওরাওঁ বলেন, বাংলাদেশে ৪টি পাহাড়ি ও প্রায় ৪০টি সমতলের জাতিগোষ্ঠী রয়েছে। বড় বড় সম্প্রদায়ের উৎসবে ছুটি থাকলেও আদিবাসীদের প্রধান উৎসবে কোনো ছুটি রাখা হয় না। বৈচিত্র্যময় এই দেশে সংখ্যালঘুদের প্রধান উৎসবগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন ও সরকারকে ছুটির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।
এসময় আদিবাসী ছাত্র পরিষদ রাবি শাখার সভাপতি বিথী এক্কা বলেন, পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের নানা সাংস্কৃতিক উৎসব থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কোনো ছুটি নেই। উৎসবের সময় ক্লাস ও পরীক্ষা চলতে থাকায় শিক্ষার্থীরা নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তাই উৎসব চলাকালীন পরীক্ষা-ক্লাস শিথিল ও ছুটির দাবি জানান তিনি।
সংহতি জানিয়ে কর্মসূচিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ঈদের মতো আদিবাসীদের উৎসবেরও সমান আবেগ রয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তি সংগ্রামের চেতনা ছিল সাংস্কৃতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে, অথচ এখনো ক্ষুদ্র জাতিসত্তাদের উৎসবে ছুটি না থাকাটা দুঃখজনক। এটি তাদের সাংস্কৃতিক অধিকারের পরিপন্থী। ২০২৪-এর পরবর্তী সময়ে বৈষম্যহীন দেশ গড়তে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি নির্দেশনার মাধ্যমে আদিবাসীদের উৎসবে ছুটি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
কর্মসূচিতে রাবি শাখা বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, বাংলাদেশ কোচ-রাজবংশী-বর্মণ সংগঠন এবং মুন্ডা স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর নেতা-কর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতলের বিভিন্ন জাতিসত্তার প্রধান সামাজিক উৎসবগুলোতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) স্থায়ী ছুটির দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, বৈ-সা-বি (বৈসুক, সাংগ্রাই, বিজু), সাংক্রান, বিষুয়া এবং সমতলের বাহা, কারাম ও সোহরাই উৎসবের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা শিথিল করতে হবে। একইসঙ্গে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে এসব উৎসবের জন্য স্থায়ী ছুটির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিব কুমার ওরাওঁ বলেন, বাংলাদেশে ৪টি পাহাড়ি ও প্রায় ৪০টি সমতলের জাতিগোষ্ঠী রয়েছে। বড় বড় সম্প্রদায়ের উৎসবে ছুটি থাকলেও আদিবাসীদের প্রধান উৎসবে কোনো ছুটি রাখা হয় না। বৈচিত্র্যময় এই দেশে সংখ্যালঘুদের প্রধান উৎসবগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন ও সরকারকে ছুটির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।
এসময় আদিবাসী ছাত্র পরিষদ রাবি শাখার সভাপতি বিথী এক্কা বলেন, পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের নানা সাংস্কৃতিক উৎসব থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কোনো ছুটি নেই। উৎসবের সময় ক্লাস ও পরীক্ষা চলতে থাকায় শিক্ষার্থীরা নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তাই উৎসব চলাকালীন পরীক্ষা-ক্লাস শিথিল ও ছুটির দাবি জানান তিনি।
সংহতি জানিয়ে কর্মসূচিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ঈদের মতো আদিবাসীদের উৎসবেরও সমান আবেগ রয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তি সংগ্রামের চেতনা ছিল সাংস্কৃতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে, অথচ এখনো ক্ষুদ্র জাতিসত্তাদের উৎসবে ছুটি না থাকাটা দুঃখজনক। এটি তাদের সাংস্কৃতিক অধিকারের পরিপন্থী। ২০২৪-এর পরবর্তী সময়ে বৈষম্যহীন দেশ গড়তে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি নির্দেশনার মাধ্যমে আদিবাসীদের উৎসবে ছুটি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
কর্মসূচিতে রাবি শাখা বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, বাংলাদেশ কোচ-রাজবংশী-বর্মণ সংগঠন এবং মুন্ডা স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর নেতা-কর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন