সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

হামের টিকাদান কর্মসূচি: সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে


প্রকাশ: ২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

হামের টিকাদান কর্মসূচি: সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে

আগামী রোববার থেকে দেশব্যাপী হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সব শিশুকে এই টিকা দেয়া হবে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। 

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সব শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে আমরা মনে করি। নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি এই বিশেষ উদ্যোগ চালু রাখার ঘোষণাও ইতিবাচক। 

গত বছর হামের টিকাদানের হার মাত্র ৫৬.২ শতাংশে নেমে এসেছিল। অনেক শিশু টিকার বাইরে রয়ে গেছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ ছয়টি জেলায় সংক্রমণ বেশি ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ কর্মসূচির প্রয়োজন ছিল। 

হাম একটি সংক্রমক রোগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া না হলে এই রোগ শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। টিকাদানের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করা সম্ভব। অতীতে দেশে টিকাদানের হার ছিল সন্তোষজনক। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন কারণে টিকা দেয়ার হার কমে গেছে। এখন যথাসময়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারলে শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়। 

টিকাদান কর্মসূচি সফল করার জন্য শুধু ঘোষণা যথেষ্ট নয়। মাঠপর্যায়ে টিকা সরবরাহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগ যদি এই কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হামের ঝুঁকি থেকে অনেকাংশে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করতে চাই। 

টিকাদানে অভিভাবকদের সচেতনতা এবং অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত বয়সে শিশুদের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসা নিশ্চিত না হলে কোনো কর্মসূচিই পূর্ণতা পায় না। এ ক্ষেত্রে তথ্য প্রচার ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা দরকার। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬


হামের টিকাদান কর্মসূচি: সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

আগামী রোববার থেকে দেশব্যাপী হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সব শিশুকে এই টিকা দেয়া হবে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। 

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সব শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে আমরা মনে করি। নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি এই বিশেষ উদ্যোগ চালু রাখার ঘোষণাও ইতিবাচক। 

গত বছর হামের টিকাদানের হার মাত্র ৫৬.২ শতাংশে নেমে এসেছিল। অনেক শিশু টিকার বাইরে রয়ে গেছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ ছয়টি জেলায় সংক্রমণ বেশি ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ কর্মসূচির প্রয়োজন ছিল। 

হাম একটি সংক্রমক রোগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া না হলে এই রোগ শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। টিকাদানের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করা সম্ভব। অতীতে দেশে টিকাদানের হার ছিল সন্তোষজনক। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন কারণে টিকা দেয়ার হার কমে গেছে। এখন যথাসময়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারলে শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়। 

টিকাদান কর্মসূচি সফল করার জন্য শুধু ঘোষণা যথেষ্ট নয়। মাঠপর্যায়ে টিকা সরবরাহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগ যদি এই কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হামের ঝুঁকি থেকে অনেকাংশে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করতে চাই। 

টিকাদানে অভিভাবকদের সচেতনতা এবং অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত বয়সে শিশুদের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসা নিশ্চিত না হলে কোনো কর্মসূচিই পূর্ণতা পায় না। এ ক্ষেত্রে তথ্য প্রচার ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা দরকার। 


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত