সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ফসল রক্ষা বাঁধের কারণে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। দেখার হাওর, জোয়াল ভাঙা হাওর, টগার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত একর জমির ফসল ঝুঁকিতে পড়েছে। এ নিয়ে সংবাদে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
হাওরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা নতুন কোনো সমস্যা নয়। প্রতি বছর বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি জমে সেখানে এই সংকট তৈরি হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের কারণে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। ২০১৮ সাল থেকে নির্মিত অনেক বাঁধ হাওরের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণে হাওরের কৃষকরা প্রতি মৌসুমে ক্ষতির মুখে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মত হচ্ছে, স্লুইস গেট নির্মাণ করলে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে। স্লুইস গেট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জমি অধিগ্রহণ ও বরাদ্দের অভাবে কাজ আটকে আছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এ কারণে কৃষকরা আর কত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের ফসলহানি হওয়ার আগে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। কিন্তু সেটা কি সম্ভব হবে? জরুরি ভিত্তিতে যেসব বাঁধ জলাবদ্ধতা তৈরি করছে, সেগুলোর ভেতর দিয়ে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করা যায় কিনা সেটা ভেবে দেখতে হবে। ভবিষ্যতে এই সংকট এড়াতে নদী খনন ও প্রয়োজনীয় বাঁধ সংস্কার করতে হবে। সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে প্রতি বছর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
হাওর অঞ্চল দেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেখানকার কৃষকদের সুরক্ষা না দিলে সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিষয়টি মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ফসল রক্ষা বাঁধের কারণে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। দেখার হাওর, জোয়াল ভাঙা হাওর, টগার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত একর জমির ফসল ঝুঁকিতে পড়েছে। এ নিয়ে সংবাদে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
হাওরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা নতুন কোনো সমস্যা নয়। প্রতি বছর বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি জমে সেখানে এই সংকট তৈরি হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের কারণে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। ২০১৮ সাল থেকে নির্মিত অনেক বাঁধ হাওরের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণে হাওরের কৃষকরা প্রতি মৌসুমে ক্ষতির মুখে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মত হচ্ছে, স্লুইস গেট নির্মাণ করলে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে। স্লুইস গেট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জমি অধিগ্রহণ ও বরাদ্দের অভাবে কাজ আটকে আছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এ কারণে কৃষকরা আর কত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের ফসলহানি হওয়ার আগে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। কিন্তু সেটা কি সম্ভব হবে? জরুরি ভিত্তিতে যেসব বাঁধ জলাবদ্ধতা তৈরি করছে, সেগুলোর ভেতর দিয়ে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করা যায় কিনা সেটা ভেবে দেখতে হবে। ভবিষ্যতে এই সংকট এড়াতে নদী খনন ও প্রয়োজনীয় বাঁধ সংস্কার করতে হবে। সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে প্রতি বছর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
হাওর অঞ্চল দেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেখানকার কৃষকদের সুরক্ষা না দিলে সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিষয়টি মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন