‘‘বই মেলায় কার বই? মানে কী? বই মেলায় লেখকের বই! বই মেলায় লেখকের বই থাকবে না তো কী থাকবে? ডাক্তারের লেখা প্রেস্ক্রিপশন! যত্তসব আদিখ্যেতা।’’
‘‘আরে জঙ্গল বই মেলায় থাকবে লেখকের বই, এ নিয়ে তোর সঙ্গে আমার কোনো বিবাদ নেই, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যে কেউ একজন দিস্তা দিস্তা কাগজ নিয়ে তার জীবনের কিছু কথা লিখলো, প্রেসে যেয়ে বই ছাপালো, ব্যাস ওইটা বই হয়ে গেল?’’
‘‘নিশ্চই, প্রেসে ছাপা বই, শক্ত দেড় ইঞ্চি পিসবোর্ড দিয়া বান্ধায়া মলাট দিলাম, ধ্রুবএষ প্রচ্ছদ, আর্কাইভ থ্যেইক্কা আই.এস.বি.এন. নাম্বার লাগাইলাম ব্যাস হয়াগেলো বই। এর মইধ্যে প্রবলেম কিতা!’’
‘না’ বলছিলাম সাহিত্য পদবাচ্য বলে কিছু থাকবে না! প্রেসে ছাপা বই, শক্ত দেড় ইঞ্চি পিসবোর্ড দিয়ে মলাট, ধ্রুবএষ প্রচ্ছদ, আর্কাইভ থ্যেইক্কা আই.এস. বি.এন. নাম্বার, ব্যাস হয়ে গেলো বই!”
“ওই মিয়াভাই, সাহিত্যতো বিচার করবো পাঠকে, হ্যারা যেইটা পইড়া মজা পাইবো, হেইটা সাহিত্য, যেই বই বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাইবো, হ্যেইডাই বই।”
“তাহলে যে বই পুরস্কার পাবেনা সেগুলো কি বই না?”
“পাগোলের মতুন কিতা মাতেনরে বা, একটা ক্লাসে সব ছাত্র কি ফার্স্ট হয়? আর যারা ফার্স্ট হয়না তারাকি ছাত্র না?”
“বুঝলাম সেরা সাহিত্য পদবাচ্য বইটি পুরস্কার পেলো, আর অন্য বইগুলোও সাহিত্যের বিভিন্নরস সম্বলিত। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে আজকাল যে সব বইগুলো সাহিত্যের ধারে কাছে নেই, সে সব বইতো বইমেলায় ভরে যাচ্ছে, তাহলে এগুলোর কি হবে!”
“আপনে কি বলতে চাচ্ছেন যে, এইযে মনে করেন কথাশিল্পী শওকত ওসমান, আবু জাফর শামসুদ্দিন, আহসান হাবিব, আলাউদ্দিন আল আজাদ...”
“বুঝলাম বুঝলাম, এইসব মাদ্রাসাছাত্ররা পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যের এক একজন দিকপাল হয়ে ওঠেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এসব, কথাশিল্পী শওকত ওসমান, আবু জাফর শামসুদ্দিন, আহসান হাবিব, আলাউদ্দিন আল আজাদ, ইনারা তাদের পাঠ্য পরিক্রমায় পাঠ করেছেন, মহাকবি শেক্সপিয়ার, কবি মিল্টন, হোমারের দি ইলিয়াড, ওয়ার্ডস ওয়ার্থ, আলেক্সজান্ডার ডুমা, সোফোক্লিস, ইউরিপিডিস, বায়রন...”
“বুঝছি বুঝছি কথাশিল্পী শওকত ওসমান, আবু জাফর শামসুদ্দিন, আহসান হাবিব, আলাউদ্দিন আল আজাদ...ইনারা সব বিশ্বসাহিত্যের ধারক বাহকদের লেখার সঙ্গে পরিচিত হোই, নিজেগো বেইস শক্ত করছে আর বর্তমান বাংলা সাহিত্যরে উন্নতি করছেন।”
“এইসব বাংলা সাহিত্যের দিকপালদের জীবনের শুরু থেকেই পরিচিত হচ্ছেন বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে আর তোদের বর্তমান লেখকরা পরিচিত হচ্ছেন কথাশিল্পী শওকত ওসমান, আবু জাফর শামসুদ্দিন, আহসান হাবিব, আলাউদ্দিন আল আজাদ এদের সাহিত্যকর্মের সঙ্গে অতএব বুঝতেই পারিস তোদের লেখকদের সাহিত্যমান কি হবে!”
“হেঁ হেঁ, এ কথা বললেতো হবে না, আমরা অখন যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম করছি যে, রবীন্দ্রনাথ, যতীন্দ্রনাথ, প্রমথনাথ, যদুনাথ সব বিধর্মী সাহিত্য স্কুল কলেজ থেইকে বাদ দিয়েছি যে, ফলে আমার বর্তমান বাংলা সাহিত্যসেবীরা দ্বীনের আলোয় উদ্ভাসিত হোই বাংলা সাহিত্যরে পবিত্রতম স্থানে পৌঁছে দেবে যে।”
“ঠিক আছে তোর বাংলা সাহিত্য পুত-পবিত্র এক অনন্য মর্যাদায় পৌঁছে যাবে। যারা এইসব বিধর্মী বিবর্জিত সাহিত্য সাধনা করবেন তাদের সাহিত্য যে সব ঘরে পঠিত হবে সে সব ঘরে কখোনোই কোনো অপদেবতার আসর হবে না।”
“হেঁ হেঁ বুইচেন না, এই সব বিধর্মী বিবর্জিত সাহিত্য ঘরে ঘরে পাঠ করলে, ভূত, পেত্নি, দৈত্যি-দানো কখনোই আপনের বাড়ির ত্রিসীমানায় আইবার পারবেনা যে।”
“বুঝলাম ভাই তোর বিধর্মী বিবর্জিত সাহিত্য পাঠে জীবনের সব বালামসিবত দূর হবে। কিন্তু এগুলোকি মানে এইসব লেখাগুলোকি সাহিত্য পদ মর্যাদা পাবে?”
“আরে মিয়া আপনেতো বীষম প্যাচাইল্লা মানুষ সাহিত্য হোইবোনা মানে এই যে দেখেন আমাদের অবসার প্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব স্যার প্রথম যে হিন্দু ভদ্রলোক আমাদের বিশ্বের পবিত্রতম গ্রন্থ কোরান শরীফ বাংলায় অনুবাদ করছিলেন, সেই ভাই গিরিশচন্দ্র সেনের জীবন ও কর্ম লিখে এবং প্রকাশকরে নিজের আখেরাতের জন্য সোয়াব কামাইছেন। পিলাস উনি উপন্যাস, গল্প, কবিতা, নিবন্ধ, ভ্রমণকাহিনি, শ্রমকল্যাণ, ভূগোল, গবেষণা, জীবনী, বিবিধ প্রায় ৮০টি বই লিখেছেন। চিন্তা করতে পারেন স্যারদের বাংলা সাহিত্যের প্রতি কিরুপ ডেডিকেশন!”
“বলিস কি? অতিরিক্ত সচিব যদি ৮০টি বই লিখেন, তাহলে সচিব স্যার কয়টা বই লিখবেন? ১৬০টি!”
“না না এভাবে ডিডাকটিভ লজিকের মতো কথা বললে যে, ফ্যালাসি অব মিডেল টার্ম হবে।”
“ফ্যালাসি অব মিডেল টার্ম, মানে কিরে?”
“এই যেমন ধরেন, আমি টেবিল ছুঁয়েছি, টেবিল ফ্লোর ছুঁয়েছে অতএব আমি ফ্লোর ছুঁয়েছি। এই রকম ফ্যালাসি অব মিডেল টার্ম আর কি? তাই চট-যলদি বললে হবেনা, অতিরিক্ত সচিব স্যার যা লিখছেন সচিব স্যার তার ডবল লিখবেন।”
“থাক ভাই আমার বলার কিছুই ছিলনা, তুই তোর স্যারদের, বিধর্মী বিবর্জিত সাহিত্য পাঠে জীবনের সব বালামসিবত দূর কর, আমার বই মেলায় সব অবসরপ্রাপ্তদের স্যারদের বালামসিবত দূর করা বই সাপ্লাই করে ভরিয়ে তোল, তাতে বাংলা সাহিত্যের উন্নতি হোক না হোক আমাদের আখেরাতের জীবন সহজ হোক এই কামনা করি। তোদের আরও উন্নতি হোক, সরকারি কর্মচারীরা দরকার হলে ছন্দনামে বালামসিবত দূর করার পুস্তক রচনা করুন। বাংলা সাহিত্যের করুণ অবস্থার উন্নতি করুন, পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার দরবারে এই আমার প্রার্থনা।”
“কওন যায়না, এই পবিত্রতম মাসে আপনের ইচ্ছা কবুলও হতে পারে। শোনেন পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার দরবারে সফেদ দীলে কিছু চাইলে, তাতে শুধু বাংলা সাহিত্য না, জীবনের সব কিছুর উন্নতি হবে বুজেছেন!”
“তোর মুখে ঘী’শক্কর, তুই বই মেলায় বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে মানব কল্যাণে নিজেরে নিবেদিত কর, আর বাংলা একাডেমিকে শুধু বাংলা সাহিত্যের উন্নতিনয় আখেরাতের রাস্তা উন্নয়নেও কাজে লাগা।”
“দেখি এই পবিত্র মাসে, আপনের খায়েস কবুল হয় কিনা, আর বাংলা একাডেমিকে আখেরাতের রাস্তা উন্নয়নের কাজে লাগান যায় কিনা?”
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
‘‘বই মেলায় কার বই? মানে কী? বই মেলায় লেখকের বই! বই মেলায় লেখকের বই থাকবে না তো কী থাকবে? ডাক্তারের লেখা প্রেস্ক্রিপশন! যত্তসব আদিখ্যেতা।’’
‘‘আরে জঙ্গল বই মেলায় থাকবে লেখকের বই, এ নিয়ে তোর সঙ্গে আমার কোনো বিবাদ নেই, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যে কেউ একজন দিস্তা দিস্তা কাগজ নিয়ে তার জীবনের কিছু কথা লিখলো, প্রেসে যেয়ে বই ছাপালো, ব্যাস ওইটা বই হয়ে গেল?’’
‘‘নিশ্চই, প্রেসে ছাপা বই, শক্ত দেড় ইঞ্চি পিসবোর্ড দিয়া বান্ধায়া মলাট দিলাম, ধ্রুবএষ প্রচ্ছদ, আর্কাইভ থ্যেইক্কা আই.এস.বি.এন. নাম্বার লাগাইলাম ব্যাস হয়াগেলো বই। এর মইধ্যে প্রবলেম কিতা!’’
‘না’ বলছিলাম সাহিত্য পদবাচ্য বলে কিছু থাকবে না! প্রেসে ছাপা বই, শক্ত দেড় ইঞ্চি পিসবোর্ড দিয়ে মলাট, ধ্রুবএষ প্রচ্ছদ, আর্কাইভ থ্যেইক্কা আই.এস. বি.এন. নাম্বার, ব্যাস হয়ে গেলো বই!”
“ওই মিয়াভাই, সাহিত্যতো বিচার করবো পাঠকে, হ্যারা যেইটা পইড়া মজা পাইবো, হেইটা সাহিত্য, যেই বই বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাইবো, হ্যেইডাই বই।”
“তাহলে যে বই পুরস্কার পাবেনা সেগুলো কি বই না?”
“পাগোলের মতুন কিতা মাতেনরে বা, একটা ক্লাসে সব ছাত্র কি ফার্স্ট হয়? আর যারা ফার্স্ট হয়না তারাকি ছাত্র না?”
“বুঝলাম সেরা সাহিত্য পদবাচ্য বইটি পুরস্কার পেলো, আর অন্য বইগুলোও সাহিত্যের বিভিন্নরস সম্বলিত। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে আজকাল যে সব বইগুলো সাহিত্যের ধারে কাছে নেই, সে সব বইতো বইমেলায় ভরে যাচ্ছে, তাহলে এগুলোর কি হবে!”
“আপনে কি বলতে চাচ্ছেন যে, এইযে মনে করেন কথাশিল্পী শওকত ওসমান, আবু জাফর শামসুদ্দিন, আহসান হাবিব, আলাউদ্দিন আল আজাদ...”
“বুঝলাম বুঝলাম, এইসব মাদ্রাসাছাত্ররা পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যের এক একজন দিকপাল হয়ে ওঠেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এসব, কথাশিল্পী শওকত ওসমান, আবু জাফর শামসুদ্দিন, আহসান হাবিব, আলাউদ্দিন আল আজাদ, ইনারা তাদের পাঠ্য পরিক্রমায় পাঠ করেছেন, মহাকবি শেক্সপিয়ার, কবি মিল্টন, হোমারের দি ইলিয়াড, ওয়ার্ডস ওয়ার্থ, আলেক্সজান্ডার ডুমা, সোফোক্লিস, ইউরিপিডিস, বায়রন...”
“বুঝছি বুঝছি কথাশিল্পী শওকত ওসমান, আবু জাফর শামসুদ্দিন, আহসান হাবিব, আলাউদ্দিন আল আজাদ...ইনারা সব বিশ্বসাহিত্যের ধারক বাহকদের লেখার সঙ্গে পরিচিত হোই, নিজেগো বেইস শক্ত করছে আর বর্তমান বাংলা সাহিত্যরে উন্নতি করছেন।”
“এইসব বাংলা সাহিত্যের দিকপালদের জীবনের শুরু থেকেই পরিচিত হচ্ছেন বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে আর তোদের বর্তমান লেখকরা পরিচিত হচ্ছেন কথাশিল্পী শওকত ওসমান, আবু জাফর শামসুদ্দিন, আহসান হাবিব, আলাউদ্দিন আল আজাদ এদের সাহিত্যকর্মের সঙ্গে অতএব বুঝতেই পারিস তোদের লেখকদের সাহিত্যমান কি হবে!”
“হেঁ হেঁ, এ কথা বললেতো হবে না, আমরা অখন যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম করছি যে, রবীন্দ্রনাথ, যতীন্দ্রনাথ, প্রমথনাথ, যদুনাথ সব বিধর্মী সাহিত্য স্কুল কলেজ থেইকে বাদ দিয়েছি যে, ফলে আমার বর্তমান বাংলা সাহিত্যসেবীরা দ্বীনের আলোয় উদ্ভাসিত হোই বাংলা সাহিত্যরে পবিত্রতম স্থানে পৌঁছে দেবে যে।”
“ঠিক আছে তোর বাংলা সাহিত্য পুত-পবিত্র এক অনন্য মর্যাদায় পৌঁছে যাবে। যারা এইসব বিধর্মী বিবর্জিত সাহিত্য সাধনা করবেন তাদের সাহিত্য যে সব ঘরে পঠিত হবে সে সব ঘরে কখোনোই কোনো অপদেবতার আসর হবে না।”
“হেঁ হেঁ বুইচেন না, এই সব বিধর্মী বিবর্জিত সাহিত্য ঘরে ঘরে পাঠ করলে, ভূত, পেত্নি, দৈত্যি-দানো কখনোই আপনের বাড়ির ত্রিসীমানায় আইবার পারবেনা যে।”
“বুঝলাম ভাই তোর বিধর্মী বিবর্জিত সাহিত্য পাঠে জীবনের সব বালামসিবত দূর হবে। কিন্তু এগুলোকি মানে এইসব লেখাগুলোকি সাহিত্য পদ মর্যাদা পাবে?”
“আরে মিয়া আপনেতো বীষম প্যাচাইল্লা মানুষ সাহিত্য হোইবোনা মানে এই যে দেখেন আমাদের অবসার প্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব স্যার প্রথম যে হিন্দু ভদ্রলোক আমাদের বিশ্বের পবিত্রতম গ্রন্থ কোরান শরীফ বাংলায় অনুবাদ করছিলেন, সেই ভাই গিরিশচন্দ্র সেনের জীবন ও কর্ম লিখে এবং প্রকাশকরে নিজের আখেরাতের জন্য সোয়াব কামাইছেন। পিলাস উনি উপন্যাস, গল্প, কবিতা, নিবন্ধ, ভ্রমণকাহিনি, শ্রমকল্যাণ, ভূগোল, গবেষণা, জীবনী, বিবিধ প্রায় ৮০টি বই লিখেছেন। চিন্তা করতে পারেন স্যারদের বাংলা সাহিত্যের প্রতি কিরুপ ডেডিকেশন!”
“বলিস কি? অতিরিক্ত সচিব যদি ৮০টি বই লিখেন, তাহলে সচিব স্যার কয়টা বই লিখবেন? ১৬০টি!”
“না না এভাবে ডিডাকটিভ লজিকের মতো কথা বললে যে, ফ্যালাসি অব মিডেল টার্ম হবে।”
“ফ্যালাসি অব মিডেল টার্ম, মানে কিরে?”
“এই যেমন ধরেন, আমি টেবিল ছুঁয়েছি, টেবিল ফ্লোর ছুঁয়েছে অতএব আমি ফ্লোর ছুঁয়েছি। এই রকম ফ্যালাসি অব মিডেল টার্ম আর কি? তাই চট-যলদি বললে হবেনা, অতিরিক্ত সচিব স্যার যা লিখছেন সচিব স্যার তার ডবল লিখবেন।”
“থাক ভাই আমার বলার কিছুই ছিলনা, তুই তোর স্যারদের, বিধর্মী বিবর্জিত সাহিত্য পাঠে জীবনের সব বালামসিবত দূর কর, আমার বই মেলায় সব অবসরপ্রাপ্তদের স্যারদের বালামসিবত দূর করা বই সাপ্লাই করে ভরিয়ে তোল, তাতে বাংলা সাহিত্যের উন্নতি হোক না হোক আমাদের আখেরাতের জীবন সহজ হোক এই কামনা করি। তোদের আরও উন্নতি হোক, সরকারি কর্মচারীরা দরকার হলে ছন্দনামে বালামসিবত দূর করার পুস্তক রচনা করুন। বাংলা সাহিত্যের করুণ অবস্থার উন্নতি করুন, পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার দরবারে এই আমার প্রার্থনা।”
“কওন যায়না, এই পবিত্রতম মাসে আপনের ইচ্ছা কবুলও হতে পারে। শোনেন পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার দরবারে সফেদ দীলে কিছু চাইলে, তাতে শুধু বাংলা সাহিত্য না, জীবনের সব কিছুর উন্নতি হবে বুজেছেন!”
“তোর মুখে ঘী’শক্কর, তুই বই মেলায় বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে মানব কল্যাণে নিজেরে নিবেদিত কর, আর বাংলা একাডেমিকে শুধু বাংলা সাহিত্যের উন্নতিনয় আখেরাতের রাস্তা উন্নয়নেও কাজে লাগা।”
“দেখি এই পবিত্র মাসে, আপনের খায়েস কবুল হয় কিনা, আর বাংলা একাডেমিকে আখেরাতের রাস্তা উন্নয়নের কাজে লাগান যায় কিনা?”
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

আপনার মতামত লিখুন