সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

হরমুজ অবরোধে উপসাগরে আটকা ২১৯০ জাহাজ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

হরমুজ অবরোধে উপসাগরে আটকা ২১৯০ জাহাজ
পারস্য উপসাগরে আটকা ২১৯০ জাহাজ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। ফলে আরব উপসাগরে আটকা পড়েছে অন্তত ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক নৌযান। এসব নৌযানের মধ্যে ৩২০টির বেশি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার রয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে এখন খুব সীমিত আকারে জাহাজ চলাচল করতে পারছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সমুদ্রে যান চলাচল বিষয়ক সর্বশেষ তথ্যের বরাত দিয়ে আরব নিউজ এ খবর জানিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের অন্তত এক-পঞ্চমাংশের পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। এর আগে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি নৌযান চলাচল করত। গত মঙ্গল ও বুধবার মাত্র ছয়টি জাহাজ হরমুজ পার হতে পেরেছে বলে জানিয়েছে সমুদ্রে যান চলাচলের খোঁজখবর রাখা প্রতিষ্ঠান কেপলার।

যেসব নৌযান হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি পেয়েছে, তাদের ইরানের উপকূলের কাছে লারাক দ্বীপের কাছ দিয়ে যেতে হচ্ছে। গত সপ্তাহ থেকে অন্তত ৪৮টি নৌযান এ পথ ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে বলে জানিয়েছে জাহাজ চলাচল বিষয়ক তথ্যদাতা লয়েড’স লিস্ট। মূলত ইরানের সংশ্লিষ্টতা আছে বা যেসব দেশের সঙ্গে তেহরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে—সেসব দেশের জাহাজকে পথ করে দিচ্ছে ইরান।

অবরুদ্ধ এই নৌযানগুলোর মধ্যে রয়েছে ১২টি বিশালাকার গ্যাসবাহী ও ৫০টি তেলবাহী ট্যাংকার। কিছু জাহাজ মালিককে এই সঙ্কীর্ণ জলসীমা পার হতে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি দিতে হচ্ছে। তবে মালয়েশিয়ার মতো ‘বন্ধু দেশগুলোর’ ক্ষেত্রে এই ফি নেবে না বলে আভাস দিয়েছে ইরান।

মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস, সাপুরা এনার্জি ও এমআইএসসি-র মতো কোম্পানির একাধিক ট্যাংকার এখন ছাড়পত্র পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কুয়ালালামপুরকে ইরান আশ্বস্ত করেছে, শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কারণে মালয়েশিয়ার কোনো নৌযান থেকে ফি নেওয়া হবে না।

চীন জানিয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর’ সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের অন্তত তিনটি নৌযান সম্প্রতি হরমুজ পার হয়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল ভারতে নিয়ে যাওয়া একটি গ্রিস-পরিচালিত ট্যাংকার ও একাধিক ভারতীয় পতাকাবাহী এলএনজি ক্যারিয়ারকেও হরমুজ পার হতে দিয়েছে ইরান।

তবে ছাড়পত্র পাওয়ার পরও মাইন, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোন হামলার ঝুঁকি এড়াতে রাতে যাত্রা বা শনাক্তকারী ডিভাইস বন্ধ রাখার মতো জটিল ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে নৌযানগুলোকে।

অবরোধের কারণে সৌদি আরব ও কাতারের মতো বড় জ্বালানি উৎপাদকদের রপ্তানি কার্যত বন্ধ। এতে কয়েকশ নৌযান ও প্রায় ২০ হাজার নাবিক উপসাগরীয় এলাকায় আটকা পড়েছেন। তবে পাকিস্তানের একটি নৌযান বুধবার তেল নিয়ে করাচি বন্দরে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আরব নিউজ। আসন্ন সপ্তাহগুলোতে আরও কিছু চালান পাকিস্তানে পৌঁছাবে বলে আশ্বস্ত করেছে দেশটির কর্মকর্তারা।

অবরুদ্ধ হরমুজ খুলতে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। যুক্তরাজ্য হরমুজে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে প্রায় ৩৫টি দেশের সঙ্গে বৈঠকে বসছে। চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে যুদ্ধবিরতি এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ইরানকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, হরমুজ অবরোধ তোলাসহ সব দাবি না মানলে ওয়াশিংটন ‘ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপ’ নেবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬


হরমুজ অবরোধে উপসাগরে আটকা ২১৯০ জাহাজ

প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। ফলে আরব উপসাগরে আটকা পড়েছে অন্তত ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক নৌযান। এসব নৌযানের মধ্যে ৩২০টির বেশি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার রয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে এখন খুব সীমিত আকারে জাহাজ চলাচল করতে পারছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সমুদ্রে যান চলাচল বিষয়ক সর্বশেষ তথ্যের বরাত দিয়ে আরব নিউজ এ খবর জানিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের অন্তত এক-পঞ্চমাংশের পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। এর আগে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি নৌযান চলাচল করত। গত মঙ্গল ও বুধবার মাত্র ছয়টি জাহাজ হরমুজ পার হতে পেরেছে বলে জানিয়েছে সমুদ্রে যান চলাচলের খোঁজখবর রাখা প্রতিষ্ঠান কেপলার।

যেসব নৌযান হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি পেয়েছে, তাদের ইরানের উপকূলের কাছে লারাক দ্বীপের কাছ দিয়ে যেতে হচ্ছে। গত সপ্তাহ থেকে অন্তত ৪৮টি নৌযান এ পথ ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে বলে জানিয়েছে জাহাজ চলাচল বিষয়ক তথ্যদাতা লয়েড’স লিস্ট। মূলত ইরানের সংশ্লিষ্টতা আছে বা যেসব দেশের সঙ্গে তেহরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে—সেসব দেশের জাহাজকে পথ করে দিচ্ছে ইরান।

অবরুদ্ধ এই নৌযানগুলোর মধ্যে রয়েছে ১২টি বিশালাকার গ্যাসবাহী ও ৫০টি তেলবাহী ট্যাংকার। কিছু জাহাজ মালিককে এই সঙ্কীর্ণ জলসীমা পার হতে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি দিতে হচ্ছে। তবে মালয়েশিয়ার মতো ‘বন্ধু দেশগুলোর’ ক্ষেত্রে এই ফি নেবে না বলে আভাস দিয়েছে ইরান।

মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস, সাপুরা এনার্জি ও এমআইএসসি-র মতো কোম্পানির একাধিক ট্যাংকার এখন ছাড়পত্র পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কুয়ালালামপুরকে ইরান আশ্বস্ত করেছে, শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কারণে মালয়েশিয়ার কোনো নৌযান থেকে ফি নেওয়া হবে না।

চীন জানিয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর’ সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের অন্তত তিনটি নৌযান সম্প্রতি হরমুজ পার হয়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল ভারতে নিয়ে যাওয়া একটি গ্রিস-পরিচালিত ট্যাংকার ও একাধিক ভারতীয় পতাকাবাহী এলএনজি ক্যারিয়ারকেও হরমুজ পার হতে দিয়েছে ইরান।

তবে ছাড়পত্র পাওয়ার পরও মাইন, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোন হামলার ঝুঁকি এড়াতে রাতে যাত্রা বা শনাক্তকারী ডিভাইস বন্ধ রাখার মতো জটিল ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে নৌযানগুলোকে।

অবরোধের কারণে সৌদি আরব ও কাতারের মতো বড় জ্বালানি উৎপাদকদের রপ্তানি কার্যত বন্ধ। এতে কয়েকশ নৌযান ও প্রায় ২০ হাজার নাবিক উপসাগরীয় এলাকায় আটকা পড়েছেন। তবে পাকিস্তানের একটি নৌযান বুধবার তেল নিয়ে করাচি বন্দরে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আরব নিউজ। আসন্ন সপ্তাহগুলোতে আরও কিছু চালান পাকিস্তানে পৌঁছাবে বলে আশ্বস্ত করেছে দেশটির কর্মকর্তারা।

অবরুদ্ধ হরমুজ খুলতে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। যুক্তরাজ্য হরমুজে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে প্রায় ৩৫টি দেশের সঙ্গে বৈঠকে বসছে। চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে যুদ্ধবিরতি এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ইরানকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, হরমুজ অবরোধ তোলাসহ সব দাবি না মানলে ওয়াশিংটন ‘ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপ’ নেবে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত