আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ ‘গায়েব’ হওয়াকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হার্ডড্রাইভ বদলে ফেলার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ তুলেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর জোহা।
তবে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অন্য এক প্রসিকিউটর
গাজী এম এইচ তামিম। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে এখন তোলপাড় চলছে খোদ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ফুটেজ গায়েবের
চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ্যে আনেন তানভীর জোহা। তিনি দাবি করেন, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি
অনুসন্ধানে নেমে হার্ডড্রাইভ বদলে ফেলার প্রমাণ পেয়েছে।
তবে এই দাবি নাকচ করে দিয়ে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম সাংবাদিকদের
হোয়াটসঅ্যাপে জানান, ‘ট্রাইব্যুনালের সিসিটিভি ফুটেজ থাকা না থাকার বিষয়ে ফ্যাক্টস
ফাইন্ডিং কমিটি এখনও কাজ শুরু করেনি। কমিটির পক্ষ থেকে প্রসিকিউটর জোহাকেও এ বিষয়ে
কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তিনিও এ বিষয়ে কমিটিকে কিছু জানাননি।’
তামিম আরও বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ থাকা না থাকার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য
তার ব্যক্তিগত। অনুসন্ধান চলাকালে এ ধরনের বক্তব্য অনভিপ্রেত।’ ট্রাইব্যুনালের সংরক্ষণ
কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে তিনি নিশ্চিত করেন, কোনো ফুটেজ গায়েব হয়নি।
তামিমের এমন বক্তব্যের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা
জবাবে তানভীর জোহা প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘বিষয়টা তো আপনারা বুঝতেই পারছেন। তামিম ভাই সিনিয়র,
তিনি প্রথমে বক্তব্যটা চিফ প্রসিকিউটরকে কোট করে দেন। কিন্তু পরে তা এডিট করে বাদ দেন।
আর তদন্তটা তো তার বিরুদ্ধে। তিনি কীভাবে এ বিষয়ে কথা বলেন?’
নিজের অবস্থানে অনড় থেকে জোহা সাফ জানিয়ে দেন, ফুটেজ গায়েব ও
হার্ডড্রাইভ বদলের বিষয়ে তিনি যা বলেছেন তা পুরোপুরি সত্য এবং তিনি এতে অটল আছেন।
ঘটনার নেপথ্যে জানা যায়, গত বছরের ১৩ অক্টোবর প্রসিকিউটর গাজী
এম এইচ তামিমের কক্ষে আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো মামলার এক আসামির স্বজন টাকার ব্যাগ নিয়ে
প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ তোলেন আরেক প্রসিকিউটর বিএম সুলতান। সেই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে
সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে গেলে দেখা যায়, নির্দিষ্ট ওই দিনের ভিডিও নেই।
এ বিষয়ে তানভীর জোহা বলেন, ‘প্রাথমিক অবস্থায় আমরা জানতে পেরেছি,
যে হার্ডড্রাইভগুলো থাকার কথা ছিলো, সেখানে কিছু হার্ডড্রাইভ রিপ্লেস হয়েছে। সিসলগ
এবং রেজিস্ট্রার খাতাতেও আমরা প্রাথমিক অবস্থায় বিষয়টি দেখতে পেয়েছি।’
প্রযুক্তির সাহায্যেও সেই হার্ডড্রাইভের তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব
হয়নি বলে জানান তিনি। তবে এটি এখন তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সুপারিশের
ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ ‘গায়েব’ হওয়াকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হার্ডড্রাইভ বদলে ফেলার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ তুলেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর জোহা।
তবে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অন্য এক প্রসিকিউটর
গাজী এম এইচ তামিম। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে এখন তোলপাড় চলছে খোদ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ফুটেজ গায়েবের
চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ্যে আনেন তানভীর জোহা। তিনি দাবি করেন, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি
অনুসন্ধানে নেমে হার্ডড্রাইভ বদলে ফেলার প্রমাণ পেয়েছে।
তবে এই দাবি নাকচ করে দিয়ে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম সাংবাদিকদের
হোয়াটসঅ্যাপে জানান, ‘ট্রাইব্যুনালের সিসিটিভি ফুটেজ থাকা না থাকার বিষয়ে ফ্যাক্টস
ফাইন্ডিং কমিটি এখনও কাজ শুরু করেনি। কমিটির পক্ষ থেকে প্রসিকিউটর জোহাকেও এ বিষয়ে
কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তিনিও এ বিষয়ে কমিটিকে কিছু জানাননি।’
তামিম আরও বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ থাকা না থাকার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য
তার ব্যক্তিগত। অনুসন্ধান চলাকালে এ ধরনের বক্তব্য অনভিপ্রেত।’ ট্রাইব্যুনালের সংরক্ষণ
কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে তিনি নিশ্চিত করেন, কোনো ফুটেজ গায়েব হয়নি।
তামিমের এমন বক্তব্যের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা
জবাবে তানভীর জোহা প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘বিষয়টা তো আপনারা বুঝতেই পারছেন। তামিম ভাই সিনিয়র,
তিনি প্রথমে বক্তব্যটা চিফ প্রসিকিউটরকে কোট করে দেন। কিন্তু পরে তা এডিট করে বাদ দেন।
আর তদন্তটা তো তার বিরুদ্ধে। তিনি কীভাবে এ বিষয়ে কথা বলেন?’
নিজের অবস্থানে অনড় থেকে জোহা সাফ জানিয়ে দেন, ফুটেজ গায়েব ও
হার্ডড্রাইভ বদলের বিষয়ে তিনি যা বলেছেন তা পুরোপুরি সত্য এবং তিনি এতে অটল আছেন।
ঘটনার নেপথ্যে জানা যায়, গত বছরের ১৩ অক্টোবর প্রসিকিউটর গাজী
এম এইচ তামিমের কক্ষে আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো মামলার এক আসামির স্বজন টাকার ব্যাগ নিয়ে
প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ তোলেন আরেক প্রসিকিউটর বিএম সুলতান। সেই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে
সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে গেলে দেখা যায়, নির্দিষ্ট ওই দিনের ভিডিও নেই।
এ বিষয়ে তানভীর জোহা বলেন, ‘প্রাথমিক অবস্থায় আমরা জানতে পেরেছি,
যে হার্ডড্রাইভগুলো থাকার কথা ছিলো, সেখানে কিছু হার্ডড্রাইভ রিপ্লেস হয়েছে। সিসলগ
এবং রেজিস্ট্রার খাতাতেও আমরা প্রাথমিক অবস্থায় বিষয়টি দেখতে পেয়েছি।’
প্রযুক্তির সাহায্যেও সেই হার্ডড্রাইভের তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব
হয়নি বলে জানান তিনি। তবে এটি এখন তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সুপারিশের
ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আপনার মতামত লিখুন