রাজধানীর গুলশানে এক শিল্পপতির ‘ফ্ল্যাট দখলের সময়’ তার স্ত্রী-সন্তানদের ‘মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের’ অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরদিনই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলেসহ তিনজন।
গিয়াস কাদের চৌধুরীর দুই
ছেলে সামির কাদের চৌধুরী ও শাকির কাদের চৌধুরী এবং মামলার অপর আসামি মেরিনা ইরশাদ বৃহস্পতিবার
ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে
আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন।
তাদের পক্ষে অ্যাডভোকেট
শরীফুল ইসলাম জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত তাদের জামিনের আদেশ দেন বলে
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মোক্তার হোসেন জানান। জামিনের মেয়াদ শেষে গত বুধবার আদালতে
হাজির না হওয়ায় এই তিন আসামিসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের
এমপি, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীও এ মামলার
আসামি। প্রয়াত শিল্পপতি মাইনুল ইসলামের স্ত্রী ফারজানা আন্না ইসলাম গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর
আদালতে ১৫ আসামির নামে এ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্ত
করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়,
গুলশানের মডেল টাউন এলাকায় ৬তলা ভবন নির্মাণে ‘সামসুল আলামিন রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের’
প্রোপ্রাইটার আরেফিন সামসুল আলমের সঙ্গে ২০০৬ সালে মাইনুল ইসলাম ও ফারজানা আন্না ইসলাম
দম্পতির চুক্তি করেন। ২০০৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর তারা বাড়ি বুঝে পান। পরের বছর ২০০৮ সালের
২৪ মার্চ মারা যান মাইনুল ইসলাম। তার মৃত্যুর পর সামসুল আলম অন্য আসামিদের নিয়ে ফ্ল্যাট
দখলের চেষ্টা করতে থাকেন। আসামিরা ‘জাল দলিল’ তৈরি করে বাড়ির দ্বিতীয় তলার সম্পূর্ণ
ফ্লোর দখলের চেষ্টা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালে
জুলাই অভ্যুত্থানের পর আসামিরা ‘আরও বেপরোয়া’ হয়ে ওঠে। গতবছর ১৪ জুলাই তারা ওই বাড়িতে
প্রবেশ করে ফ্ল্যাটগুলোর তালা ভেঙে দখল করার চেষ্টা করে। তারা ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি
করেন। ফারজানা আন্না ইসলামকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।
‘গত ২৮ আগস্ট আবারও তারা
বাসায় প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে বাসার লোকজনকে আহত করেন। তারা ১০ লাখ টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণের
জিনিসপত্র নিয়ে যান। এ সময় ৫ কোটি টাকা না দিলে ফ্ল্যাটগুলো দখল করে নেওয়ারও হুমকি
দেন। চলে যাওয়ার সময় আসামিরা বাসার নিচে গ্যারেজ ভাঙচুর করে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি
করেন। হামলায় আহতরা পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।’
মামলা হওয়ার পর অভিযোগ অস্বীকার
করে গিয়াস কাদের চৌধুরীর বড় ছেলে সামির কাদের চৌধুরী বলেন, ‘এটা পুরোপুরি বানোয়াট মামলা।
গত সাড়ে চার বছরে এমনকি গতকাল পর্যন্ত কখনও আমরা ওই ভবনের ধারে কাছে যাইনি। এই নারীর
বিরুদ্ধে ১০ দিন আগে থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর গুলশানে এক শিল্পপতির ‘ফ্ল্যাট দখলের সময়’ তার স্ত্রী-সন্তানদের ‘মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের’ অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরদিনই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলেসহ তিনজন।
গিয়াস কাদের চৌধুরীর দুই
ছেলে সামির কাদের চৌধুরী ও শাকির কাদের চৌধুরী এবং মামলার অপর আসামি মেরিনা ইরশাদ বৃহস্পতিবার
ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে
আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন।
তাদের পক্ষে অ্যাডভোকেট
শরীফুল ইসলাম জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত তাদের জামিনের আদেশ দেন বলে
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মোক্তার হোসেন জানান। জামিনের মেয়াদ শেষে গত বুধবার আদালতে
হাজির না হওয়ায় এই তিন আসামিসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের
এমপি, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীও এ মামলার
আসামি। প্রয়াত শিল্পপতি মাইনুল ইসলামের স্ত্রী ফারজানা আন্না ইসলাম গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর
আদালতে ১৫ আসামির নামে এ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্ত
করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়,
গুলশানের মডেল টাউন এলাকায় ৬তলা ভবন নির্মাণে ‘সামসুল আলামিন রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের’
প্রোপ্রাইটার আরেফিন সামসুল আলমের সঙ্গে ২০০৬ সালে মাইনুল ইসলাম ও ফারজানা আন্না ইসলাম
দম্পতির চুক্তি করেন। ২০০৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর তারা বাড়ি বুঝে পান। পরের বছর ২০০৮ সালের
২৪ মার্চ মারা যান মাইনুল ইসলাম। তার মৃত্যুর পর সামসুল আলম অন্য আসামিদের নিয়ে ফ্ল্যাট
দখলের চেষ্টা করতে থাকেন। আসামিরা ‘জাল দলিল’ তৈরি করে বাড়ির দ্বিতীয় তলার সম্পূর্ণ
ফ্লোর দখলের চেষ্টা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালে
জুলাই অভ্যুত্থানের পর আসামিরা ‘আরও বেপরোয়া’ হয়ে ওঠে। গতবছর ১৪ জুলাই তারা ওই বাড়িতে
প্রবেশ করে ফ্ল্যাটগুলোর তালা ভেঙে দখল করার চেষ্টা করে। তারা ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি
করেন। ফারজানা আন্না ইসলামকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।
‘গত ২৮ আগস্ট আবারও তারা
বাসায় প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে বাসার লোকজনকে আহত করেন। তারা ১০ লাখ টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণের
জিনিসপত্র নিয়ে যান। এ সময় ৫ কোটি টাকা না দিলে ফ্ল্যাটগুলো দখল করে নেওয়ারও হুমকি
দেন। চলে যাওয়ার সময় আসামিরা বাসার নিচে গ্যারেজ ভাঙচুর করে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি
করেন। হামলায় আহতরা পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।’
মামলা হওয়ার পর অভিযোগ অস্বীকার
করে গিয়াস কাদের চৌধুরীর বড় ছেলে সামির কাদের চৌধুরী বলেন, ‘এটা পুরোপুরি বানোয়াট মামলা।
গত সাড়ে চার বছরে এমনকি গতকাল পর্যন্ত কখনও আমরা ওই ভবনের ধারে কাছে যাইনি। এই নারীর
বিরুদ্ধে ১০ দিন আগে থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন