সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

হাসিনার পক্ষে বিদেশি ল ফার্মের চিঠি

‘পলাতক আসামির’ পক্ষে ওকালতির সুযোগ নেই: চিফ প্রসিকিউটর


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

‘পলাতক আসামির’ পক্ষে ওকালতির সুযোগ নেই: চিফ প্রসিকিউটর
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনার পক্ষে কোনো বিদেশি ল ফার্মের আইনি লড়াই বা চিঠি দেওয়ার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। তিনি বলেন, কোনো পলাতক আসামি (ফিউজিটিভ) আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত নিজের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ বা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন না।

মানবতাবিরোধী অপরাধে জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার ও দণ্ডাদেশকে ‘বেআইনি’ ও ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনার পক্ষে লন্ডনভিত্তিক আইন সংস্থা কিংসলে নেপলি এর পাঠানো চিঠির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ৩০ মার্চ এ নোটিশ পাঠানো হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।  তবে চিফ প্রসিকিউটর জানান, সংশ্লিষ্ট ল ফার্মের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে দাপ্তরিকভাবে (অফিশিয়ালি) কোনো চিঠি পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনোভাবেই কোনো চিঠি আসেনি। আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমেই আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। সুতরাং এই সো-কলড চিঠি নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য থাকার কথা নয়।”

আইনি সংস্থার চিঠিকে ‘নিউজ আইটেম’ তৈরির চেষ্টা উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমকে বিতর্কিত করতে এবং গণমাধ্যমে আলোচনা সৃষ্টি করতেই এই ধরনের ‘উড়ো চিঠির’প্রচারণা চালানো হচ্ছে’। তিনি বলেন, “এসব করে ট্রাইব্যুনালের কোনো কার্যক্রম বিতর্কিত করা যাবে না এবং বন্ধও করা যাবে না। যদি ভবিষ্যতে অফিশিয়ালি কোনো চিঠি আসে, তবে আমরা আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেব।”

শেখ হাসিনার পক্ষে ওই ল ফার্মের দাবি প্রসঙ্গে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “শেখ হাসিনা কনভিক্টেড এবং তিনি এখন পর্যন্ত পলাতক। আইন অনুযায়ী, একজন পলাতক ব্যক্তির পক্ষে তিনি নিজে বা অন্য কেউ কোনো ধরনের ডিফেন্ড করার সুযোগ নেই। এটি আমাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, দেশের প্রচলিত আইন এমনকি রোম স্ট্যাটিউটেও নেই।”

চিফ প্রসিকিউটর যোগ করেন, “যদি কোনো ল ফার্ম দাবি করে যে তারা শেখ হাসিনার পক্ষে কাজ করছে, তবে প্রশ্ন ওঠে-তিনি বা তারা এই অথরিটি কোথায় পেলেন? পলাতক অবস্থায় কাউকে এঙ্গেজ (যুক্ত করা) করার আইনি ক্ষমতা তার নেই।”

চিঠিতে ট্রাইব্যুনালকে যথাযথ সম্মান না দিয়ে সম্বোধন করা এবং বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রচেষ্টাকে ‘অডাসিটি’ (ধৃষ্টতা) হিসেবে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, “চিঠিতে ‘ডিয়ার ট্রাইব্যুনাল’ বা ‘ডিয়ার আইসিটি’ লিখে যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা শুধু বেআইনিই নয়, বরং আদালত অবমাননার শামিল। যদি এই ল ফার্মের কোনো অস্তিত্ব বা প্রতিনিধি বাংলাদেশে পাওয়া যায়, তবে আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

কিংসলে নেপলি সংস্থা তার চিঠিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, বিচারকরা জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং তাদের অভিজ্ঞতা কম। 

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, বিচার চলাকালে বেঞ্চ থেকে এমন মন্তব্য করা হয়েছে যা থেকে মনে হয় আসামির অপরাধ ও শাস্তি আগেই ঠিক করে রাখা হয়েছিল। চিঠিতে সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয়েছে, তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে একটি নির্দিষ্ট দলকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এমনকি প্রসিকিউশন টিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও আনা হয়েছে।

‘আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগের অভাবের’ কথা উল্লেখ করে লন্ডন ভিত্তিক এই সংস্থার পাঠানো চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং তাকে তার পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী ও ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বা ‘সামারি এক্সিকিউশন’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের আইনগত সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করেন, ১৯৭৩ সালের আইসিটি অ্যাক্ট ব্যবহার করে ২০২৪ সালের ঘটনার বিচার করাকে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারবহির্ভুত বলে দাবি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা, সমর্থকদের ওপর দমন-পীড়ন এবং আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, দেশে সুষ্ঠু বিচারের পরিবেশ নেই।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬


‘পলাতক আসামির’ পক্ষে ওকালতির সুযোগ নেই: চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনার পক্ষে কোনো বিদেশি ল ফার্মের আইনি লড়াই বা চিঠি দেওয়ার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। তিনি বলেন, কোনো পলাতক আসামি (ফিউজিটিভ) আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত নিজের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ বা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন না।

মানবতাবিরোধী অপরাধে জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার ও দণ্ডাদেশকে ‘বেআইনি’ ও ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনার পক্ষে লন্ডনভিত্তিক আইন সংস্থা কিংসলে নেপলি এর পাঠানো চিঠির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ৩০ মার্চ এ নোটিশ পাঠানো হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।  তবে চিফ প্রসিকিউটর জানান, সংশ্লিষ্ট ল ফার্মের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে দাপ্তরিকভাবে (অফিশিয়ালি) কোনো চিঠি পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনোভাবেই কোনো চিঠি আসেনি। আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমেই আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। সুতরাং এই সো-কলড চিঠি নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য থাকার কথা নয়।”

আইনি সংস্থার চিঠিকে ‘নিউজ আইটেম’ তৈরির চেষ্টা উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমকে বিতর্কিত করতে এবং গণমাধ্যমে আলোচনা সৃষ্টি করতেই এই ধরনের ‘উড়ো চিঠির’প্রচারণা চালানো হচ্ছে’। তিনি বলেন, “এসব করে ট্রাইব্যুনালের কোনো কার্যক্রম বিতর্কিত করা যাবে না এবং বন্ধও করা যাবে না। যদি ভবিষ্যতে অফিশিয়ালি কোনো চিঠি আসে, তবে আমরা আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেব।”

শেখ হাসিনার পক্ষে ওই ল ফার্মের দাবি প্রসঙ্গে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “শেখ হাসিনা কনভিক্টেড এবং তিনি এখন পর্যন্ত পলাতক। আইন অনুযায়ী, একজন পলাতক ব্যক্তির পক্ষে তিনি নিজে বা অন্য কেউ কোনো ধরনের ডিফেন্ড করার সুযোগ নেই। এটি আমাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, দেশের প্রচলিত আইন এমনকি রোম স্ট্যাটিউটেও নেই।”

চিফ প্রসিকিউটর যোগ করেন, “যদি কোনো ল ফার্ম দাবি করে যে তারা শেখ হাসিনার পক্ষে কাজ করছে, তবে প্রশ্ন ওঠে-তিনি বা তারা এই অথরিটি কোথায় পেলেন? পলাতক অবস্থায় কাউকে এঙ্গেজ (যুক্ত করা) করার আইনি ক্ষমতা তার নেই।”

চিঠিতে ট্রাইব্যুনালকে যথাযথ সম্মান না দিয়ে সম্বোধন করা এবং বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রচেষ্টাকে ‘অডাসিটি’ (ধৃষ্টতা) হিসেবে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, “চিঠিতে ‘ডিয়ার ট্রাইব্যুনাল’ বা ‘ডিয়ার আইসিটি’ লিখে যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা শুধু বেআইনিই নয়, বরং আদালত অবমাননার শামিল। যদি এই ল ফার্মের কোনো অস্তিত্ব বা প্রতিনিধি বাংলাদেশে পাওয়া যায়, তবে আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

কিংসলে নেপলি সংস্থা তার চিঠিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, বিচারকরা জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং তাদের অভিজ্ঞতা কম। 

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, বিচার চলাকালে বেঞ্চ থেকে এমন মন্তব্য করা হয়েছে যা থেকে মনে হয় আসামির অপরাধ ও শাস্তি আগেই ঠিক করে রাখা হয়েছিল। চিঠিতে সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয়েছে, তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে একটি নির্দিষ্ট দলকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এমনকি প্রসিকিউশন টিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও আনা হয়েছে।

‘আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগের অভাবের’ কথা উল্লেখ করে লন্ডন ভিত্তিক এই সংস্থার পাঠানো চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং তাকে তার পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী ও ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বা ‘সামারি এক্সিকিউশন’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের আইনগত সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করেন, ১৯৭৩ সালের আইসিটি অ্যাক্ট ব্যবহার করে ২০২৪ সালের ঘটনার বিচার করাকে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারবহির্ভুত বলে দাবি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা, সমর্থকদের ওপর দমন-পীড়ন এবং আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, দেশে সুষ্ঠু বিচারের পরিবেশ নেই।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত