জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম পরিবর্তনের দাবিতে মাইকিং করায় হোসাইন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (টুটুল) নামের এক ব্যক্তিকে উঠিয়ে নিয়ে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে নওগাঁর বদলগাছী উপজলো নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে। বদলগাছী উপজেলার ইউএনও অফিসে বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী হোসইন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (৬২) উপজেলার কয়াভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিজেকে রজনীগন্ধা ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বলে পরিচয় দেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমার নামে ৫ কাঠা জমি আছে। আমি আমার অংশের খাজনা দিতে চাই। কিন্তু ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, আমার জমি যে খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ওই খতিয়ানে থাকা সব দাগের (৯ একর) খাজনা নাকি আমাকে দিতে হবে। আমি এর প্রতিবাদ করায় আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী বলেন, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জমির খাজনা দেওয়ার এই কালাকাণুন পরিবর্তন করার জন্য ও মানুষকে সচেতন করার জন্য উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে একটি ভ্যানের ওপর চড়ে মাইকে বক্তব্য রাখছিলাম। তখন ভূমি অফিসের লোকজন আমাকে তুলে নিয়ে ইউএনও অফিসে যায়। সেখানে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার একপর্যায়ে ইউএনও আমাকে লক্ষ্য করে পেপারওয়েট ছুঁড়ে মারেন। পেপার ওয়েটটি আমার বুকে এসে লাগে। ইউএনও রুমে থাকা অন্যান্য লোকজন আমাকে মারধর করে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বদলগাছীর ইউএনও ইসরাত জাহান ছনি মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘তাকে আমার অফিসে ডেকে আনা হয়েছিলো জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য। তিনি কার প্ররোচণায় মাইকিং করছিলেন সেটি জানার জন্য। তিনি যে আইনের ভুক্তভোগী সেটা তো ইউএনও বা এসিল্যান্ড তৈরি করেননি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার গায়ে পেপার ওয়েট ছুড়ে মারা বা মারধর করার কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
এদিকে, আসাদুজ্জামান নামের ওই ব্যক্তিকে মারধর ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বুধবার বিকেলে খাজনা দেওয়ার নিয়ম পরির্তনের দাবিতে তিনি যে মাইকিং করছিলেন তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়েছে। খাজনা দেওয়ার এই আইনের সংশোধনের জন্য মাইকিং করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই তার প্রশংসা করছেন। তবে তাকে তুলে নিয়ে মারধর করায় প্রতিবাদ জনাচ্ছেন।
ভিডিওতে আসাদুজ্জামানকে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে একটি ভ্যানের ওপর বসে মাইকে সর্বসাধারণের উদ্দেশ্য কথা বলতে দেখা যায়। তাকে বলতে শোনা যায়, নিজেরা ইচ্ছামতো আইন করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে যাচ্ছেন। তারই প্রতিবাদে রজনীগন্ধা ফাউনন্ডেশন ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি দেবে।
স্মারকলিপির বিষয়বস্তু, বাংলাদেশের ভূমি আইনে যেকোনো জমির একটি খতিয়ান নম্বর থাকে। সেই খতিয়ানে অনেকগুলো দাগ নম্বর থাকে। এই দাগ নম্বরে অনেকগুলো জমির সমষ্টি থাকে। ধরে নিন ৮২ নম্বর খতিয়ানে ৩০২ নম্বর দাগে আমার পাঁচ কাঠা জমি আছে। এই পাঁচ কাঠা জমি যেকোনো কারণেই হোক আমি যদি বিক্রি করতে যাই, তাহলে ভূমি অফিসকে ওই ৮২ নম্বর খতিয়ানের সব জমির খাজনা দিতে হবে। যেটা একজন সাধারণ মানুষের কাছে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। আমি পাঁচ কাঠা জমির মালিক হয়ে কেন সব জমির খাজনা দিতে যাবো। এটা কোন আইনের বলে কাদের প্ররোচণায় সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে মোট খতিয়ানের জমির টাকা আদায় করা হয়?
মাইকে এসব কথা বলার সময় এক সময় কিছু লোক তাকে সেখান থেকে একটি গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যায়।
সাদেকুল ইসলাম উজ্জ্বল নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তি বলেন, ‘ওই বৃদ্ধ লোকটি ভূমি অফিসের সামনে ভ্যানের ওপর মাইক ঝুলিয়ে জমির খাজনার আইন পরিবর্তনের জন্য মাইকিং করছিলেন। লোকটি ভালোই কথা বলছিলেন। কিন্তু পরে ভূমি অফিসের লোকজন তাকে ইউএনও অফিসে তুলে নিয়ে যায় ভ্যান, মাইকসহ।পরে শুনলাম তাকে নাকি মারধর করা হয়েছে।’
ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান টুটুল বলেন, ‘একটা অন্যায় নিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করে জনগণকে অবহিত করার জন্য যখন মাইকিং করছিলাম ও স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন এসিল্যান্ডের ড্রাইভার তার গাড়িতে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে ইউএনওরর রুমে আমাকে নিয়ে যায়।
টুটুল দাবি করেন, সেখানে কথা বলতে বলতে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ইউএনও তার দিকে ওয়েট পেপার ছুঁড়ে মারেন। ওয়েট পেপারটা তার বুকে এসে লাগে। পরে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন। আসাদুজ্জামান টুটুলের প্রশ্ন, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যদি ওয়েট পেপার ছুঁড়ে মেরে আহত করেন, আমি হতবাক হই। আমার চোখে লাগলে কি হতো? তিনি ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে বিচার দাবি করেন।
ভুক্তভোগী আরও বলেন, “আমরা হতভাগা। কারণ এই রকম রেসপনসিবল ম্যান আমাদের উপজেলার অভিভাবক। একটা মানুষ ভুল করতে পারে, কিন্তু একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ভুল মেনে নেওয়া যায় না। তাছাড়া ইউএনওর সাহসেই গাড়িচালক আমাকে ঘুষি মারলে আমি পড়ে যাই। তখন ইউএনও সমবেদনা জানানোর জন্য ড্রাইভারকে মারতে নিষেধ করে।
ভ্যানচালক মেহেদী বলেন, হঠাৎ আমাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয় অফিসে। এরপর আমাকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আটকিয়ে রাখা হয়। পরে ভ্যানসহ আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে মাইক দেয়নি। সেটা রেখে দিয়েছে তারা।
জানতে চাইলে গাড়িচালক সুমন হোসেন মুঠোফোনে বলেন, আমি তো ড্রাইভার। আমি উঠিয়ে নিয়ে যাইনি। পুলিশ উঠিয়ে দিয়েছে। আমি নিয়ে গিয়েছি। এর বেশি কিছু জানি না। আর আমার মারার বিষয়টি মিথ্যা।
জানতে চাইলে বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ লুৎফর রহমান বলেন, সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছিল। এসিল্যান্ড স্যারের সঙ্গে ড্রাইভার ও পুলিশ উপস্থিত ছিল। সেখান থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।
জানার জন্য একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ উদ্দিন।
জানতে চাইলে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি নিজে খোঁজখবর নিয়েছি। কিন্তু এর সত্যতা পাইনি। কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে একজন নাগরিককে ইউএনওর মারধরের প্রশ্নই আসে না। আমি এর কোনো সত্যতা পাইনি। আপনারা ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে দেখতে পারেন।’
এদিকে, এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি খতিয়ানের মোট জমির পরিবর্তে ব্যক্তিগত মালিকানার অংশ অনুযায়ী খাজনা গ্রহণের নিয়ম চালুর দাবি তুলেছেন।

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম পরিবর্তনের দাবিতে মাইকিং করায় হোসাইন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (টুটুল) নামের এক ব্যক্তিকে উঠিয়ে নিয়ে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে নওগাঁর বদলগাছী উপজলো নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে। বদলগাছী উপজেলার ইউএনও অফিসে বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী হোসইন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (৬২) উপজেলার কয়াভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিজেকে রজনীগন্ধা ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বলে পরিচয় দেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমার নামে ৫ কাঠা জমি আছে। আমি আমার অংশের খাজনা দিতে চাই। কিন্তু ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, আমার জমি যে খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ওই খতিয়ানে থাকা সব দাগের (৯ একর) খাজনা নাকি আমাকে দিতে হবে। আমি এর প্রতিবাদ করায় আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী বলেন, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জমির খাজনা দেওয়ার এই কালাকাণুন পরিবর্তন করার জন্য ও মানুষকে সচেতন করার জন্য উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে একটি ভ্যানের ওপর চড়ে মাইকে বক্তব্য রাখছিলাম। তখন ভূমি অফিসের লোকজন আমাকে তুলে নিয়ে ইউএনও অফিসে যায়। সেখানে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার একপর্যায়ে ইউএনও আমাকে লক্ষ্য করে পেপারওয়েট ছুঁড়ে মারেন। পেপার ওয়েটটি আমার বুকে এসে লাগে। ইউএনও রুমে থাকা অন্যান্য লোকজন আমাকে মারধর করে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বদলগাছীর ইউএনও ইসরাত জাহান ছনি মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘তাকে আমার অফিসে ডেকে আনা হয়েছিলো জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য। তিনি কার প্ররোচণায় মাইকিং করছিলেন সেটি জানার জন্য। তিনি যে আইনের ভুক্তভোগী সেটা তো ইউএনও বা এসিল্যান্ড তৈরি করেননি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার গায়ে পেপার ওয়েট ছুড়ে মারা বা মারধর করার কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
এদিকে, আসাদুজ্জামান নামের ওই ব্যক্তিকে মারধর ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বুধবার বিকেলে খাজনা দেওয়ার নিয়ম পরির্তনের দাবিতে তিনি যে মাইকিং করছিলেন তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়েছে। খাজনা দেওয়ার এই আইনের সংশোধনের জন্য মাইকিং করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই তার প্রশংসা করছেন। তবে তাকে তুলে নিয়ে মারধর করায় প্রতিবাদ জনাচ্ছেন।
ভিডিওতে আসাদুজ্জামানকে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে একটি ভ্যানের ওপর বসে মাইকে সর্বসাধারণের উদ্দেশ্য কথা বলতে দেখা যায়। তাকে বলতে শোনা যায়, নিজেরা ইচ্ছামতো আইন করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে যাচ্ছেন। তারই প্রতিবাদে রজনীগন্ধা ফাউনন্ডেশন ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি দেবে।
স্মারকলিপির বিষয়বস্তু, বাংলাদেশের ভূমি আইনে যেকোনো জমির একটি খতিয়ান নম্বর থাকে। সেই খতিয়ানে অনেকগুলো দাগ নম্বর থাকে। এই দাগ নম্বরে অনেকগুলো জমির সমষ্টি থাকে। ধরে নিন ৮২ নম্বর খতিয়ানে ৩০২ নম্বর দাগে আমার পাঁচ কাঠা জমি আছে। এই পাঁচ কাঠা জমি যেকোনো কারণেই হোক আমি যদি বিক্রি করতে যাই, তাহলে ভূমি অফিসকে ওই ৮২ নম্বর খতিয়ানের সব জমির খাজনা দিতে হবে। যেটা একজন সাধারণ মানুষের কাছে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। আমি পাঁচ কাঠা জমির মালিক হয়ে কেন সব জমির খাজনা দিতে যাবো। এটা কোন আইনের বলে কাদের প্ররোচণায় সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে মোট খতিয়ানের জমির টাকা আদায় করা হয়?
মাইকে এসব কথা বলার সময় এক সময় কিছু লোক তাকে সেখান থেকে একটি গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যায়।
সাদেকুল ইসলাম উজ্জ্বল নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তি বলেন, ‘ওই বৃদ্ধ লোকটি ভূমি অফিসের সামনে ভ্যানের ওপর মাইক ঝুলিয়ে জমির খাজনার আইন পরিবর্তনের জন্য মাইকিং করছিলেন। লোকটি ভালোই কথা বলছিলেন। কিন্তু পরে ভূমি অফিসের লোকজন তাকে ইউএনও অফিসে তুলে নিয়ে যায় ভ্যান, মাইকসহ।পরে শুনলাম তাকে নাকি মারধর করা হয়েছে।’
ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান টুটুল বলেন, ‘একটা অন্যায় নিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করে জনগণকে অবহিত করার জন্য যখন মাইকিং করছিলাম ও স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন এসিল্যান্ডের ড্রাইভার তার গাড়িতে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে ইউএনওরর রুমে আমাকে নিয়ে যায়।
টুটুল দাবি করেন, সেখানে কথা বলতে বলতে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ইউএনও তার দিকে ওয়েট পেপার ছুঁড়ে মারেন। ওয়েট পেপারটা তার বুকে এসে লাগে। পরে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন। আসাদুজ্জামান টুটুলের প্রশ্ন, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যদি ওয়েট পেপার ছুঁড়ে মেরে আহত করেন, আমি হতবাক হই। আমার চোখে লাগলে কি হতো? তিনি ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে বিচার দাবি করেন।
ভুক্তভোগী আরও বলেন, “আমরা হতভাগা। কারণ এই রকম রেসপনসিবল ম্যান আমাদের উপজেলার অভিভাবক। একটা মানুষ ভুল করতে পারে, কিন্তু একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ভুল মেনে নেওয়া যায় না। তাছাড়া ইউএনওর সাহসেই গাড়িচালক আমাকে ঘুষি মারলে আমি পড়ে যাই। তখন ইউএনও সমবেদনা জানানোর জন্য ড্রাইভারকে মারতে নিষেধ করে।
ভ্যানচালক মেহেদী বলেন, হঠাৎ আমাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয় অফিসে। এরপর আমাকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আটকিয়ে রাখা হয়। পরে ভ্যানসহ আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে মাইক দেয়নি। সেটা রেখে দিয়েছে তারা।
জানতে চাইলে গাড়িচালক সুমন হোসেন মুঠোফোনে বলেন, আমি তো ড্রাইভার। আমি উঠিয়ে নিয়ে যাইনি। পুলিশ উঠিয়ে দিয়েছে। আমি নিয়ে গিয়েছি। এর বেশি কিছু জানি না। আর আমার মারার বিষয়টি মিথ্যা।
জানতে চাইলে বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ লুৎফর রহমান বলেন, সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছিল। এসিল্যান্ড স্যারের সঙ্গে ড্রাইভার ও পুলিশ উপস্থিত ছিল। সেখান থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।
জানার জন্য একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ উদ্দিন।
জানতে চাইলে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি নিজে খোঁজখবর নিয়েছি। কিন্তু এর সত্যতা পাইনি। কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে একজন নাগরিককে ইউএনওর মারধরের প্রশ্নই আসে না। আমি এর কোনো সত্যতা পাইনি। আপনারা ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে দেখতে পারেন।’
এদিকে, এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি খতিয়ানের মোট জমির পরিবর্তে ব্যক্তিগত মালিকানার অংশ অনুযায়ী খাজনা গ্রহণের নিয়ম চালুর দাবি তুলেছেন।

আপনার মতামত লিখুন