পরীক্ষা দিতে না পারার অপরাধে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী। প্রায় পাঁচশ থেকে ছয়শ নারী-পুরুষ বিদ্যালয় ঘেরাও করে রাখলে শিক্ষকরা ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাদের উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের ৬৫ নম্বর রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
নির্যাতনের শিকার শিশুটি ওই গ্রামের বাসিন্দা। তার মা জানান, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর মেয়ের কান্নার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। প্রধান শিক্ষক আবুল হাশেম একটি চড় মারার কথা স্বীকার করলেও বাড়ি ফিরে মেয়ের পিঠে আঘাতের চিহ্ন, কান দিয়ে রক্ত ও মুখ ফোলা দেখতে পান তিনি। তখন বুঝতে পারেন, শুধু একটি চড় নয়- বাচ্চাটিকে নির্মমভাবে পিটিয়েছে শিক্ষক।
শিশুটি জানায়, ‘স্যার আগে না জানিয়ে আজ অংক পরীক্ষা নিয়েছিল। আমি পরীক্ষা দিতে না পারলে স্যার আমার কানে, পিঠে ও মুখে খুব মেরেছে।’
খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিদ্যালয়ে জড়ো হন শত শত নারী-পুরুষ। তারা প্রধান শিক্ষককে খুঁজতে থাকলে শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ের দরজা-জানালা বন্ধ করে দেন।
ক্ষুব্ধ জনতা তখন স্কুল ঘেরাও করে ফেলে। পরে তালা থানা পুলিশ ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায় সন্ধ্যায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেই শিক্ষকদের উদ্ধার করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
প্রধান শিক্ষক আবুল হাশেম অবশ্য দাবি করেছেন, ‘শিক্ষার্থীকে দুইটি চড় মেরেছিলাম। অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।’
তবে শিশুটির মা এ ঘটনায় উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং শিশু নির্যাতন আইনে তালা থানায় ফৌজদারি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
পরীক্ষা দিতে না পারার অপরাধে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী। প্রায় পাঁচশ থেকে ছয়শ নারী-পুরুষ বিদ্যালয় ঘেরাও করে রাখলে শিক্ষকরা ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাদের উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের ৬৫ নম্বর রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
নির্যাতনের শিকার শিশুটি ওই গ্রামের বাসিন্দা। তার মা জানান, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর মেয়ের কান্নার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। প্রধান শিক্ষক আবুল হাশেম একটি চড় মারার কথা স্বীকার করলেও বাড়ি ফিরে মেয়ের পিঠে আঘাতের চিহ্ন, কান দিয়ে রক্ত ও মুখ ফোলা দেখতে পান তিনি। তখন বুঝতে পারেন, শুধু একটি চড় নয়- বাচ্চাটিকে নির্মমভাবে পিটিয়েছে শিক্ষক।
শিশুটি জানায়, ‘স্যার আগে না জানিয়ে আজ অংক পরীক্ষা নিয়েছিল। আমি পরীক্ষা দিতে না পারলে স্যার আমার কানে, পিঠে ও মুখে খুব মেরেছে।’
খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিদ্যালয়ে জড়ো হন শত শত নারী-পুরুষ। তারা প্রধান শিক্ষককে খুঁজতে থাকলে শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ের দরজা-জানালা বন্ধ করে দেন।
ক্ষুব্ধ জনতা তখন স্কুল ঘেরাও করে ফেলে। পরে তালা থানা পুলিশ ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায় সন্ধ্যায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেই শিক্ষকদের উদ্ধার করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
প্রধান শিক্ষক আবুল হাশেম অবশ্য দাবি করেছেন, ‘শিক্ষার্থীকে দুইটি চড় মেরেছিলাম। অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।’
তবে শিশুটির মা এ ঘটনায় উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং শিশু নির্যাতন আইনে তালা থানায় ফৌজদারি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন