মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার কথা বলে গিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু সেখানেই ক্রিকেট ব্যাটের আঘাতে প্রাণ হারাতে হলো তাকে। নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় সালিশ দিতে গিয়ে গৌর চন্দ্র (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের গাবনা গুদইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৌর চন্দ্র একই উপজেলার আধাইপুর উপরপাড়া গ্রামের ওমিনি চন্দ্রের ছেলে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই নারীকে আটক করেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মেয়েকে নির্যাতন করার পরও চুপ ছিলেন গৌর চন্দ্র। শেষ পর্যন্ত মেয়ের ভাগ্য ফেরাতে গিয়েই নিজেই পড়লেন মৃত্যুর মুখে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয়-সাত বছর আগে গৌর চন্দ্র তাঁর মেয়ে রাখি রানীকে একই উপজেলার গাবনা গুদইল গ্রামের উত্তম কুমারের সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের পর রাখি রানী শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। তাঁর স্বামী ঢাকায় চাকরি করেন।
দীর্ঘদিন ধরেই রাখি রানীকে শ্বশুর তশুরাম, ভাশুর উৎপল, ননদ পুষ্পা রানী ও মনা রানীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা নির্যাতন করে আসছিলেন। বুধবার আবারও রাখিকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। সারারাত তাকে ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গৌর চন্দ্র তার ছেলে পলাশ ও কয়েকজন আত্মীয়কে নিয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যান। লক্ষ্য ছিল পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা। কিন্তু সেখানে পৌঁছাতেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন অভিযুক্তরা।
একপর্যায়ে তারা গৌর চন্দ্র, তার ছেলে পলাশ, মেয়ে রাখি রানী ও স্ত্রীকে মারধর শুরু করে। গৌর চন্দ্র প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে চান। কিন্তু তাকে পেছন থেকে ধাওয়া করে উৎপল।
তার হাতে ছিল ক্রিকেট ব্যাট। সেই ব্যাট দিয়ে গৌর চন্দ্রের মাথায় আঘাত করেন উৎপল। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন গৌর চন্দ্র। এ সময় তার ছেলে পলাশও আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে নওগাঁ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বৃহস্পতিবার বিকেলে গৌর চন্দ্রকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে আপসের কথা বলে গিয়েছিলেন গৌর চন্দ্র। ফিরে আসার কথা ছিল সব মীমাংসা করে। কিন্তু ফিরলেন লাশ হয়ে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মনা রানী (৪০) ও পুষ্পা রানী (২৫) নামে দুই নারীকে আটক করেছে বদলগাছী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার কথা বলে গিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু সেখানেই ক্রিকেট ব্যাটের আঘাতে প্রাণ হারাতে হলো তাকে। নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় সালিশ দিতে গিয়ে গৌর চন্দ্র (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের গাবনা গুদইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৌর চন্দ্র একই উপজেলার আধাইপুর উপরপাড়া গ্রামের ওমিনি চন্দ্রের ছেলে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই নারীকে আটক করেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মেয়েকে নির্যাতন করার পরও চুপ ছিলেন গৌর চন্দ্র। শেষ পর্যন্ত মেয়ের ভাগ্য ফেরাতে গিয়েই নিজেই পড়লেন মৃত্যুর মুখে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয়-সাত বছর আগে গৌর চন্দ্র তাঁর মেয়ে রাখি রানীকে একই উপজেলার গাবনা গুদইল গ্রামের উত্তম কুমারের সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের পর রাখি রানী শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। তাঁর স্বামী ঢাকায় চাকরি করেন।
দীর্ঘদিন ধরেই রাখি রানীকে শ্বশুর তশুরাম, ভাশুর উৎপল, ননদ পুষ্পা রানী ও মনা রানীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা নির্যাতন করে আসছিলেন। বুধবার আবারও রাখিকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। সারারাত তাকে ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গৌর চন্দ্র তার ছেলে পলাশ ও কয়েকজন আত্মীয়কে নিয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যান। লক্ষ্য ছিল পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা। কিন্তু সেখানে পৌঁছাতেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন অভিযুক্তরা।
একপর্যায়ে তারা গৌর চন্দ্র, তার ছেলে পলাশ, মেয়ে রাখি রানী ও স্ত্রীকে মারধর শুরু করে। গৌর চন্দ্র প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে চান। কিন্তু তাকে পেছন থেকে ধাওয়া করে উৎপল।
তার হাতে ছিল ক্রিকেট ব্যাট। সেই ব্যাট দিয়ে গৌর চন্দ্রের মাথায় আঘাত করেন উৎপল। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন গৌর চন্দ্র। এ সময় তার ছেলে পলাশও আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে নওগাঁ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বৃহস্পতিবার বিকেলে গৌর চন্দ্রকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে আপসের কথা বলে গিয়েছিলেন গৌর চন্দ্র। ফিরে আসার কথা ছিল সব মীমাংসা করে। কিন্তু ফিরলেন লাশ হয়ে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মনা রানী (৪০) ও পুষ্পা রানী (২৫) নামে দুই নারীকে আটক করেছে বদলগাছী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন