সকালে কাজে বেরিয়েছিলেন স্বামী। বাড়ি ফিরে শুনলেন, ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে তার স্ত্রী ও ছোট্ট ছেলের। একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই কেড়ে নিল দুটি প্রাণ। ভেঙে দিল একটি সংসার। গাজীপুরের শ্রীপুরে জামালপুরগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় মা ও ছেলে নিহত হয়েছেন।
নিহত মিতা রানী দাস (৩৮) ও তার তিন বছর বয়সী ছেলে রুদ্র চন্দ্র দাস। তারা শ্রীপুরের রাজাবাড়ি ইউনিয়নের নওগাঁ পশ্চিমপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন।
নিহতের স্বামী হরেকৃষ্ণ দাসের চোখে পানি। তিনি অসহায় কণ্ঠে বলেন, ‘সকালে কাজে বের হয়েছিলাম। পরে জানতে পারি, আমার স্ত্রী ও ছেলে ট্রেনের নিচে পড়ে গেছে। কীভাবে যে বাঁচব, ভাবতেই পারছি না।’
স্বামীর ভাষ্য, স্ত্রী ও ছেলে কোথাও যাচ্ছিলেন কি না- তা তিনি নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি। দুর্ঘটনার পর তিনি ভেঙে পড়েছেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল রুটের নওগাঁ পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জামালপুরগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান মিতা রানী দাস। গুরুতর আহত অবস্থায় তিন বছর বয়সী রুদ্রকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটিরও মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে স্থানীয়রা বলছেন, রেললাইন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
জয়দেবপুর রেল স্টেশন ফাঁড়ির ইনচার্জ কাইয়ুম আলী জানান, খবর পেয়ে মিতা রানী দাসের লাশ উদ্ধার করে জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। আহত রুদ্রকে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে।
বর্তমানে মায়ের লাশ রয়েছে জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে। আর ছেলের লাশ রয়েছে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।
একসঙ্গে মা ও ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে আছেন স্বামী হরেকৃষ্ণ দাস। এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পড়শিরা জানান, রুদ্র ছিল ঘরের একমাত্র সন্তান। তার ছোট্ট হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা রেললাইন এলাকায় আরও নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, ‘এলাকায় ট্রেনের গতি অনেক। নিরাপত্তার অভাবে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।’

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
সকালে কাজে বেরিয়েছিলেন স্বামী। বাড়ি ফিরে শুনলেন, ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে তার স্ত্রী ও ছোট্ট ছেলের। একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই কেড়ে নিল দুটি প্রাণ। ভেঙে দিল একটি সংসার। গাজীপুরের শ্রীপুরে জামালপুরগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় মা ও ছেলে নিহত হয়েছেন।
নিহত মিতা রানী দাস (৩৮) ও তার তিন বছর বয়সী ছেলে রুদ্র চন্দ্র দাস। তারা শ্রীপুরের রাজাবাড়ি ইউনিয়নের নওগাঁ পশ্চিমপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন।
নিহতের স্বামী হরেকৃষ্ণ দাসের চোখে পানি। তিনি অসহায় কণ্ঠে বলেন, ‘সকালে কাজে বের হয়েছিলাম। পরে জানতে পারি, আমার স্ত্রী ও ছেলে ট্রেনের নিচে পড়ে গেছে। কীভাবে যে বাঁচব, ভাবতেই পারছি না।’
স্বামীর ভাষ্য, স্ত্রী ও ছেলে কোথাও যাচ্ছিলেন কি না- তা তিনি নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি। দুর্ঘটনার পর তিনি ভেঙে পড়েছেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল রুটের নওগাঁ পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জামালপুরগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান মিতা রানী দাস। গুরুতর আহত অবস্থায় তিন বছর বয়সী রুদ্রকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটিরও মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে স্থানীয়রা বলছেন, রেললাইন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
জয়দেবপুর রেল স্টেশন ফাঁড়ির ইনচার্জ কাইয়ুম আলী জানান, খবর পেয়ে মিতা রানী দাসের লাশ উদ্ধার করে জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। আহত রুদ্রকে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে।
বর্তমানে মায়ের লাশ রয়েছে জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে। আর ছেলের লাশ রয়েছে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।
একসঙ্গে মা ও ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে আছেন স্বামী হরেকৃষ্ণ দাস। এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পড়শিরা জানান, রুদ্র ছিল ঘরের একমাত্র সন্তান। তার ছোট্ট হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা রেললাইন এলাকায় আরও নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, ‘এলাকায় ট্রেনের গতি অনেক। নিরাপত্তার অভাবে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।’

আপনার মতামত লিখুন