বৈশ্বিক অস্থিরতা আর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে যখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ঘনীভূত হচ্ছে, ঠিক তখন বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের অটল অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার চট্টগ্রামের আনোয়ারার কোরিয়ান ইপিজেড সংলগ্ন ইয়ংওয়ান কর্পোরেশনের মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে এখনো তেলের কোনো সংকট তৈরি হয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বর্তমানে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানি করছে।
তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, বরং সারা বিশ্বে পড়েছে। তবে এই উচ্চমূল্যের তেল ও গ্যাস এভাবে কতদিন চালানো সম্ভব হবে, তা এখন বড় চিন্তার বিষয়। তাই খুব শিগগিরই তেলের বিষয়ে সরকারকে নতুন কোনো সিদ্ধান্তে আসতে হতে পারে।
ইয়ংওয়ান এবং চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) যৌথ স্কলারশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে মন্ত্রী উচ্চশিক্ষা ও শিল্পখাতের সমন্বয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশে এখনো বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে পর্যাপ্ত সহযোগিতা গড়ে ওঠেনি, যা শিক্ষা ও গবেষণার উৎকর্ষ সাধনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে শিক্ষা ও শিল্পখাত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে বলেই তাদের মান সমৃদ্ধ। আমাদের দেশে ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্য উল্লেখ করে তিনি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দ্রুত পরিবর্তন আনছে এবং যারা প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকবে, তারাই ভবিষ্যতের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক অনুষদ সংযোজন করার আহ্বান জানান তিনি, যাতে শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে।
জ্বালানি সংকটের বৈশ্বিক প্রভাব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এই সংকট এখন আমেরিকা থেকে শুরু করে সারা বিশ্বকে প্রভাবিত করছে। আমাদের তেলের বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে বিধায় সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরন্তর যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, সর্বোপরি জ্বালানি নিরাপত্তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে এবং এ বিষয়ে কোনো আপোসের সুযোগ নেই।
তবে উচ্চমূল্যে তেল-গ্যাস আমদানির ফলে সরকারি তহবিলে ব্যাপক চাপ পড়ছে উল্লেখ করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এভাবে চলতে থাকলে জাতীয় বাজেট ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের যে ওয়াদা রয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মন্ত্রী দেশের সকল জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ের মাধ্যমে এই বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
সিআইইউ এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম নুরুল আবসারের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইয়ংওয়ান কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কিহাক সুং। তিনি তাঁর বক্তব্যে শিল্প ও শিক্ষার মেলবন্ধনে ইয়ংওয়ানের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন। এছাড়া কোরিয়ান ইপিজেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ শাহজাহান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এবং সিআইইউর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান লুৎফি এম আইয়ুব ও সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হকসহ অন্যান্য ব্যক্তি শিক্ষা ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে স্কলারশিপের সনদ তুলে দেন।

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
বৈশ্বিক অস্থিরতা আর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে যখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ঘনীভূত হচ্ছে, ঠিক তখন বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের অটল অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার চট্টগ্রামের আনোয়ারার কোরিয়ান ইপিজেড সংলগ্ন ইয়ংওয়ান কর্পোরেশনের মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে এখনো তেলের কোনো সংকট তৈরি হয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বর্তমানে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানি করছে।
তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, বরং সারা বিশ্বে পড়েছে। তবে এই উচ্চমূল্যের তেল ও গ্যাস এভাবে কতদিন চালানো সম্ভব হবে, তা এখন বড় চিন্তার বিষয়। তাই খুব শিগগিরই তেলের বিষয়ে সরকারকে নতুন কোনো সিদ্ধান্তে আসতে হতে পারে।
ইয়ংওয়ান এবং চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) যৌথ স্কলারশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে মন্ত্রী উচ্চশিক্ষা ও শিল্পখাতের সমন্বয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশে এখনো বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে পর্যাপ্ত সহযোগিতা গড়ে ওঠেনি, যা শিক্ষা ও গবেষণার উৎকর্ষ সাধনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে শিক্ষা ও শিল্পখাত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে বলেই তাদের মান সমৃদ্ধ। আমাদের দেশে ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্য উল্লেখ করে তিনি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দ্রুত পরিবর্তন আনছে এবং যারা প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকবে, তারাই ভবিষ্যতের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক অনুষদ সংযোজন করার আহ্বান জানান তিনি, যাতে শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে।
জ্বালানি সংকটের বৈশ্বিক প্রভাব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এই সংকট এখন আমেরিকা থেকে শুরু করে সারা বিশ্বকে প্রভাবিত করছে। আমাদের তেলের বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে বিধায় সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরন্তর যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, সর্বোপরি জ্বালানি নিরাপত্তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে এবং এ বিষয়ে কোনো আপোসের সুযোগ নেই।
তবে উচ্চমূল্যে তেল-গ্যাস আমদানির ফলে সরকারি তহবিলে ব্যাপক চাপ পড়ছে উল্লেখ করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এভাবে চলতে থাকলে জাতীয় বাজেট ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের যে ওয়াদা রয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মন্ত্রী দেশের সকল জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ের মাধ্যমে এই বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
সিআইইউ এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম নুরুল আবসারের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইয়ংওয়ান কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কিহাক সুং। তিনি তাঁর বক্তব্যে শিল্প ও শিক্ষার মেলবন্ধনে ইয়ংওয়ানের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন। এছাড়া কোরিয়ান ইপিজেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ শাহজাহান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এবং সিআইইউর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান লুৎফি এম আইয়ুব ও সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হকসহ অন্যান্য ব্যক্তি শিক্ষা ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে স্কলারশিপের সনদ তুলে দেন।

আপনার মতামত লিখুন