দেশে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল ৯টা থেকে দেশের ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও পৌর এলাকায় শুরু হচ্ছে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম। প্রথম ধাপে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে এই বিশেষ টিকার আওতায় আনা হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিশু আগে নিয়মিত টিকা নিয়ে থাকলেও তাকে পুনরায় এই বিশেষ টিকা নিতে হবে। সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
শনিবার সচিবালয়ে
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান,
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এবং জাতীয় টিকাদান বিষয়ক কারিগরি পরামর্শক
কমিটির (এনআইটিএজি) সুপারিশক্রমে এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন,
“এই কার্যক্রমটি একটি সমন্বিত প্রতিরোধ পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ
করা এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।”
লক্ষ্যমাত্রা
ও কর্মপরিকল্পনা: ‘সবাই পাবে টিকা’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সাখাওয়াত হোসেন টিকাদান কর্মসূচির পরিধি ব্যাখ্যা করে বলেন, “ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস মানে
পাঁচ বছরের চাইতে এক মাস কম, এই গ্রুপটাকে আমরা কালকে থেকে শুরু করছি। এটাকে আমরা ফাস্ট
কাভার করতে চাচ্ছি সারাদেশে।”
তিনি আরও স্পষ্ট
করেন, এটি কেবল শুরু। মন্ত্রী বলেন, “এই ৩০টা উপজেলা শুরু করা মানে আমাদের কার্যক্রম
শেষ না। আমরা এটাকে যেহেতু এখানে প্রবল আকার ধারণ করেছে, নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাকিগুলিতে
আমরা কাজে অগ্রসর হব। ইনশাআল্লাহ, কোনোটাই থেমে থাকবো না।”
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ
থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০টি ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় এই কার্যক্রম
চলবে এবং পরবর্তীতে মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির ভিত্তিতে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে। এই বিশেষ
জরুরি কার্যক্রম আগামী ২১ মে’র মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অসুস্থদের জন্য
ভিন্ন নির্দেশনা ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল
টিকাদান কর্মসূচির
পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিশেষ পুষ্টি সহায়তার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের চিকিৎসার অংশ হিসেবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল
দেওয়া হবে। তবে সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে নিয়মটি আলাদা।
মন্ত্রী এ বিষয়ে
সতর্কতা দিয়ে বলেন, “যাদের মিসেলস হয়েছে তাদেরকে আমরা সাথে সাথে ভিটামিন এ দেব। ভিটামিন
‘এ’ প্রত্যেক হসপিটালে, যেখানে রোগী আছে এটা খাইয়ে দেওয়া হবে এই আমাদের এই কর্মসূচির
ভিতরে। কিন্তু মনে রাখবেন সুস্থ যাদের টিকা দেওয়া হচ্ছে, তাদেরকে কিন্তু ভিটামিন ‘এ’
দেওয়া হবে না।”
তিনি পুনরায় জোর
দিয়ে বলেন, যারা বর্তমানে অসুস্থ বা যাদের মধ্যে হামের উপসর্গ রয়েছে, তাদের সুস্থ হওয়ার
পর টিকা নিতে হবে। মন্ত্রীর ভাষায়, “৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে নির্ধারিত টিকাদান
কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তবে যে সব শিশুর জ্বর আছে
বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদেরকে এই সময় টিকা দেওয়া হবে না। তারা সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার
পর টিকা গ্রহণ করবে।”
টিকাদান কেন্দ্রের
অবস্থান ও প্রচার
সকাল ৯টা থেকে বিকাল
৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে টিকাদান চলবে। স্থানীয় সিভিল সার্জন অফিস থেকে মাইকিং ও প্রচারণার
মাধ্যমে টিকাকেন্দ্রের সঠিক অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ওটা
তো স্থানীয় ভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে কোন জায়গায় দেবে। আমি আপনাদেরকে স্পটগুলি বললাম ঢাকার
নবাগঞ্জে কোথায় হবে সিভিল সার্জন ‘অ্যারেঞ্জিং মাইকিং’ করা হবে, ওখানে জানিয়ে দেবেন,
অমুক জায়গায় টিকা দেওয়া হবে, বাচ্চাদের নিয়ে আপনারা আসেন।” এছাড়া স্কুল, মাদ্রাসা,
শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
টিকা নিয়ে সংশয়
দূর করে মন্ত্রী বলেন, “ছয় মাস থেকে ৫৯ মাসের ভেতরে যারা আছে, আগে পাক বা না পাক, সবাই
পাবে। এই টিকাটা নিলে পরে কোনো ক্ষতি হয় না, এটা আমাদেরকে তারা বলেছেন। কাজেই এটা নিয়ে
চিন্তা করা তো কোনো ক্ষতি হয় নাই, ‘সাইড রিঅ্যাকশন’ নাই, কাজেই টিকাটা দেওয়া যায়, আমরা
দিয়ে যাব।”
‘আতঙ্কিত হবেন
না’: দেশবাসীর প্রতি আহ্বান
সংবাদ ব্রিফিংয়ে
গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারাই কিন্তু বাঁচাইতেও পারেন,
আপনারা কনফিউজও করাতে পারেন। আপনারা একটা মেসেজ দেবেন, আমরা কিন্তু আপ্রাণ চেষ্টা করছি
মৃত্যুহার কমিয়ে আনতে। ইনশাআল্লাহ এখন টিকাদান কর্মসূচিতে চলে যাচ্ছি, আশা করি আমরা
পুরো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেব।” তিনি করোনার সফল মোকাবিলার উদাহরণ টেনে বলেন, জাতি যেন
আতঙ্কিত না হয়। আমাদের চিকিৎসকরা নিরলস পরিশ্রম করছেন। সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং
ব্যবহৃত টিকা শতভাগ নিরাপদ।
বিফ্রিংয়ে উপস্থিত
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জিয়া হায়দার বলেন, দেশে সর্বশেষ ২০২০-২১ সালে বড় ধরনের ক্যাম্পেইন
হয়েছিল। ফলে এরপর জন্ম নেওয়া শিশুরা এবারই প্রথম বড় কোনো ক্যাম্পেইনের আওতায় আসছে,
যা তাদের ইমিউনিটি বাড়াতে সহায়ক হবে।
হাসপাতালের সক্ষমতা
ও তদন্ত প্রসঙ্গে
শিশু হাসপাতালে
আইসিইউ সংকট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ রোগীর চাপ বাড়ায় বিদ্যমান
আইসিইউগুলো পূর্ণ হয়ে আছে। তবে সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই। তিনি বলেন, “আইসিইউ তো ডেইলি
বাড়ানো যায় না। আমাদের যে আইসিইউ সক্ষমতা আছে সেটা ভরে গিয়েছে। আজকে ৬১ জন রোগী ভর্তি
হয়েছে। এর মধ্যে যদি কারো আইসিইউর প্রয়োজন পড়ে, আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করার জন্য বসে
আছি এবং ইনশাল্লাহ ব্যবস্থা করব।”
২০২৫ সালে টিকাদান
কর্মসূচি কেন কমেছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী অতীতের চেয়ে বর্তমানকে গুরুত্ব দিয়ে
বলেন, “আমরা এখন কাজ করতে চাই। ওই অতীতের তদন্ত করে কাউকে ফাঁসি কাষ্টে ঝুলিয়ে আমার
লাভ নাই, আমাকে আমার মানুষকে বাঁচাতে হবে, আমার শিশুদের বাঁচাতে হবে। অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি
এখন পর্যন্ত করতে চাচ্ছি না।”
হটস্পট এলাকা
ও উদ্বোধনী সূচি
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে,
৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বর্তমানে ২৭৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে, যার
মধ্যে ২২৪ জনই শিশু। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তালিকায় রয়েছে ঢাকার নবাবগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর
সদর, পাবনা পৌরসভা ও সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, চাদঁপুরের হাইমচর, মাদারীপুর
সদর এবং মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও শ্রীনগরসহ বেশ কিছু এলাকা।
এই কার্যক্রম একযোগে
বিভিন্ন স্থানে উদ্বোধন হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে নবাবগঞ্জে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে
এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী পাবনায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য
প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬
দেশে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল ৯টা থেকে দেশের ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও পৌর এলাকায় শুরু হচ্ছে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম। প্রথম ধাপে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে এই বিশেষ টিকার আওতায় আনা হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিশু আগে নিয়মিত টিকা নিয়ে থাকলেও তাকে পুনরায় এই বিশেষ টিকা নিতে হবে। সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
শনিবার সচিবালয়ে
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান,
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এবং জাতীয় টিকাদান বিষয়ক কারিগরি পরামর্শক
কমিটির (এনআইটিএজি) সুপারিশক্রমে এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন,
“এই কার্যক্রমটি একটি সমন্বিত প্রতিরোধ পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ
করা এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।”
লক্ষ্যমাত্রা
ও কর্মপরিকল্পনা: ‘সবাই পাবে টিকা’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সাখাওয়াত হোসেন টিকাদান কর্মসূচির পরিধি ব্যাখ্যা করে বলেন, “ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস মানে
পাঁচ বছরের চাইতে এক মাস কম, এই গ্রুপটাকে আমরা কালকে থেকে শুরু করছি। এটাকে আমরা ফাস্ট
কাভার করতে চাচ্ছি সারাদেশে।”
তিনি আরও স্পষ্ট
করেন, এটি কেবল শুরু। মন্ত্রী বলেন, “এই ৩০টা উপজেলা শুরু করা মানে আমাদের কার্যক্রম
শেষ না। আমরা এটাকে যেহেতু এখানে প্রবল আকার ধারণ করেছে, নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাকিগুলিতে
আমরা কাজে অগ্রসর হব। ইনশাআল্লাহ, কোনোটাই থেমে থাকবো না।”
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ
থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০টি ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় এই কার্যক্রম
চলবে এবং পরবর্তীতে মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির ভিত্তিতে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে। এই বিশেষ
জরুরি কার্যক্রম আগামী ২১ মে’র মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অসুস্থদের জন্য
ভিন্ন নির্দেশনা ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল
টিকাদান কর্মসূচির
পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিশেষ পুষ্টি সহায়তার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের চিকিৎসার অংশ হিসেবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল
দেওয়া হবে। তবে সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে নিয়মটি আলাদা।
মন্ত্রী এ বিষয়ে
সতর্কতা দিয়ে বলেন, “যাদের মিসেলস হয়েছে তাদেরকে আমরা সাথে সাথে ভিটামিন এ দেব। ভিটামিন
‘এ’ প্রত্যেক হসপিটালে, যেখানে রোগী আছে এটা খাইয়ে দেওয়া হবে এই আমাদের এই কর্মসূচির
ভিতরে। কিন্তু মনে রাখবেন সুস্থ যাদের টিকা দেওয়া হচ্ছে, তাদেরকে কিন্তু ভিটামিন ‘এ’
দেওয়া হবে না।”
তিনি পুনরায় জোর
দিয়ে বলেন, যারা বর্তমানে অসুস্থ বা যাদের মধ্যে হামের উপসর্গ রয়েছে, তাদের সুস্থ হওয়ার
পর টিকা নিতে হবে। মন্ত্রীর ভাষায়, “৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে নির্ধারিত টিকাদান
কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তবে যে সব শিশুর জ্বর আছে
বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদেরকে এই সময় টিকা দেওয়া হবে না। তারা সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার
পর টিকা গ্রহণ করবে।”
টিকাদান কেন্দ্রের
অবস্থান ও প্রচার
সকাল ৯টা থেকে বিকাল
৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে টিকাদান চলবে। স্থানীয় সিভিল সার্জন অফিস থেকে মাইকিং ও প্রচারণার
মাধ্যমে টিকাকেন্দ্রের সঠিক অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ওটা
তো স্থানীয় ভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে কোন জায়গায় দেবে। আমি আপনাদেরকে স্পটগুলি বললাম ঢাকার
নবাগঞ্জে কোথায় হবে সিভিল সার্জন ‘অ্যারেঞ্জিং মাইকিং’ করা হবে, ওখানে জানিয়ে দেবেন,
অমুক জায়গায় টিকা দেওয়া হবে, বাচ্চাদের নিয়ে আপনারা আসেন।” এছাড়া স্কুল, মাদ্রাসা,
শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
টিকা নিয়ে সংশয়
দূর করে মন্ত্রী বলেন, “ছয় মাস থেকে ৫৯ মাসের ভেতরে যারা আছে, আগে পাক বা না পাক, সবাই
পাবে। এই টিকাটা নিলে পরে কোনো ক্ষতি হয় না, এটা আমাদেরকে তারা বলেছেন। কাজেই এটা নিয়ে
চিন্তা করা তো কোনো ক্ষতি হয় নাই, ‘সাইড রিঅ্যাকশন’ নাই, কাজেই টিকাটা দেওয়া যায়, আমরা
দিয়ে যাব।”
‘আতঙ্কিত হবেন
না’: দেশবাসীর প্রতি আহ্বান
সংবাদ ব্রিফিংয়ে
গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারাই কিন্তু বাঁচাইতেও পারেন,
আপনারা কনফিউজও করাতে পারেন। আপনারা একটা মেসেজ দেবেন, আমরা কিন্তু আপ্রাণ চেষ্টা করছি
মৃত্যুহার কমিয়ে আনতে। ইনশাআল্লাহ এখন টিকাদান কর্মসূচিতে চলে যাচ্ছি, আশা করি আমরা
পুরো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেব।” তিনি করোনার সফল মোকাবিলার উদাহরণ টেনে বলেন, জাতি যেন
আতঙ্কিত না হয়। আমাদের চিকিৎসকরা নিরলস পরিশ্রম করছেন। সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং
ব্যবহৃত টিকা শতভাগ নিরাপদ।
বিফ্রিংয়ে উপস্থিত
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জিয়া হায়দার বলেন, দেশে সর্বশেষ ২০২০-২১ সালে বড় ধরনের ক্যাম্পেইন
হয়েছিল। ফলে এরপর জন্ম নেওয়া শিশুরা এবারই প্রথম বড় কোনো ক্যাম্পেইনের আওতায় আসছে,
যা তাদের ইমিউনিটি বাড়াতে সহায়ক হবে।
হাসপাতালের সক্ষমতা
ও তদন্ত প্রসঙ্গে
শিশু হাসপাতালে
আইসিইউ সংকট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ রোগীর চাপ বাড়ায় বিদ্যমান
আইসিইউগুলো পূর্ণ হয়ে আছে। তবে সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই। তিনি বলেন, “আইসিইউ তো ডেইলি
বাড়ানো যায় না। আমাদের যে আইসিইউ সক্ষমতা আছে সেটা ভরে গিয়েছে। আজকে ৬১ জন রোগী ভর্তি
হয়েছে। এর মধ্যে যদি কারো আইসিইউর প্রয়োজন পড়ে, আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করার জন্য বসে
আছি এবং ইনশাল্লাহ ব্যবস্থা করব।”
২০২৫ সালে টিকাদান
কর্মসূচি কেন কমেছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী অতীতের চেয়ে বর্তমানকে গুরুত্ব দিয়ে
বলেন, “আমরা এখন কাজ করতে চাই। ওই অতীতের তদন্ত করে কাউকে ফাঁসি কাষ্টে ঝুলিয়ে আমার
লাভ নাই, আমাকে আমার মানুষকে বাঁচাতে হবে, আমার শিশুদের বাঁচাতে হবে। অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি
এখন পর্যন্ত করতে চাচ্ছি না।”
হটস্পট এলাকা
ও উদ্বোধনী সূচি
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে,
৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বর্তমানে ২৭৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে, যার
মধ্যে ২২৪ জনই শিশু। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তালিকায় রয়েছে ঢাকার নবাবগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর
সদর, পাবনা পৌরসভা ও সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, চাদঁপুরের হাইমচর, মাদারীপুর
সদর এবং মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও শ্রীনগরসহ বেশ কিছু এলাকা।
এই কার্যক্রম একযোগে
বিভিন্ন স্থানে উদ্বোধন হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে নবাবগঞ্জে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে
এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী পাবনায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য
প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন