সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

নতুন সূচিতে ব্যাংক লেনদেন শুরু: সহায়তার আশ্বাস ব্যাংকারদের


রেজাউল করিম
রেজাউল করিম
প্রকাশ: ৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

নতুন সূচিতে ব্যাংক লেনদেন শুরু: সহায়তার আশ্বাস ব্যাংকারদের

জ্বালানি সাশ্রয় ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্ধারিত নতুন সময়সূচী অনুযায়ী আজ রোববার থেকে দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই রাজধানীর প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আগের দিনের মতোই সকাল সাড়ে নয়টার পর থেকে ধীরে ধীরে জমতে শুরু করে ব্যাংকপাড়া। বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সময়মতো অফিসে প্রবেশ করছেন, কেউ দ্রুত পায়ে ভেতরে ঢুকছেন, আবার কেউ প্রবেশের গেটে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, মতিঝিলের সড়কগুলোতে সকাল থেকেই ছিল স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য। অফিসমুখী মানুষের ভিড় থাকলেও ব্যাংকের সামনে তেমন কোনো বিশৃঙ্খলা বা অতিরিক্ত চাপ চোখে পড়েনি। ব্যাংকের প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মীরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন এবং গ্রাহকদের প্রবেশে সহায়তা করছেন। নতুন সময়সূচীর কারণে অনেক গ্রাহক কিছুটা আগেভাগেই এসে অবস্থান নেন, তবে লেনদেন শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাদের।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকেও একই চিত্র। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা সকাল সাড়ে নয়টার পর থেকে অফিসে প্রবেশ করতে শুরু করেন এবং নতুন সময়সূচী অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সময়সূচীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সকাল ১০টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় লেনদেন কার্যক্রম। তবে প্রথম দিন হওয়া সত্ত্বেও ব্যাংকগুলোতে উল্লেখযোগ্য ভিড় দেখা যায়নি। গ্রাহকরা তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করছেন। কাউন্টারে চাপ কম থাকায় দ্রুত সেবা দিতে পারছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অনেক গ্রাহকই নতুন সময়সূচী সম্পর্কে অবগত হয়ে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে আসায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি।

মতিঝিলে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক যেমন সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, কৃষি ব্যাংকসহ বেসরকারি ব্যাংকগুলোও একই সময়সূচী মেনে লেনদেন শুরু করেছে। প্রতিটি ব্যাংকের ভেতরে কর্মীরা নিজ নিজ দায়িত্বে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও বড় ধরনের কোনো সমস্যা বা বিশৃঙ্খলার চিত্র দেখা যায়নি।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, নতুন সময়সূচীতে কাজ করতে বড় ধরনের সমস্যার আশঙ্কা নেই। বরং দেশের স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। একাধিক ব্যাংকার বলেন, ‘নতুন সময়সূচীতে সামান্য কিছু সমস্যা হলেও আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। বৈশ্বিক এই পরিস্থিতি কেটে গেলে সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা আমরা যথাযথভাবে পালন করবো।’

সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দা মোনোয়ারা খাতুন সংবাদকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ইতোমধ্যেই আমাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করছি বড় কোনো সমস্যা হবে না। সামান্য সমস্যা হলেও আমরা সরকারকে সহযোগিতা করবো।’

জনতা ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অব ব্রাঞ্চ মো. আব্দুস সালাম সংবাদকে বলেন, ‘আমরা জ্বালানি মূলত আমদানি নির্ভর। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সরকার সময়সূচী পরিবর্তনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সময়োপযোগী। ব্যাংক খাতেও এর বাস্তবায়ন হচ্ছে। আমি মনে করি, এতে বড় কোনো সমস্যা হবে না। মানুষ যখন জানবে যে লেনদেনের সময় এক ঘণ্টা আগে শেষ হবে, তখন তারা সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে আসবে। দৈনন্দিন কার্যক্রমে যদি আমরা জ্বালানি সাশ্রয় করতে পারি, তাহলে তা দেশের জন্যই কল্যাণকর হবে।’

 

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬


নতুন সূচিতে ব্যাংক লেনদেন শুরু: সহায়তার আশ্বাস ব্যাংকারদের

প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জ্বালানি সাশ্রয় ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্ধারিত নতুন সময়সূচী অনুযায়ী আজ রোববার থেকে দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই রাজধানীর প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আগের দিনের মতোই সকাল সাড়ে নয়টার পর থেকে ধীরে ধীরে জমতে শুরু করে ব্যাংকপাড়া। বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সময়মতো অফিসে প্রবেশ করছেন, কেউ দ্রুত পায়ে ভেতরে ঢুকছেন, আবার কেউ প্রবেশের গেটে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, মতিঝিলের সড়কগুলোতে সকাল থেকেই ছিল স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য। অফিসমুখী মানুষের ভিড় থাকলেও ব্যাংকের সামনে তেমন কোনো বিশৃঙ্খলা বা অতিরিক্ত চাপ চোখে পড়েনি। ব্যাংকের প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মীরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন এবং গ্রাহকদের প্রবেশে সহায়তা করছেন। নতুন সময়সূচীর কারণে অনেক গ্রাহক কিছুটা আগেভাগেই এসে অবস্থান নেন, তবে লেনদেন শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাদের।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকেও একই চিত্র। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা সকাল সাড়ে নয়টার পর থেকে অফিসে প্রবেশ করতে শুরু করেন এবং নতুন সময়সূচী অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সময়সূচীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সকাল ১০টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় লেনদেন কার্যক্রম। তবে প্রথম দিন হওয়া সত্ত্বেও ব্যাংকগুলোতে উল্লেখযোগ্য ভিড় দেখা যায়নি। গ্রাহকরা তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করছেন। কাউন্টারে চাপ কম থাকায় দ্রুত সেবা দিতে পারছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অনেক গ্রাহকই নতুন সময়সূচী সম্পর্কে অবগত হয়ে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে আসায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি।

মতিঝিলে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক যেমন সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, কৃষি ব্যাংকসহ বেসরকারি ব্যাংকগুলোও একই সময়সূচী মেনে লেনদেন শুরু করেছে। প্রতিটি ব্যাংকের ভেতরে কর্মীরা নিজ নিজ দায়িত্বে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও বড় ধরনের কোনো সমস্যা বা বিশৃঙ্খলার চিত্র দেখা যায়নি।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, নতুন সময়সূচীতে কাজ করতে বড় ধরনের সমস্যার আশঙ্কা নেই। বরং দেশের স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। একাধিক ব্যাংকার বলেন, ‘নতুন সময়সূচীতে সামান্য কিছু সমস্যা হলেও আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। বৈশ্বিক এই পরিস্থিতি কেটে গেলে সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা আমরা যথাযথভাবে পালন করবো।’

সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দা মোনোয়ারা খাতুন সংবাদকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ইতোমধ্যেই আমাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করছি বড় কোনো সমস্যা হবে না। সামান্য সমস্যা হলেও আমরা সরকারকে সহযোগিতা করবো।’

জনতা ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অব ব্রাঞ্চ মো. আব্দুস সালাম সংবাদকে বলেন, ‘আমরা জ্বালানি মূলত আমদানি নির্ভর। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সরকার সময়সূচী পরিবর্তনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সময়োপযোগী। ব্যাংক খাতেও এর বাস্তবায়ন হচ্ছে। আমি মনে করি, এতে বড় কোনো সমস্যা হবে না। মানুষ যখন জানবে যে লেনদেনের সময় এক ঘণ্টা আগে শেষ হবে, তখন তারা সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে আসবে। দৈনন্দিন কার্যক্রমে যদি আমরা জ্বালানি সাশ্রয় করতে পারি, তাহলে তা দেশের জন্যই কল্যাণকর হবে।’

 

 


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত