নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোরে চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ বলয়ে প্রবেশ করেছেন। তারা এখন ইতিহাসের সবচেয়ে দূরবর্তী মানব অভিযাত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছেন।
গত সপ্তাহে ফ্লোরিডা থেকে ওরিয়ন ক্যাপসুলে উৎক্ষেপণের পর সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫ মিনিট) তারা পৃথিবী থেকে প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করবেন। যা ৫৬ বছর আগে অ্যাপোলো ১৩ ক্রুর স্থাপিত রেকর্ডের চেয়ে ৪ হাজার ১০২ মাইল বেশি।
এই দূরত্ব রেকর্ড অর্জনের সময় নভোচারীরা চাঁদের দূরপার্শ্ব প্রদক্ষিণ করবেন। চাঁদের অন্ধকার পৃষ্ঠের প্রায় ৪ হাজার মাইল ওপর থেকে তারা পৃথিবী দেখতে পাবেন- যা দূর থেকে একটি বাস্কেটবলের সমান দেখাবে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে চাঁদ অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘লুনার ফ্লাইবাই’। প্রায় ছয় ঘণ্টা স্থায়ী এই পর্বে নভোচারীরা চাঁদের ছায়া ও পৃথিবীর সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকবেন।
এই সময় তারা পেশাদার ক্যামেরায় চাঁদের বিস্তারিত ছবি তুলবেন। বিজ্ঞানীদের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সূর্যের আলো চাঁদের প্রান্ত দিয়ে ফিল্টার হয়ে আসার দৃশ্য থেকে লুনার ইক্লিপ্সের মতো বিরল বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
ওরিয়ন ক্যাপসুল চাঁদের অপর পাশ থেকে বেরিয়ে আসার সময় নভোচারীরা আরেকটি বিরল দৃশ্য দেখতে পাবেন- চাঁদের দিগন্ত থেকে পৃথিবী উদিত হবে। যা হবে পৃথিবী থেকে দেখা চাঁদ উদয়ের ঠিক উল্টো চিত্র।
প্রায় ১০ দিনের এই মিশনের মূল লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানব অবতরণের পথ প্রস্তুত করা। নাসা চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা করছে, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের প্রমাণক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে।
হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে ডজনখানেক চাঁদ বিজ্ঞানী নভোচারীদের বর্ণনা শোনার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। আর পৃথিবীবাসী অপেক্ষায় আছে ইতিহাস গড়া এই অভিযানের পরবর্তী মুহূর্তের জন্য। সূত্র: রয়টার্স

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোরে চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ বলয়ে প্রবেশ করেছেন। তারা এখন ইতিহাসের সবচেয়ে দূরবর্তী মানব অভিযাত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছেন।
গত সপ্তাহে ফ্লোরিডা থেকে ওরিয়ন ক্যাপসুলে উৎক্ষেপণের পর সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫ মিনিট) তারা পৃথিবী থেকে প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করবেন। যা ৫৬ বছর আগে অ্যাপোলো ১৩ ক্রুর স্থাপিত রেকর্ডের চেয়ে ৪ হাজার ১০২ মাইল বেশি।
এই দূরত্ব রেকর্ড অর্জনের সময় নভোচারীরা চাঁদের দূরপার্শ্ব প্রদক্ষিণ করবেন। চাঁদের অন্ধকার পৃষ্ঠের প্রায় ৪ হাজার মাইল ওপর থেকে তারা পৃথিবী দেখতে পাবেন- যা দূর থেকে একটি বাস্কেটবলের সমান দেখাবে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে চাঁদ অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘লুনার ফ্লাইবাই’। প্রায় ছয় ঘণ্টা স্থায়ী এই পর্বে নভোচারীরা চাঁদের ছায়া ও পৃথিবীর সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকবেন।
এই সময় তারা পেশাদার ক্যামেরায় চাঁদের বিস্তারিত ছবি তুলবেন। বিজ্ঞানীদের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সূর্যের আলো চাঁদের প্রান্ত দিয়ে ফিল্টার হয়ে আসার দৃশ্য থেকে লুনার ইক্লিপ্সের মতো বিরল বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
ওরিয়ন ক্যাপসুল চাঁদের অপর পাশ থেকে বেরিয়ে আসার সময় নভোচারীরা আরেকটি বিরল দৃশ্য দেখতে পাবেন- চাঁদের দিগন্ত থেকে পৃথিবী উদিত হবে। যা হবে পৃথিবী থেকে দেখা চাঁদ উদয়ের ঠিক উল্টো চিত্র।
প্রায় ১০ দিনের এই মিশনের মূল লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানব অবতরণের পথ প্রস্তুত করা। নাসা চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা করছে, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের প্রমাণক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে।
হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে ডজনখানেক চাঁদ বিজ্ঞানী নভোচারীদের বর্ণনা শোনার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। আর পৃথিবীবাসী অপেক্ষায় আছে ইতিহাস গড়া এই অভিযানের পরবর্তী মুহূর্তের জন্য। সূত্র: রয়টার্স

আপনার মতামত লিখুন