সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

এক দশকে মেলেনি বিচার

তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর বড় মোড়


প্রকাশ: ৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর বড় মোড়

  • সন্দেহভাজন ৩ সেনাসদস্যের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ
  • এবার আদালতের কঠোর আদেশে নতুন আশা

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১০ বছর পর মামলায় নতুন মোড় সৃষ্টি হয়েছে। আলোচিত এই হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে এবার সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত।

সোমবার কুমিল্লার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হক এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই সদর দপ্তরের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম আদালতে হাজির হয়ে মামলার অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করলে বিচারক এই সিদ্ধান্ত জানান।

তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি আদালত থেকে মামলার অগ্রগতি জানতে চেয়ে পিবিআইকে চিঠি দেওয়া হয়েছিলো। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আজ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। আদালত তা পর্যালোচনা করে তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে তনুর ব্যবহৃত কাপড় থেকে যে তিন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গিয়েছিলো, তা দীর্ঘ সময়েও কারও সঙ্গে মেলানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সন্দেহভাজন যে তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গেছেন। তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে আদালতকে নিয়মিত অবহিত করার জন্য পিবিআইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও বিচার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে থাকাকালীন বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি তনু হত্যার বিচার করবেন। আমি এখন তার সঙ্গে দেখা করে মেয়ে হত্যার বিচার চাইবো। দেশে সব হত্যার বিচার হলেও আমার তনু হত্যার বিচার কেন হবে না?"

সন্তানের বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে ক্লান্ত এই বাবা চরম হতাশা ব্যক্ত করে আরও বলেন, "গত ১০ বছর ধরে বিচারের আশায় তনুর মাকে নিয়ে যে যেখানে বলেছে ছুটে গিয়েছি। এখন আর পারছি না। এক মাসের মধ্যে মেয়ের হত্যার বিচার না পেলে আমি আত্মহত্যা করবো। জীবন রেখে আর কী লাভ!"

এর আগে, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে রাতে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের কাছের একটি জঙ্গল থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় পরদিন অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন ইয়ার হোসেন। দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশ, ডিবি সিআইডি মামলাটি তদন্ত করলেও কোনো কিনারা করতে পারেনি। ২০২০ সালে মামলাটি পিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার পর বর্তমানে ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন তরিকুল ইসলাম।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬


তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর বড় মোড়

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

  • সন্দেহভাজন ৩ সেনাসদস্যের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ
  • এবার আদালতের কঠোর আদেশে নতুন আশা

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১০ বছর পর মামলায় নতুন মোড় সৃষ্টি হয়েছে। আলোচিত এই হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে এবার সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত।

সোমবার কুমিল্লার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হক এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই সদর দপ্তরের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম আদালতে হাজির হয়ে মামলার অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করলে বিচারক এই সিদ্ধান্ত জানান।

তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি আদালত থেকে মামলার অগ্রগতি জানতে চেয়ে পিবিআইকে চিঠি দেওয়া হয়েছিলো। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আজ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। আদালত তা পর্যালোচনা করে তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে তনুর ব্যবহৃত কাপড় থেকে যে তিন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গিয়েছিলো, তা দীর্ঘ সময়েও কারও সঙ্গে মেলানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সন্দেহভাজন যে তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গেছেন। তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে আদালতকে নিয়মিত অবহিত করার জন্য পিবিআইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও বিচার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে থাকাকালীন বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি তনু হত্যার বিচার করবেন। আমি এখন তার সঙ্গে দেখা করে মেয়ে হত্যার বিচার চাইবো। দেশে সব হত্যার বিচার হলেও আমার তনু হত্যার বিচার কেন হবে না?"

সন্তানের বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে ক্লান্ত এই বাবা চরম হতাশা ব্যক্ত করে আরও বলেন, "গত ১০ বছর ধরে বিচারের আশায় তনুর মাকে নিয়ে যে যেখানে বলেছে ছুটে গিয়েছি। এখন আর পারছি না। এক মাসের মধ্যে মেয়ের হত্যার বিচার না পেলে আমি আত্মহত্যা করবো। জীবন রেখে আর কী লাভ!"

এর আগে, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে রাতে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের কাছের একটি জঙ্গল থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় পরদিন অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন ইয়ার হোসেন। দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশ, ডিবি সিআইডি মামলাটি তদন্ত করলেও কোনো কিনারা করতে পারেনি। ২০২০ সালে মামলাটি পিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার পর বর্তমানে ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন তরিকুল ইসলাম।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত