সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রাবিতে শিশির-ফুয়াদকে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন


রাবি প্রতিনিধি
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

রাবিতে শিশির-ফুয়াদকে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন
রাবিতে শিশির-ফুয়াদকে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন

জামায়েত নেতা ও আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির ও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে আলোচক করে গণভোট বিষয়ক সভার আয়োজন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ( রাকসু)। সেই আয়োজনে তাদের অতিথি হিসেবে আনার প্রতিবাদে সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেছে রাবির একদল শিক্ষার্থী। 

আলোচকদের ‘মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী’, ‘আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের আইনজীবী’ উল্লেখ করে লালকার্ড প্রদর্শন কর্মসূচির ডাক দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।  তার অংশ হিসেবে আলোচকরা মঞ্চে উঠার আগে তাদের উদ্দেশ্যে স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

রাকসু সূত্রে জানা গেছে, রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য বিভাগ আয়োজিত ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সংকটের পথে দেশ’ শীর্ষক সেমিনারে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির ও ব্যারিস্টার ফুয়াদ। তবে এই আয়োজন সম্পর্কে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিনসহ অনেক সম্পাদকরাই জানেন না বলে দাবি করেছেন। 

এ ছাড়াও জামায়েত ও এবি পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে আয়োজিত এই সভার ভেন্যু সিনেট ভবন নির্ধারণে প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরের খোলা জায়গায় সেমিনারটি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় রাকসু। 

লাল কার্ড প্রদর্শনকালে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়েছেন শিশির মনির। তিনি ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের দোসর। ড. জোহা স্যারের এই পবিত্র ক্যাম্পাসে আমরা কোনো খুনের দোসরকে গ্রহণ করতে পারি না।’ এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এসময় তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

এদিকে, তাদের কর্মসূচির প্রতিবাদের নিজের বক্তব্যে প্রতিবাদ জানিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘লাল কার্ড কাকে দেখাতে হবে সেই বুদ্ধি আপনাদের এখনও হয়নি। যারা সংবিধানের নামে দেশ বিক্রি করছে, তাদের লাল কার্ড দেখান। আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশ গড়তে চাই, সেখানে আপনারা কোন পক্ষে? আজাদীর পক্ষে নাকি গোলামীর? জনগণের এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তরুণরা ঘরে ফিরবে না।’

সেমিনারে গণভোটের ফলাফল নিয়ে আলোচনায় আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘গণভোটের ভিত্তিতে পার্লামেন্ট গঠিত হয়েছে। তবে, পার্লামেন্ট গঠনের পর যারা সংস্কারের দায়িত্বে ছিলেন, নির্বাচনের পর তারা আমাদের সঙ্গে পল্টি মেরেছেন। নির্বাচনের আগে আমরা সবাই একমত হলাম যে সংবিধানের ভিতর থেকে সমাধান বের করে সংস্কার করতে হবে। রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেলেন, কিন্তু এখন তারা বলছেন রাষ্ট্রপতি একটি “অশ্বডিম্ব” পেরেছেন। কিন্তু অশ্বডিম্ব এখন গণভোটে রূপান্তরিত হয়েছে। গণভোটে পাঁচ কোটি মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, যা প্রায় সত্তর শতাংশ জনগণের সমর্থন নির্দেশ করে। যারা জনতার সংস্কারকে অস্বীকার করছেন, তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনীতি থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।’

সেমিনারে রাকসু ভিপি, কয়েকজন সম্পাদক ও সদস্যসহ দুই শতাধিক শিবির নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এসময় রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন না। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬


রাবিতে শিশির-ফুয়াদকে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জামায়েত নেতা ও আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির ও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে আলোচক করে গণভোট বিষয়ক সভার আয়োজন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ( রাকসু)। সেই আয়োজনে তাদের অতিথি হিসেবে আনার প্রতিবাদে সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেছে রাবির একদল শিক্ষার্থী। 

আলোচকদের ‘মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী’, ‘আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের আইনজীবী’ উল্লেখ করে লালকার্ড প্রদর্শন কর্মসূচির ডাক দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।  তার অংশ হিসেবে আলোচকরা মঞ্চে উঠার আগে তাদের উদ্দেশ্যে স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

রাকসু সূত্রে জানা গেছে, রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য বিভাগ আয়োজিত ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সংকটের পথে দেশ’ শীর্ষক সেমিনারে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির ও ব্যারিস্টার ফুয়াদ। তবে এই আয়োজন সম্পর্কে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিনসহ অনেক সম্পাদকরাই জানেন না বলে দাবি করেছেন। 

এ ছাড়াও জামায়েত ও এবি পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে আয়োজিত এই সভার ভেন্যু সিনেট ভবন নির্ধারণে প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরের খোলা জায়গায় সেমিনারটি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় রাকসু। 

লাল কার্ড প্রদর্শনকালে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়েছেন শিশির মনির। তিনি ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের দোসর। ড. জোহা স্যারের এই পবিত্র ক্যাম্পাসে আমরা কোনো খুনের দোসরকে গ্রহণ করতে পারি না।’ এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এসময় তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

এদিকে, তাদের কর্মসূচির প্রতিবাদের নিজের বক্তব্যে প্রতিবাদ জানিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘লাল কার্ড কাকে দেখাতে হবে সেই বুদ্ধি আপনাদের এখনও হয়নি। যারা সংবিধানের নামে দেশ বিক্রি করছে, তাদের লাল কার্ড দেখান। আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশ গড়তে চাই, সেখানে আপনারা কোন পক্ষে? আজাদীর পক্ষে নাকি গোলামীর? জনগণের এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তরুণরা ঘরে ফিরবে না।’

সেমিনারে গণভোটের ফলাফল নিয়ে আলোচনায় আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘গণভোটের ভিত্তিতে পার্লামেন্ট গঠিত হয়েছে। তবে, পার্লামেন্ট গঠনের পর যারা সংস্কারের দায়িত্বে ছিলেন, নির্বাচনের পর তারা আমাদের সঙ্গে পল্টি মেরেছেন। নির্বাচনের আগে আমরা সবাই একমত হলাম যে সংবিধানের ভিতর থেকে সমাধান বের করে সংস্কার করতে হবে। রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেলেন, কিন্তু এখন তারা বলছেন রাষ্ট্রপতি একটি “অশ্বডিম্ব” পেরেছেন। কিন্তু অশ্বডিম্ব এখন গণভোটে রূপান্তরিত হয়েছে। গণভোটে পাঁচ কোটি মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, যা প্রায় সত্তর শতাংশ জনগণের সমর্থন নির্দেশ করে। যারা জনতার সংস্কারকে অস্বীকার করছেন, তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনীতি থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।’

সেমিনারে রাকসু ভিপি, কয়েকজন সম্পাদক ও সদস্যসহ দুই শতাধিক শিবির নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এসময় রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন না। 


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত